সাম্প্রতিক কোনো সামাজিক প্রপঞ্চ অতীতে কেমন ছিল তা এবং বর্তমান সময়ের অবস্থা কী সেসব জেনে এর অতীত ও বর্তমানের মধ্যে একটি তুলনামূলক আলোচনাকেই তুলনামূলক পদ্ধতি বলা হয়।
সমাজ গবেষণার প্রথম স্তরটি হচ্ছে সমস্যা নির্বাচন।
দৈনন্দিন জীবনে যে সমস্ত ঘটনা বা বিষয় আমাদের কৌতূহলের উদ্রেক করে, আমরা সে সমস্ত বিষয় বা ঘটনার কার্য-কারণ সম্পর্ক সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হই। এক্ষেত্রে গবেষক অত্যন্ত সতর্কতার সাথে গবেষণার বিষয়টি নির্বাচন করেন। সমসাময়িক সমাজে সমস্যাটির পরিধি, গুরুত্ব, যৌক্তিকতা ইত্যাদি বিবেচনায় আনতে হয়। যেমন- মাদকাসক্তি, বাল্যবিবাহ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যৌতুক প্রথার প্রতি গ্রামবাসীর মনোভাব ইত্যাদি সমাজ গবেষণার বিষয় হতে পারে।
রুবিনার বাল্যবিবাহের সমস্যাটি নিয়ে গবেষণাকালে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির যে স্তরটিকে আমরা প্রথমেই অধিক গুরুত্ব দিব তা হলো সমস্যা প্রণয়ন।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রথম কাজ হলো গবেষণার জন্য বিষয় বা সমস্যা নির্বাচন করা। দৈনন্দিন জীবনে আমরা নানা ঘটনা প্রত্যক্ষ করি, নানা সমস্যার সম্মুখীন হই। যে সমস্ত ঘটনা আমাদের কৌতূহলের উদ্রেক করে, আমরা সে সমস্ত ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হই। আর এ সমস্ত ঘটনাবলিই গবেষণার উপযোগী। এক্ষেত্রে গবেষক সাধারণত সমাজবিজ্ঞানের আওতায় পড়ে শুধু এমন কোনো বিষয়কে গবেষণার জন্য নির্বাচন করে থাকে। এছাড়া সমসাময়িক সমাজে সমস্যাটির পরিধি, গুরুত্ব, যৌক্তিকতা বিবেচনায় আনতে হয়। যেমন- মাদকাসক্তি, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথার প্রতি গ্রামবাসীর মনোভাব ইত্যাদি এক একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে।
রুবিনার সমস্যাটি একটি সামাজিক সমস্যা। আর এ সমস্যার সমাধানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সমস্যা প্রণয়ন স্তরটিকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তারপর অন্যান্য স্তর অনুসরণ করতে হবে।
অতএব বলা যায়, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সমস্যা নির্বাচন স্তরটিকে আমরা প্রথমে গুরুত্ব দিব।
রুবিনার এলাকার বাল্যবিবাহ সম্পর্কে গবেষণায় আমরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির যে স্তরগুলো কার্যকর করতে পারি তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
সমস্যা প্রণয়ন: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রথম কাজ হলো গবেষণার জন্য সমস্যা নির্বাচন। দৈনন্দিন জীবনে নানা ঘটনার মধ্যে গ্রামীণ বাল্যবিবাহ একটি অন্যতম। এটিকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রথমে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করবে।
সমস্যার সংজ্ঞায়ন: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির দ্বিতীয় স্তরটি হলো সমস্যার সংজ্ঞায়ন। রুবিনার গ্রামে বাল্যবিবাহের হার বেশি বলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এই সমস্যার সংজ্ঞায়ন করবে। সমস্যাটিকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করবে।
অনুসিদ্ধান্ত প্রণয়ন: রুবিনার এলাকায় বাল্যবিবাহের হার বেশি বলে উক্ত সমস্যাটি সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসিদ্ধান্ত প্রণয়ন করবে যা একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ।
অনুসিদ্ধান্ত যাচাই: অনুসিদ্ধান্ত গঠন করার পর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বাল্যবিবাহ সম্পর্কে তথ্য যাচাই-বাছাই করবে। তথ্য সংগ্রহ করার পর গবেষককে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও যথার্থতা নিশ্চিত করতে হবে।
ভবিষ্যদ্বাণী: বুবিনার এলাকায় বাল্যবিবাহের হার বেশি এটা যদি তথ্য দ্বারা সমর্থিত হয় অথবা যথার্থ সাধারণীকরণ সম্ভব হয়, তাহলে ভবিষ্যদ্বাণী করা যেতে পারে।
আলোচনার শেষে বলা যায়, রুবিনার এলাকায় বাল্যবিবাহ সম্পর্কে গবেষণায় উপরের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির স্তরগুলো কার্যকর করা যাবে।
Related Question
View Allহার্বাট স্পেন্সার তার The Principles of Sociology' গ্রন্থে চার ধরনের সমাজের কথা উল্লেখ করেছেন।
গণমাধ্যম আধুনিককালে ব্যক্তির সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবন নিয়ন্ত্রণের এক শক্তিশালী মাধ্যম।
