কামিনী রায় বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
আমরা লোকলজ্জা ও সমালোচনার ভয়ে নিজেকে আড়ালে রাখি।
'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতায় কবি লোকলজ্জা ও সমালোচনার ভয়ে কাজ থেকে দূরে থাকার দিকটি প্রকাশ করেছেন। আমরা দুর্বলচিত্তের অধিকারী বলে মানুষের সমালোচনার ভয়ে নিজেদের ভালো কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পছন্দ করি। কে কী বলবে এই কথা ভেবে আমরা কোনো কল্যাণকর কাজেই অগ্রসর হতে চাই না। কারণ আমরা চলার পথে প্রতিনিয়তই অসংখ্য বাধানিষেধের সামনে পড়ি। আমাদের ভিতরে অনেক মহৎ ও কল্যাণকর চিন্তা থাকলেও তা বাস্তবে রূপ লাভ করে না। এসব কারণে আমাদের অনেক সৎ ইচ্ছাই মনের মধ্যে মরে যায় এবং আমরা আড়ালে থেকে যাই।
'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতায় বর্ণিত দৃঢ়সংকল্প নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিকটির সঙ্গে উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
সমালোচনার ভয়ে মানুষ ভালো কাজ করা থেকে বিরত থাকে। এ বিষয়টি মানবকল্যাণের অন্তরায়। কারণ যেকোনো ভালো কাজই সমাজের জন্য কল্যাণকর। মনের দ্বিধা, দ্বন্দ্ব, ভয়, কঠিন সমালোচনা ইত্যাদির ভয়ে পিছিয়ে না থেকে মানুষকে মানবকল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে।
উদ্দীপকে একজন তরুণের নিজের পরিকল্পনা অনুসারে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্পের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। এখানে পড়াশুনা শেষ করে রেদওয়ান গ্রামে গিয়ে লাইব্রেরি গড়ে তুলেছে। তার এ মহৎ কাজে বাধা-বিপত্তি এলেও সে থেমে যায়নি। গ্রামের তরুণ সমাজকে বই পড়ায় উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে লাইব্রেরি গড়ে তোলার সিদ্ধান্তে সে অটল থেকেছে। 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতায়ও কবি সমাজে অবদান রাখার জন্য দৃঢ় মনোবল নিয়ে লোকলজ্জা ও সমালোচনাকে উপেক্ষা করে কাজ করতে বলেছেন। মানুষের কল্যাণে মহৎ কাজ করতে গিয়ে উদ্দীপকের রেদওয়ান যেমন বাধার মুখে থেমে যায়নি, তেমনি কবিও ভয়-ভীতি, সংকোচ উপেক্ষা করে ভালো কাজে এগিয়ে যেতে বলেছেন। এভাবে উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ও ভাবচেতনা 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার ভাবচেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হলে সকল বাধা-বিপত্তিকে দূর করা যায়।"-মন্তব্যটি যথার্থ।
জগতে মহৎ কাজে যে এগিয়ে যায় তার সামনে নানা জনের নানা সমালোচনা, নিন্দা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় অনেকেই ভয়ে, লজ্জায়, সংকোচে সেই কাজ থেকে পিছিয়ে আসে। আবার কেউ কেউ সমাজের নেতিবাচক মন্তব্যকে পেছনে ফেলে দৃঢ় মনোবল নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়।
উদ্দীপকে এক তরুণের মহৎ কাজের পরিকল্পনা এবং সেই কাজ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্তে তার অটল থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে সে বই পড়ায় উৎসাহিত করার জন্য গ্রামে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়সংকল্প হয়েছে। তার এই সংকল্প 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতায় কবির প্রত্যাশার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ কবিতায় কবি ভয়, লোকলজ্জা, সমালোচনা উপেক্ষা করে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য তরুণ সমাজকে আহ্বান করেছেন। তিনি বলেছেন শক্তি যেন ভীতির কবলে পড়ে নিঃশেষ না হয়ে যায়। নিন্দুকের নিন্দার ভয়ে মানবকল্যাণ সাধন থেকে যেন কেউ বিরত না হয়। এই দিক থেকে উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার মূলভাব একসূত্রে গাঁথা।
'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতায় কবি সমাজে অবদান রাখতে চান, এমন ব্যক্তিদের সমালোচনা, আত্মদ্বন্দ্ব পরিহার করে দৃঢ়সংকল্প নিয়ে কাজ করতে বলেছেন। উদ্দীপকের রেদওয়ানের কাজের ধরন, উদ্দেশ্য এবং সেই কাজ বাস্তবায়নে তার মনোবল 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবির প্রত্যাশার অনুরূপ। সে সমস্ত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে সামনে এগিয়েছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'প্রশমিতে' শব্দটির অর্থ উপশম ঘটাতে।
