রাখাইন শব্দের অর্থ রক্ষণশীল জাতি
কাতান শাড়ি বয়নে গর্ত তাঁত ব্যবহার করা হয়।
গর্ত তাঁতে শাড়ির নকশা তোলার কাজে জ্যাকার্ড ব্যবহার করা হয়। টানা ও বোনাতে রেশমি সুতা ও বুটির জন্য জরি ব্যবহৃত হয়। পাকানো রেশমি সুতার নাম কাতান। বেনারসি শাড়িতে পাকানো সুতা ব্যবহৃত হয় বলে এর অপর নাম কাতান শাড়ি।
রুবিনা চাকমা সম্প্রদায়ের অধিবাসী।
চাকমারা বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জাতি। তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় বাস করে। তাদের মুখমণ্ডল গোলাকার, নাক চ্যাপ্টা, চুল সোজা ও কালো এবং গায়ের রং ইষৎ হলদেটে। তারা পিতৃতান্ত্রিক সমাজের অধিকারী।
চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক-পরিচ্ছদ রয়েছে। চাকমা মহিলাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম 'পিনোন খাদি। তারা দেহের নিম্নাংশে কালো অথবা গাঢ় নীল রঙের যে কাপড় পরে সেটি পিনোন। তারা দেহের উপরের অংশে যে কাপড় বাঁধে তাকে 'খাদি' বলে। এটি নানা রঙের হয়। শালের মতো দেখতে সম্পূর্ণ ফুলে বোনা খাদিকে 'ফুল খাদি' বলে। বর্তমানে মহিলারা নানা রঙের পিনোন খাদি পরে। পিনোনের উপরে ও নিচে সমান্তরাল রেখার পাড় থাকে। পুরুষদের পোশাকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ধুতি, পাঞ্জাবি ও গামছা। নারী ও পুরুষ উভয়েই মাথায় কাপড় পেঁচিয়ে পরে। একে 'খবং' বলে। পুরুষেরা সাদা এবং মেয়েরা বিভিন্ন রঙের 'খবং' পরে। তবে এখন চাকমা পুরুষেরা শার্ট-প্যান্ট ও মহিলারা শাড়ি-ব্লাউজ পরে। রুবিনা তার মায়ের তৈরি 'খবং' নামক পোশাক পরে স্কুলের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসেছে। সুতরাং বলা যায়, রুবিনা চাকমা সম্প্রদায়ের অধিবাসী। তাদের পোশাক অত্যন বৈচিত্র্যময় ও ঐতিহ্যবাহী।
বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য বস্তের মধ্যে আছে মসলিন, জামদানি, টাঙ্গাইলের তাঁত, বন্দর, রাজশাহী সিল্ক ইত্যাদি। প্রতিটি বস্তু থেকেই তৈরি হয় আন্তবর্ণীয় ও নান্দনিক ডিজাইনের পোশাক। তবে প্রতিটি পোশাকেরই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইন, নকশা ও বৈশিষ্ট্য।
উদ্দীপকে বুমির পরিধিত শাড়ি যা অ্যামিতিক নকশার ঐতিহ্যবাষী শাড়ি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তা হলো জামদানি। এছাড়া রেশম গুটি থেকে তৈরি বস্তুটি হলো রাজশাহী সিল্ক। এ দুটি বস্ত্রেরই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, নকশা ও তৈরির নিয়মে ভিন্নতা রয়েছে।