গণমাধ্যম বলতে বোঝানো হয় সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইত্যাদিকে। এসব মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ, বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান শিশুদেরকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। এর ফলে শিশু-কিশোররা নিজেদেরকে সমাজ-সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে চলতে শেখে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, বিজ্ঞানমনস্কতা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকশিত হয়।
উদ্দীপকের আশুর পঠিত বিষয়ের সাথে অর্থাৎ- সমাজবিজ্ঞানের সাথে বিজ্ঞানের ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে।
আমরা জানি, সমাজবিজ্ঞান ঠিক প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মতো নয়, তবে এটি গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের পদ্ধতি ও কলাকৌশল প্রয়োগ করে। বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য প্রজ্ঞা, ধীশক্তি, নির্দেশনা বা ধারণার জন্ম দেওয়া নয়, বরং জ্ঞানের উদ্ভাবন। সেদিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, সমাজবিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করে। এক্ষেত্রে প্রথমে গবেষণার বিষয় নির্ধারণ করা হয়। তারপর নির্ধারিত বিষয়ের ওপর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, সংগৃহীত তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস, অনুসিদ্ধান্ত প্রণয়ন এবং তা যাচাইয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয় এবং এর ভিত্তিতে একটি সাধারণ সূত্রে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা নেওয়া হয়। অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞান বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যবেক্ষণলব্ধ তথ্যসমূহের বিচার-বিশ্লেষণপূর্বক জ্ঞান অন্বেষণের প্রচেষ্টা চালায়। এদিক থেকে বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞান গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
উদ্দীপকের আশু বলে, সমাজের গতি-প্রকৃতি জানতে হলে একটি বিষয় অধ্যয়ন করতে হয় এবং এ বিষয়টি পদ্ধতিগত দিক থেকে বিজ্ঞানের মর্যাদা পেয়েছে। আশুর এ বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃতি ফুটে উঠেছে। আর সমাজবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক মিল বা সাদৃশ্য যা উপরের আলোচনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, আশুর পঠিত বিষয় সমাজবিজ্ঞানের সাথে বিজ্ঞানের মিল বা সম্পর্ক রয়েছে।
উদ্দীপকের আশুর বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা ফুটে উঠেছে।
সমাজবিজ্ঞান বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান দান করে। সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের সমাজ সম্পর্কে ধারণা লাভ করা প্রয়োজন। আর সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে এ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা যায়। সমাজের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার কারা কতটা এবং কীভাবে ভোগ করছে, আর কারাইবা সমাজের সম্পদ ও সুযোগ- সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তা সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে জানা যায়।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল ও কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের কৃষির বৈশিষ্ট্য, সম্পর্ক, কাঠামো ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান লাভের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নের সমস্যা দূরীকরণে সমাজবিজ্ঞান পথ নির্দেশ করে। বাংলাদেশে দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জন অসন্তোষ, সম্পদহীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য সমাধান সূত্র নির্ণয়ে সমাজবিজ্ঞান বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সমাজ যেহেতু প্রধানত স্তৱায়িত, তাই সমাজ উন্নয়নে কোন শ্রেণির বা অর্থনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর কী ভূমিকা থাকে তা নিয়ে সমাজবিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনা করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সমাজকে জানতে ও বুঝতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই। কারণ একমাত্র সমাজবিজ্ঞানই সমাজকে নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করে।
বিজ্ঞান শব্দের আভিধানিক অর্থ বিশেষ জ্ঞান।
যুক্তি বিকাশের ধারাবাহিকতায় মানুষের অগ্রসর চিন্তার ফসল হচ্ছে একেশ্বরবাদ।
যুক্তির ধারাবাহিকতায় বহু ঈশ্বরের ক্ষমতা একজন ঈশ্বরের ওপর আরোপ করা হয়। এখানে মনে করা হয়, সকল প্রাকৃতিক ও সামাজিক ঘটনার সর্বোচ্চ এবং সর্বশেষ পরিণতি হচ্ছে সর্বশক্তিমান একক সত্তা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!