উদ্দীপকে রেবা বলল, "শোন দিদিমা, তুমিতো খালি দেব- দেবতায় বিশ্বাস কর। আসলে পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়লে চাঁদে গ্রহণ লাগে।" রেবার মা বললেন, “শোন রেবা, দিদিমার সাথে অত চাঁদ-তারা, গ্রহণ গুণে কোনো লাভ নেই। দেশে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি দরকার। বৃষ্টি হলে ফসল ভালো হবে। আর ফসল হলে দেশের সমৃদ্ধি বাড়বে।" এখানে রেবা ও রেবার মা উভয়ের বক্তব্যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, রেবার মায়ের বক্তব্য রেবার বক্তব্যেরই একটি রূপ। নিচে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো-
কোনো ঘটনা বা বিষয়কে ব্যাখ্যা করার জন্য যখন প্রাকৃতিক নিয়মকে অনুসরণ করা হয়, তখন তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে। যেমন: নিউটনের বস্তুর পতনশীল তত্ত্বের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমরা ভূপৃষ্ঠের আকর্ষণের বিষয়টির সম্পর্কে প্রকল্প তৈরি করি বা অনুমান করি। পরে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করার জন্য জোয়ার-ভাটা, গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি ইত্যাদি প্রাকৃতিক ঘটনার সাথে যুক্ত করি। এক পর্যায়ে মাধ্যাকর্ষণ নিয়মের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করি। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় যে ঘটনাকে বর্ণনা বা বিবৃত করা হয়, সে ঘটনাকে অন্য ঘটনা বা বিষয় থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিচার করা হয় না। এখানে প্রাকৃতিক নিয়ম এবং বিশেষ কোনো তথ্যের উল্লেখ থাকে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হলো বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য। যে ব্যাখ্যা আদর্শ ব্যাখ্যা এবং যে ব্যাখ্যা বিজ্ঞানের লক্ষ্য তাকে বলে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী বিজ্ঞানের সূত্র আবিষ্কৃত হয় এবং তা বাস্তবে প্রয়োগ করা হয়। যেমন: চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে বলা হয় পৃথিবীর ছায়া চন্দ্রের উপর পড়লে চন্দ্রগ্রহণ হয়। আহ্নিক গতির কারণে দিবা-রাত্রি এবং বার্ষিক গতির ফলে ঋতু পরিবর্তন সংঘটিত হয়। এসব ব্যাখ্যা হলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। তাছাড়া রেবার মায়ের বক্তব্য, “বৃষ্টি হলে ফসল হবে। আর ফসল হলে দেশের সমৃদ্ধি বাড়বে।” এ ব্যাখ্যাও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
Related Question
View Allজগতের যাবতীয় জটিল ঘটনাকে সহজবোধ্য করার প্রেক্ষিতে মানবমনের সার্বিক কৌতূহল বা জিজ্ঞাসা নিবৃত্ত করার মাধ্যমে মানুষের বোধশক্তিকে পরিতৃপ্ত করার প্রক্রিয়াই হচ্ছে ব্যাখ্যা।
যেকোনো বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা নির্ভর করে মানবজীবনে বিষয়টির প্রয়োজনীয়তার উপর। আর ব্যাখ্যাকরণের প্রক্রিয়া হচ্ছে এমনই একটি বিষয়, মানবজীবনে যার অপরিসীম প্রয়োজনীয়তা পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। তাই শুধু দৈনন্দিন জীবনেই নয়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর গুরুত্বের কারণেই বর্তমানের জ্ঞান- বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার ধারায় ব্যাখ্যাকরণের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটি বিষয় হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। সুতরাং যুক্তিবিদ্যায় ব্যাখ্যার প্রাসঙ্গিকতার গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে মনির কলম কিনতে গিয়ে প্রথম কলমটি পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও সে অন্য দোকানে গিয়ে একটি কলম কিনল। যার কালি অনেক ভালো, এতে লেখা সুন্দর হয় এবং কলমটি দিয়ে বেশ দ্রুত লেখা যায়।
কলম কেনার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের মনির যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়েছিল, তা হলো শৃঙ্খলযোজন। আর শৃঙ্খলযোজন কথাটির অর্থ হলো 'কতগুলো ঘটনার পর্যায়ক্রমিক পারস্পরিক সংযুক্তি'; অর্থাৎ মনির এই পদ্ধতি অবলম্বন করেই সব বিষয় পর্যালোচনা করে অন্য দোকানে তার দেখা দ্বিতীয় কলমটি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। কেননা কলমটির আকার সুবিধাজনক, যার ফলে ব্যবহার সুবিধাজনক হবে।
সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, মনিরের দ্বিতীয় কলমটি কেনার সিদ্ধান্তটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার আলোকে সঠিক ছিল।
আপাতদৃষ্টিতে কোনো বিষয়কে সঠিক মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা ভুলও হতে পারে।- উক্তিটি উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকের মনির দোকানে কলম কিনতে গিয়েছে। এক দোকানে সে একটি কলম দেখল, যার আকার ও রং অত্যন্ত চমকপ্রদ এবং কলমটি বেশ দামি। এ ছাড়া কলমটি একটি নামি কোম্পানির তৈরি; কিন্তু কলমটি না কিনে মনির অন্য একটি দোকানে যায়। সেখানে সে এমন একটি কলম দেখল যার কালি অনেক ভালো, এতে লেখা সুন্দর হয় এবং কলমটি দিয়ে বেশ দ্রুত লেখা যায়। এ ছাড়া কলমটির আকার এমন, যার ব্যবহার অত্যন্ত সুবিধাজনক। মনির কলমটি কেনার সিদ্ধান্ত নিল এবং মনে মনে পর্যালোচনা করে দেখল সিদ্ধান্তটিতে কোনো ভুল আছে কিনা। কেননা আপাতদৃষ্টিতে কোনো বিষয়কে সঠিক মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা ভুলও হতে পারে। যেমন: কোনো নামি কোম্পানির কলম হলেই যে সেটি ভালো হবে এবং সাধারণ কোম্পানির কলম হলে তা খারাপ হবে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। তাই উদ্দীপকের মনির উক্ত বিষয়গুলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'বিশ্লেষণরূপের' আলোকে পর্যালোচনা করে দ্বিতীয় কলমটি কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সাধারণত 'বিশ্লেষণ' কথাটির অর্থ হলো কোনো বিষয় বা ঘটনাকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে এর গুরুত্ব অনুধাবন করা। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের উক্তিটি যৌক্তিক ও যথার্থ।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সংযোগ ক্রিয়া বর্তমান।
যে ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত সত্তা কল্পনা করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করা হয় তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে। সাধারণভাবে বলতে গেলে সাধারণ লোকের সাধারণ বিশ্বাস এবং মনগড়া চিন্তা ও প্রচলিত ধারণার দ্বারা কোনো ঘটনার যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা-ই হচ্ছে লৌকিক ব্যাখ্যা। তাই লৌকিক ব্যাখ্যা হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে বাসা বাঁধা বিভিন্ন কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের প্রতিফলন।
সুতরাং লৌকিক ব্যাখ্যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা যায়, যে ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত সত্তা কল্পনা করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করা হয়, তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!