জামদানি শাড়িকে মসলিনের উত্তরসূরি বলা হয়। মসলিন তৈরির মূল লক্ষণগুলো জামদানিতে বিদ্যমান। অন্যদিকে, সৌন্দর্য ও আভিজাত্যের জন্য সিল্ক বা রেশমকে তত্ত্বর রাণী বলা হয়। মুঘল আমল থেকে রাজশাহীতে রেশম চাষ শুরু হয়। সিল্ক কাপড়ের জন্য একসময় রাজশাহী 'সিল্ক নগরী' নামে পরিচিত ছিল। মসলিনের উপর নকশা করে জামদানি শাড়ি তৈরি করা হয়। উপাদান অনুযায়ী জামদানি শাড়ি দুই প্রকার। যথা: হাফ সিল্ক জামদানি এবং ফুল কটন জামদানি। হাফ সিল্ক এর আড়াআড়ি সুতাগুলো রেশমের আর লম্বালম্বি সুতাগুলো তুলার সুতায় তৈরি। ফুল কটনের জামদানি সম্পূর্ণ তুলার সুতায় তৈরি। জামদানি বিচিত্র নকশার কারণে বিখ্যাত। নকশাগুলোর বিভিন্ন নাম রয়েছে। নকশাভেদে শাড়ির পাড়ের নামও ভিন্ন হয়। সুদূর অতীত থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত জামদানি বহুল পরিচিত ও সমাদৃত। শাড়ি ছাড়াও জামদানি নকশা ওড়না, কামিজ, পাঞ্জাবি, চাদর ও দেয়ালসজ্জাতে লক্ষ করা যায়।
গুটিপোকা থেকে সিল্কের সুতা তৈরি হয়। এ সুতা আরও প্রক্রিয়াজাত করে বুনন কারখানায় যায়। সেখানেই বিভিন্ন ডিজাইনের সিল্কের পোশাক তৈরি করা হয়। রেশম বা সিল্ক কাপড়ের লাল গরদ শাড়ি, গরদের পাঞ্জাবি, মটকা শাড়ি ছাড়া বাঙালির বিয়ে-পার্বণ কল্পনা করা যেত না।
বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এখনও জামদানির চাহিদা রয়েছে। বর্তমান বাজারে জামদানির উচ্চমূল্য ও বিপুল চাহিদার কারণে এই শিল্পে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। অন্যদিকে শত সংকটে এখনও টিকে আছে রাজশাহী সিল্ক শাড়ি।
Related Question
View Allখাসিয়া মেয়েদের ব্যবহৃত পোশাকের নাম 'কাজিম পিন' ও 'জৈনসেম'।
মনিপুরিদের পোশাক-পরিচ্ছদ অতি সাধারণ।
মনিপুরিরা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি তাঁতে কাপড় তৈরি করে। মনিপুরি মেয়েরা যে পোশাক পরে তাতে দুটি অংশ থাকে। একটি অংশ হলো ব্লাউজ এবং অন্যটি লুঙ্গি। মেয়েরা বুক আবৃত করে লুঙ্গি পরে। এর সাথে ব্লাউজ পরে। একে 'নাগ পোশাক' বলে। সুতরাং বলা যায়, মনিপুরিদের পোশাকে দুটি অংশ থাকে।
উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত বস্তুটি হলো জামদানি।
জামদানি কার্পাস তুলা দিয়ে প্রস্তুত এক ধরনের পরিধেয় বস্ত্র। জামদানি বলতে সাধারণত শাড়িকেই বোঝানো হয়। তবে জামদানি দিয়ে নকশি ওড়না, কুর্তা, পাগড়ি, রুমাল, পর্দা প্রভৃতিও তৈরি করা হয়। উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত বস্ত্রটির বৈশিষ্ট্য হলো এটি মসলিনের উত্তরসূরি, যা জামদানিকেই নির্দেশ করে। কারণ প্রাচীনকালের মিহি মসলিন কাপড়ের উত্তরাধিকারি হিসেবে জামদানি অতি পরিচিত। পূর্বে জামদানি বস্ত্র তৈরিতে সুতি ও রেশম সুতা ব্যবহার হতো। কিন্তু বর্তমানে রেশম সুতার বদলে নাইলন এবং সুতি সুতা ব্যবহার করা হচ্ছে। সুতার সূক্ষ্মতার ওপর নির্ভর করে জামদানি বস্ত্রের মান ও গুণাগুণ। কেউ কেউ মনে করেন মুঘল আমলে ইরান, ইরাক