সংস্কৃতি হলো আমাদের জীবনপ্রণালি।
সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের একটি অন্যতম কারণ হলো সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ। আত্তীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে। যখন মানুষ. কোনো নতুন সংস্কৃতি বা সাংস্কৃতিক পরিবেশে বসবাস করতে আসে -তখন সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ, চিন্তা-চেতনা, মূল্যবোধ এক কথায় সমগ্র জীবনধারার সাথে আত্তীকৃত হতে চেষ্টা করে। এভাবে একসময় আত্তীকরণ হয়ে যায়, যা সাংস্কৃতিক পরিবর্তন সাধন করে।
রূপার দেখা কটেজটি দৃশ্যশিল্পের অন্তর্গত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রূপা মা-বাবার সাথে কুয়াকাটায় বেড়াতে যায়। সেখানে সে বাঁশের তৈরি কিছু সুন্দর কটেজ দেখে বিস্মিত হয়। এ দৃশ্যশিল্প বাঙালি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা হিসেবে মনে করা হয়। দৃশ্যশিল্পের বেশিরভাগই বস্তুগত শিল্প বা সংস্কৃতি হিসেবে পরিচিত। পলিমাটিতে গড়া আমাদের এই দেশের মাটিতে ভালো বাঁশ জন্মে। তাই বাঁশের তৈরি সুন্দর সুন্দর আসবাবপত্র সবার নজর কেড়েছে। বর্তমানে বাঁশ মানুষের ঘর তৈরিতেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সুনির্মিত ঘর হলো মাটির তৈরি ও বাঁশের তরজার ছাউনিযুক্ত। দোচালা, চারচালা, এমনকি আটচালা। কখনো কখনো বাঁশের কাঠামোর উপর শন দিয়ে চাল ছাওয়া হয়েছে। এখনও আমাদের গ্রামগঞ্জের বেশিরভাগ ঘরই এরকম।
তাই বলা যায়, রুপার দেখা কটেজটি দৃশ্যশিল্পেরই অন্তর্গত।
উদ্দীপকের শেষ অংশে সংগীত শিল্পের ইঙ্গিত রয়েছে। এ সংগীত শিল্প বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, কুয়াকাটা থেকে নৌপথে ফিরে আসার সময় রূপা মাঝিদের কন্ঠে শুনতে পায়- "মনমাঝি তোর বৈঠা নে রে আমি আর বাইতে পারলাম না" গানটি। উদ্দীপকের অনুরূপে বলা যায়, বাংলা চিরকালই সংগীতের দেশ। এখানকার মাঠে-প্রান্তরে, খালবিলে, নদীতে কৃষক, জেলে, মাঝি-মাল্লা, যারাই কাজ করুক না কেন সবারই বিনোদন গান। এসব গানে বাংলার গ্রামীণ জীবন, প্রকৃতি, পারিবারিক বন্ধন, ইহজগৎ কিংবা পরজগতের প্রাধান্য পায়। গ্রামবাংলার সহজ-সরল জীবনযাপনের চিত্রও শিল্পীরা গানের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। একইভাবে গানের মধ্যে ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক হয়ে বসবাসের নানা সম্প্রীতির কথাও ফুটে উঠেছে। যুগে যুগে বাংলার মানুষ তাদের মনের ভাব এই গানের মাধ্যমেই প্রকাশ করেছে। বাংলার বাউল, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, মুর্শিদি, গম্ভীরা গান তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এসব গান যেমন বাঙালি হিসেবে আমাদের আত্মপরিচয়কে বর্ণনা করেছে তেমনিই আমাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি প্রভৃতিকেও জীবন্ত করে তুলেছে।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকের শেষ অংশের ভাওয়াইয়া গানসহ পুরো সংগীত শিল্প বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
Related Question
View Allসাংস্কৃতিক পরিবর্তন পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে ঘটে। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে হস্তান্তরের সময় সংস্কৃতিতে কিছু পরিবর্তন আসে। ভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শেও সংস্কৃতির রূপ বদলায়। এটি মানুষের জীবনধারার পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।
উন্নয়ন বলতে ক্রমান্বয়ে কোনো কিছু উন্নত বা পরিপূর্ণ রূপলাভকরাকে বোঝায়। এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক উন্নয়নকেও নির্দেশ করে। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন। উন্নয়ন সমাজের পরিবর্তনের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
সংস্কৃতির পরিবর্তন ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। উন্নয়ন যেমন সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে, তেমনি সাংস্কৃতির পরিবর্তনও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। উদাহরণস্বরূপ, প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষিতে উৎপাদন বাড়িয়ে উন্নয়ন ঘটায়।
বাংলাদেশের কৃষিতে লাঙলের পরিবর্তে ট্রাক্টর ব্যবহার সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের উদাহরণ। এটি বস্তুগত সংস্কৃতির পরিবর্তন হিসেবে পরিচিত। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বেড়েছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে।
সামাজিক উন্নয়ন মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভব। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সচেতনতার প্রসারের মাধ্যমে ঘটে। উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফল।
সংস্কৃতির পরিবর্তনকে নেতিবাচকভাবে দেখা উচিত নয় কারণ এটি সমাজের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে। নদীর প্রবাহের মতো সংস্কৃতি পরিবেশের সাথে খাপ খেয়ে পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তন মানুষকে নতুন ধারণা ও সুযোগ দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!