ফসল উৎপাদনের জন্য জমিতে কৃত্রিম উপায়ে পানি সরবরাহ করাই হলো সেচ।
নানা প্রকার আর্বজনা, উদ্ভিদ যেমন- আগাছা, কচুরিপানা, কসাইখানা, আবর্জনা, ধানের তুষ, আখের ছোবড়া, রান্নাঘরের আবর্জনা এবং প্রাণিজাত পচনশীল উচ্ছিষ্টাংশ নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পচিয়ে যে সার তৈরি করা হয় তাকে কম্পোস্ট সার বলা হয়।
i. পরিখা পদ্ধতি - পরিখা খনন করে আবর্জনা পচানো হয় এবং এভাবে কম্পোস্ট সার উৎপাদন করা হয়। ii. পাকা কাঠামো পদ্ধতি- পাকা কাঠামো তৈরি করে আবর্জনা পচিয়ে কম্পোস্ট সার উৎপাদন করা হয়।
উদ্দীপকের রুমি তার জমিতে লতাপাতা, খড়কুটা, রান্নার উচ্ছিষ্টাংশ দিয়ে জমি ঢেকে রাখেন যা মালচিংয়ের কাজ করে।
ভূমির উপরিতল ঢেকে রেখে মাটি ও রস অপসারন হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করাকে মালচিং বলা হয়। প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম মালচিং দ্বারা ভূমি সংরক্ষণ করা যায়। যেমন- মাটির উপরিস্তর সামান্য আলগা থাকলে এবং আইলগুলো উঁচু-নিচু থাকলে জমি সমতল হয়ে ভূমি সংরক্ষণ হয়। তবে কৃত্রিম পদ্ধতিতে মালচিং করা হলে ভূমি সংরক্ষণসহ উর্বরতা বৃদ্ধি পায়, রস ও মাটির তাপমাত্রা সংরক্ষণ হয়। কৃত্রিম মালচিং-এ দুই ধরনের পদার্থ ব্যবহার করা হয়। যথা- জৈব ও অজৈব। জৈব পদার্থ হচ্ছে খড়কুটা, আবর্জনা, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্টাংশ, কাঠের গুঁড়া, ছাই ইত্যাদি। আর অজৈব পদার্থ হচ্ছে কাঠের তক্তা, পলিথিন ইত্যাদি। জৈব পদার্থ দ্বারা মালচিং করলে পানির অনুপ্রবেশ ঘটে ও আর্দ্রতা সংরক্ষণ হয় যা ফসলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়া জৈব পদার্থ পচে ফসলের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান মাটিতে যোগ করে।
অতএব বলা যায়, জমিতে ফসলের উৎপাদনে মালচিং অন্যতম সহায়ক উপায়।
উদ্দীপকের রতন তার জমিতে বেশি পরিমানে সেচ ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করেন। এতে ফসলের ফলন কমে যায়।
অধিক উৎপাদনের জন্য জমিতে অতিরিক্ত পরিমাণ রাসায়নিক সার প্রয়োগ ঠিক নয়। এতে মৃত্তিকার জৈব পদার্থের পরিমাণ কমে গিয়ে পুষ্টি উপাদানের গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়। তাই শস্য উৎপাদনের আগে মাটির কোন পুষ্টি উপাদান কী পরিমানে আছে, শস্যের জীবনচক্র সম্পন্ন করতে কোন পুষ্টি উপাদান কী পরিমাণ দরকার তা ভালোমতো হিসাব করতে হয়। তারপর নিয়মমাফিক সার প্রয়োগ করতে হয়। জৈব পদার্থ উদ্ভিদের দরকারি পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। মাটির উর্বরতা রক্ষায় জমিতে প্রচুর পরিমাণে গোবর, পচা আবর্জনা, খৈল, সবুজ সার, হাড়ের গুঁড়া, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ইত্যাদি নিয়মিতভাবে প্রয়োগ করতে হয়। এতে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, লৌহ ইত্যাদি পুষ্টি উপাদান মাটিতে যুক্ত হয়। যার কারণে মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে মাটির গঠন ও গুণগত মান উন্নত হয়। মাটির পানিধারণ ক্ষমতা ও বায়ু চলাচল বৃদ্ধি পায়। ফলে মাটিস্থ অণুজীবগুলো ক্রিয়াশীল হয়। এতে মাটি উর্বর হয়। আবার অতিরিক্ত পানি ফসলের জন্য ক্ষতিকর। এতে মাটিস্থ বায়ু চলাচল কমে এবং গাছের খাদ্যোৎপাদন বিনষ্ট হয়। অতিরিক্ত বিষাক্ততায় গাছ মারাও যেতে পারে। তাই জমি থেকে অতিরিক্ত পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হয়। এজন্য জমিতে প্রয়োজনীয় গভীরতায় নালা কেটে পানি স্থানান্তরিত করতে হয়।
অতএব, উপরোক্ত উপায়সমূহ অবলম্বন করে রতন তার উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ পেতে পারেন।
Related Question
View Allযেসব ফসল সাধারণত বিস্তীর্ণ মাঠে বেড়াবিহীন অবস্থায় সমষ্টিগতভাবে পরিচর্যার মাধ্যমে চাষ এবং প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়া হয় সেগুলোকে মাঠ ফসল বলে।
উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও তথ্য নিয়ে মতবিনিময় হয়।