থেকে মুসলিম ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় তাদের তৈরি কার্পেটের নকশাগুলো এ দেশে এসেছে। নকশাগুলো এ অঞ্চলের জামদানির কারিগর সম্প্রদায় বস্ত্র বয়নে ব্যবহার করেছে। জামদানি বয়নকারি তাঁতিরা পড়াশোনা জানতো না বলে তারা কার্পেটের নকশা কাগজে আঁকতে পারতো না। চারপাশের প্রাকৃতিক বস্তু থেকে ধারণা নিয়ে তারা নিজের মন থেকে সরাসরি কাপড়ে নকশা প্রয়োগ করতো।
ঐতিহাসিক পটভূমির দিক থেকে 'B' ও 'C' চিহ্নিত বস্ত্রের ভিন্নতা রয়েছে- উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকে 'B' চিহ্নিত বস্ত্রটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলা হয়েছে এটি তন্তুর রানি এবং কোকুন পোকা থেকে তৈরি, যা রাজশাহী সিল্কের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর 'C' চিহ্নিত বস্ত্রটির ক্ষেত্রে বলা হয়ে এটি স্বদেশি আন্দোলনের সাথে জড়িত, যা খদ্দর কাপড়কেই নির্দেশ করছে। রাজশাহী সিল্ক এবং খদ্দর বস্ত্রের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। খদ্দর কাপড় সস্তা ও সহজলভ্য। পাতলা ও মোটা উভয় ধরনের খদ্দরের কাপড় পাওয়া যায়। এটি আরামদায়ক। এ কাপড় শীত, গ্রীষ্ম উভয় ঋতুতে পরিধানযোগ্য। খদ্দর কাপড়ের উপর বাটিক ও ব্লক প্রিন্ট করে নানা ধরনের পোশাক ও গৃহে ব্যবহৃত অন্যান্য বস্ত্র তৈরি হচ্ছে। খদ্দর বস্ত্র দেশে ও বিদেশে সমানভাবে সমাদৃত। তাই ফ্যাশন সৃষ্টিতে খদ্দরের ভূমিকা অনন্য।গুটি পোকা থেকে তৈরি হয় সিল্কের সুতা। প্রথমে সাদা রঙের গুটি পোকা সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেই পোকাকে একটি নির্দিষ্ট ট্রেতে রেখে তাতে ছড়িয়ে দেওয়া হয় তুঁতগাছের পাতা। এই পাতা খেয়েই গুটি পোকা পূর্ণাঙ্গ দেহ অবয়ব পায়। পাতা খেতে খেতে এক সময় গুটি পোকা হলুদাভ রং ধারণ করে। তখন এটিকে আর পাতা খেতে দেয়া হয় না, রাখা হয় আলাদা ট্রেতে। সেখানে এটি পুরোপুরি হলুদ হয়ে শক্ত আকার ধারণ করে। তারপর এটিকে গরম পানিতে সিদ্ধ করে উপরের হলুদ খোসা সরিয়ে ফেলা হয়। বেরিয়ে আসে রেশম সুতার গুটি। এরপর ইলেকট্রিক চরকায় এ গুটি বসিয়ে বের করে নেওয়া হয় রেশম সুতা। এ সুতা আরও প্রক্রিয়াজাত করার পর চলে যায় বুনন কারখানায়। সেখানে শ্রমিকরা ডিজাইন মাফিক সুতা বসিয়ে তৈরি করেন শাড়িসহ রঙবেরঙের সিল্কের পোশাক।
রাখাইন শব্দের অর্থ রক্ষণশীল জাতি
কাতান শাড়ি বয়নে গর্ত তাঁত ব্যবহার করা হয়।
গর্ত তাঁতে শাড়ির নকশা তোলার কাজে জ্যাকার্ড ব্যবহার করা হয়। টানা ও বোনাতে রেশমি সুতা ও বুটির জন্য জরি ব্যবহৃত হয়। পাকানো রেশমি সুতার নাম কাতান। বেনারসি শাড়িতে পাকানো সুতা ব্যবহৃত হয় বলে এর অপর নাম কাতান শাড়ি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!