"সংশয়ে সংকল্প সদা টলে" বলতে কবি বুঝিয়েছেন কোনো কাজ সম্পর্কে সন্দেহ থাকলে সেই কাজের সংকল্প বা ইচ্ছা নষ্ট হয়।
মনের ভেতরে সংশয় কাজ করলে কোনো ইচ্ছা বা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করা যায় না। কাজ করতে গিয়ে লজ্জার মুখে পড়তে হয় কিনা এ চিন্তা করলে মনের মধ্যে সংশয় দানা বাঁধে। তখন আর কাজটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। মন স্থির না থাকায় সব সময় দ্বিধা কাজ করে।
উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্য 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার চতুর্থ স্তবকের বিপরীত ভাব ধারণ করেছে।
ভালো কাজ করতে আগ্রহী মানুষের কাজ কীভাবে প্রতিহত করা যায় নিন্দুকেরা সে চেস্টায় নিয়োজিত থাকে। তারা মানুষের হৃদয়ের শুভচিন্তা ও কল্যাণধর্মী কর্মকান্ডের বিরোধিতা করে এবং কৌশলে সেগুলো নষ্ট করে দেয়।
উদ্দীপকের প্রথম স্তবকে কবি পরোপকারী মনোভাবসম্পন্ন নিঃস্বার্থ ব্যক্তির কথা বলেছেন। যে লোকটির মানসিকতা 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার চতুর্থ স্তবকের বিপরীত চেতনা প্রকাশ করে। কারণ আলোচ্য রচনার চতুর্থ স্তবকে মানব কল্যাণে কাজ করতে ইচ্ছা পোষণকারীদের সমালোচনার ভয়ে কাজ না করে নিজেদের গুটিয়ে রাখার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে, এক শ্রেণির মানুষ মানুষের দুঃখে প্রাণ কাঁদলেও তারা চোখ শুকনো রাখে। ভাবে সহানুভূতি প্রকাশ করলে লোকে কী বলবে। অন্যদিকে উদ্দীপকের প্রথম অংশে বলা হয়েছে পৃথিবীতে কেউ নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে আসেনি। সকলে সকলের জন্য। মানব কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত মর্যাদা, প্রাপ্তি ও সার্থকতা নিহিত আছে বলে কবি মনে করেছেন। কারণ পৃথিবীতে একে অন্যের কল্যাণ সাধনের মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ লাভ হয়; শুধু নিজেকে নিয়ে বিব্রত থাকায় কোনো আনন্দ নেই।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশের নিন্দুক ও 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার নিন্দুকের প্রভাব এক নয়।
জগতের বহু কল্যাণকর শুভচিন্তা আমাদের হৃদয়ে উদয় হয়। অথচ পেছনে কে কী বলে সেই দিক বিবেচনায় আমরা তা ফলপ্রসূ করতে পারি না। ফলে মনের সেই শুভ চিন্তাগুলো সমালোচনার ভয়ে মনেই মরে যায়। বাস্তব জগতে প্রকাশ করে কাজে লাগিয়ে জগতের কল্যাণ সাধন করা আর হয়ে ওঠে না।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে এবং 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতা উভয় জায়গায় নিন্দুকের কথা প্রকাশ পেয়েছে। তবে উভয় জায়গার নিন্দুক ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব বিস্তার করেছে। উদ্দীপকের নিন্দুক নিন্দা করে ভুল ধরিয়ে দেয়। আর কবিতার যে নিন্দুকের কথা বলা হয়েছে সে সৎচিন্তা, সংকল্প ও মানব কল্যাণের সমস্ত চেষ্টা ও কাজের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। তাদের ভয়ে মানুষ মনের ভাব-ভাবনা ও ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে জগতের কল্যাণ সাধনে ব্রতী হতে পারি না।
উদ্দীপকের নিন্দুককে কবি ভালোবাসতে বলেছেন। কারণ তারা জগতের অহিতকর চিন্তাকে সমালোচনা করে হিতকল্পের উপযোগী করতে সহায়তা করে। তাদের সমালোচনায় একজন তাঁর ভুল সংশোধন করে পরিপূর্ণতা অর্জন করতে পারে। আর 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার নিন্দুক ভুল সংশোধন নয়, মানুষের শুভবোধ ও বুদ্ধির বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে জগতে কল্যাণ সাধনকে ব্যাহত করে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশের নিন্দুক ও আলোচ্য কবিতার নিন্দুকের প্রভাব এক নয়।
ম্রিয়মাণ শব্দের অর্থ- কাতর বা বিষাদগ্রস্ত।
'শক্তি মরে ভীতির কবলে, পাছে লোকে কিছু বলে'- বলতে কবি কোনো কাজ করার জন্য উদ্যোগী হয়েও অন্যের সমালোচনার ভয়ে সেই ইচ্ছাশক্তির বিনষ্ট হওয়াকে বুঝিয়েছেন।
অনেক আছে যারা অকারণে ভয় পায়। অন্যের সমালোচনার ভয়ে বিভিন্ন কাজ থেকে পিছিয়ে আসে। সেই ভয় পাওয়ার ফলে তারা অনেক সহজ ও কল্যাণকর কাজও করতে পারে না। কারণ কাজ করার আগ্রহ তাতে কমে যায়। ফলে তার ইচ্ছাশক্তি ও সামর্থ্যও বিনষ্ট হয়। এ কথা ভেবেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!