পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তান অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হয়।
ছয় দফার মাধ্যমে বাঙালি জাতির মুক্তির পথ সূচিত হওয়ায় এটিকে ম্যাগনাকার্টা বলা হয়।
পূর্ব পাকিস্তানের শোষিত, নির্যাতিত জনগণ ছয় দফাকে মুক্তির সনদ রূপে আখ্যায়িত করে। পাকিস্তানি শোষকের হাত থেকে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক দাবি আদায়ের হাতিয়ার হচ্ছে ছয় দফা। ব্রিটিশ গণতন্ত্রের ইতিহাসে যেমন ম্যাগনাকার্টা অধিকার বিল, ঠিক তেমনি বাঙালিদের স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি হলো ছয় দফা। এ জন্য এটিকে ম্যাগনাকার্টা বলা হয়।
অনুচ্ছেদে উল্লিখিত নির্বাচনের সাথে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে যেমন কাশেম চৌধুরী শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া সত্ত্বেও ঐক্যজোটের কাছে পরাজিত হয়। একইভাবে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগও যুক্তফ্রন্টের নিকট বিপুল ভোটে পরাজিত হয়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মুসলিম লীগ ছিল সবচেয়ে বড়। পূর্ব পাকিস্তান সরকার পরিচালনা করত মুসলিম লীগ। কিন্তু মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক আচরণ ও দমননীতির কারণে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, নেজামে ইসলাম, পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস প্রভৃতি রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়। ১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং হাজী দানেশের বামপন্থি দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট 'নৌকা' প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। অন্যদিকে, যুক্তফ্রন্টের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ হারিকেন প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে। নির্বাচনকে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল ও ফ্রন্ট ব্যাপক নির্বাচনি প্রচারণা চালায়। নির্বাচনি প্রচারণার জন্য তারা সবুজকোর্তা বাহিনী নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে। অবশেষে ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিপক্ষে যুক্তফ্রন্ট বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচন ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
উক্ত নির্বাচন অর্থাৎ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্বে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয় বাঙালিকে এক নতুন আশা-আকাঙ্ক্ষায় উদ্দীপ্ত করে। পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতি বঞ্চনার বিরুদ্ধে এ বিজয় ছিল এক তীব্র প্রতিবাদ। এ নির্বাচন পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে মুসলিম লীগের প্রাধান্যের অবসান ঘটায়।
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ফলে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক নেতৃত্বে যে পরিবর্তন এসেছিল তা ছিল সত্যিই এক আমূল পরিবর্তন। এ নির্বাচনের ফলে পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে মুসলিম লীগের নেতাদের প্রাধান্যের অবসান ঘটে।
এর স্থলে আওয়ামী লীগ নেতাদের উত্থান ঘটে। রাজনীতিতে অবাঙালি নেতৃত্বের প্রশ্নে বাংলার মানুষের মোহমুক্তি ঘটে। শুধু তাই নয়, পূর্ব বাংলার জাতীয় রাজনীতিতে এলিট শ্রেণি ও ভূস্বামী অভিজাতদের প্রাধান্যের অবসান ঘটে। এ নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিনসহ সকল প্রাদেশিক মন্ত্রী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। এ নির্বাচন প্রমাণ করে, পূর্ব বাংলার জনগণ স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকারের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ। যুক্তফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের জনপ্রিয়তা, বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা পূর্ব বাংলার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির পথ সুগম করে। কারণ অনেক তরুণ ও উদীয়মান নেতার কাছে মুসলিম লীগের অনেক প্রবীণ ও প্রভাবশালী নেতা ধরাশায়ী হন।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে একথা প্রমাণিত হয় যে, পূর্ব বাংলার জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানিদের কর্তৃত্ব ও প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে এবং শাসনক্ষমতায় পূর্ব বাংলার নেতৃত্ব দেখতে চায়।
Related Question
View Allএকজন ভাষাশহিদের নাম হলো আব্দুর জব্বার।
শহিদ মিনার নির্মাণের উদ্দেশ্য হলো ভাষাশহিদদের স্মরণ ও ভাষার প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন।