কৃষি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের ফলে কৃষকদের জ্ঞান ও তথ্য আরো সমৃদ্ধ হয়। মতবিনিময়ের ফলে কৃষকদের জ্ঞান এবং কাজের স্পৃহা বাড়ে। এ ছাড়া হঠাৎ সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার প্রতিকার ব্যবস্থা জানা যায়। তাই কৃষিতে উঠোন বৈঠকের প্রয়োজন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আফসার আলীর জমির মাটি কাদাযুক্ত এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এজন্য বলা যায়, জমির মাটি এঁটেল প্রকৃতির।
নিচে এঁটেল মাটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
i. এঁটেল মাটি ভারী মাটি নামে অভিহিত।
ii. এ মাটিতে কমপক্ষে ৩৫% বা তার বেশি কর্দম বা এঁটেল কণা থাকে।
iii. এ মাটিতে সূক্ষ্ম রন্দ্রের সংখ্যা খুব বেশি, তাই এর পানি ধারণ ক্ষমতা খুব বেশি, কিন্তু নিষ্কাশন ক্ষমতা কম।
iv. এ মাটির বায়ু ও পানি চলাচল ক্ষমতা কম।
V. এঁটেল মাটি আঙুলে ঘষলে ট্যালকম পাউডারের মতো পিচ্ছিল মনে হয়।
vi. এ মাটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সংযুক্তি (cohesion) খুব বেশি।
vii. আর্দ্র এঁটেল মাটি আঠালো ও চটচটে হয়, কিন্তু শুষ্ক অবস্থায় খুব শক্ত হয়। ফলে সহজে কর্ষণ করা যায় না।
viii. এ প্রকার মাটির ধনাত্মক আয়ন বিনিময় ক্ষমতা খুব বেশি। উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যাবলী থেকে এঁটেল মাটির প্রকৃতি জানা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট যা গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে অবস্থিত।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উচ্চ ফলনশীল এবং হাইব্রিড জাতের ধান উদ্ভাবন করে। এছাড়াও মৃত্তিকা, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, চাষাবাদ পদ্ধতি, পোকা-মাকড় ও রোগ দমন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মূল্যবান প্রযুক্তি ও কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করে। এদের উদ্ভাবিত জাতগুলো তুলনামূলকভাবে রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। আবার এসকল জাতের ফলন স্থানীয় জাতের ফলনের তুলনায় অনেক বেশি। উদ্ভাবিত জাতের মধ্যে বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল, সুগন্ধি ও বিদেশে রপ্তানি উপযোগী জাতও রয়েছে। এসকল জাতসমূহ কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করে তোলার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে, রয়েছে প্রদর্শনী প্লট ও মডেল কৃষক। এছাড়াও কৃষি তথ্য সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পুস্তিকা, ম্যানুয়াল, প্রতিবেদন, জার্নাল প্রভৃতি প্রকাশ করে। এ প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের উন্নত প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য মাঠ দিবসের আয়োজন এবং কৃষি উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। এসকল কার্যক্রমের ফলে কৃষকগণ সহজেই কৃষি সংশ্লিষ্ট তথ্য ও জ্ঞান লাভ করতে পারে। ফলে কৃষক মাঠ পর্যায়ে এসব জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অল্প খরচে ফসল উৎপাদন করে লাভবান হয়। সর্বোপরি ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উল্লিখিত কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করে।
অভিজ্ঞ 'কৃষক হলো একজন স্থানীয় নেতা ও কৃষকদের পরামর্শদাতা যিনি নিজ উৎসাহে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন ও নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন।
কোনো মাটিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H') ও হাইড্রোক্সিল আয়নের (OH) পরিমাণ সমান থাকলে তাকে নিরপেক্ষ মাটি বলে। নিরপেক্ষ বা প্রশম মাটির অম্লমান ৭। এই ধরনের মাটিতে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান সহজলভ্য থাকে বিধায় ফসল চাষে সর্বাধিক উপযোগী। নিরপেক্ষ মাটিতে জৈব পদার্থ সহজে বিয়োজিত হয়। নিরপেক্ষ মাটিতে বীজের অঙ্কুরোদগম ভালো হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!