১৯৫২ সালের ভাষার জন্য শহিদ হওয়া ব্যক্তিদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ ও তাদের স্মৃতিসংরক্ষণের জন্য ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঢাকা মেডিকেলের ছাত্ররা প্রথম শহিদ মিনার নির্মাণ শুরু করে এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি শহিদ শফিউরের বাবা তা উদ্বোধন করেন। কিন্তু পুলিশ ও সেনাবাহিনী তা ভেঙে ফেললে ১৯৫৭ সালে বর্তমান স্থানে শহিদ মিনার স্থাপন শুরু হয় এবং ১৯৬৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নতুন শহিদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মানভূমের ভাষা আন্দোলনের সাথে আমার * পঠিত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাদৃশ্য খুঁজে পাই।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মানভূমের বাঙালিদের মধ্যে ১৯৪৮ সালে বাংলা ভাষা আন্দোলন গড়ে ওঠে। এসময় রাজনৈতিকভাবে স্কুল-কলেজ ও সরকারি দপ্তরের হিন্দি ভাষা জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ আন্দোলনের সাথে আমার পঠিত বাংলা ভাষা আন্দোলনের * সাদৃশ্য লক্ষণীয়। অনুরূপ ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬.৪০% মানুষের মুখের ভাষা বাংলার পরিবর্তে মাত্র ৭.২০% মানুষের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার লক্ষ্যে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা এসে ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঘোষণা করেন উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। তাছাড়া ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে ঘোষণা করলে পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন নতুন মাত্রা ও সর্বাত্মক রূপলাভ করে। এ সময়ে তমদ্দুন মজলিস ও রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক হরতাল আহূত হলে স্থানীয় প্রশাসন ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ১ মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে এবং সকল সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়। সরকারের এ ঘোষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অতঃপর ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিতে সালাম, আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন, আব্দুল জব্বার শহিদ হন। যার ফলে বিশ্ব ইতিহাসে ভাষার জন্য আন্দোলনের এক অবিনশ্বর ইতিহাস রচিত হয়।
অতএব উদ্দীপকের ভাষা আন্দোলনের সাথে পূর্ব-বাংলার ভাষা আন্দোলনের মিল পরিলক্ষিত হয়। বাংলা ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদ উজ্জীবিত হয় যা স্বাধীনতা যুদ্ধের মূলমন্ত্র ছিল।
উদ্দীপকের ভাষা আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বাংলা ভাষা আন্দোলনে 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল' উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
ভাষা আন্দোলন পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটায়। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি সর্বপ্রথম নিজেদের স্বতন্ত্র সত্তা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়। আর এ চেতনাই পরবর্তীতে প্রতিটি গণআন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগায় এবং সকল বৈষম্য থেকে মুক্তির পথ সুগম করে। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রেরণায় উদ্দীপ্ত হয়ে বাঙালি জাতি ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে শাসক দল মুসলিম লীগের সকল বৈষম্যমূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে গণরায় প্রদানের মাধ্যমে যুক্তফ্রন্টকে জয়ী করে। বাঙালি জাতীয়তাবোধে উজ্জীবিত বাঙালি জাতি পরবর্তীতে ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে স্বাধিকারের প্রশ্নে পশ্চিম পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। সর্বোপরি এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতি বুকের তাজা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে। ফলে বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের। তাই ঘটনা পরম্পরা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৫২ সালে। বাঙালি জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের যে জাতীয়তাবাদের শিক্ষা অর্জন করে তার ধারাবাহিকতাতেই স্বাধীনতা অর্জন করে।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন যে জাতীয়তাবাদের শিক্ষা দেয় তার মধ্যে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল। তাই উদ্দীপকের উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাশেম।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের রাতকে কালরাত্রি বলা হয়। কাল রাত বলতে নৃশংস ও ভয়ংকর রাতকে বোঝানো হয়। ১৯৭১ সালে ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইট নামে বাঙালি জাতির উপর যে জঘন্য ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায় এ রাতকে কালরাত্রি বলা হয়। এ রাতে অসংখ্য নিরস্ত্র বাঙালিকে নির্বিচারে হত্যা করা হয় এবং ঢাকা শহরের রাস্তায় লাশের স্তূপ তৈরি হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!