গৃহ ব্যবস্থাপনার ধাপগুলো হলো- পরিকল্পনা, সংগঠন, নির্দেশনা, সমন্বয় সাধন, নিয়ন্ত্রণ মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি জটিল প্রক্রিয়া। সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি হলো- ১. সমস্যার স্বরূপ উপলদ্ধি করা, ২. বিকল্প অনুসন্ধান করা, ৩. বিকল্পসমূহ সম্পর্কে চিন্তা করা, ৪. একটি সমাধান গ্রহণ করা এবং ৫. গৃহীত সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করা।
জাহিদ সাহেবের কর্মপন্থায় গৃহ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা পর্যায়টি পরিলক্ষিত হয়। গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রধান ধাপ হলো পরিকল্পনা। যেকোনো কাজ করতে গেলে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। ব্যবস্থাপনার পরবর্তী ধাপগুলোর ভিত্তি হলো পরিকল্পনা। লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে যেসব কর্মপন্থা অবলম্বন করা হয় তার পূর্বে কাজটি কীভাবে করা হবে, কেন করা হবে ইত্যাদি সম্বন্ধে চিন্তাভাবনা করার নাম পরিকল্পনা। অর্থাৎ পরিকল্পনা হলো পূর্ব থেকে স্থিরকৃত কার্যক্রম। পরিকল্পনা একটি মানসিক প্রক্রিয়া। পরিকল্পনাকে অনুসরণ করে পরবর্তী কাজগুলো সম্পন্ন অগ্রসর হয়। এক কথায় পরিকল্পনাকে বলা হয় ভবিষ্যতের কার্যকলাপের পূর্বাভাস। উদ্দেশ্যমুখী কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা সহজতর হয়।লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য পরিকল্পনার প্রয়োজন হয় না। লক্ষ্যই পরিকল্পনায় নির্ধারণ করে কী কাজ করা হবে, কেন হবে, কীভাবে সম্পন্ন করা হবে। পারিবারিক লক্ষ্য অর্জন কীভাবে হবে তা নির্দিষ্টকরণকে পরিকল্পনা বলে।
পরিশেষে বলা যায়, জাহিদ সাহেব তার কাজগুলো পরিকল্পনামাফিক বাস্তবায়ন করেন। তাই তার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। আর এজন্যই মালিক তার প্রশংসা করে।
জাহিদ সাহেবের মালিক তার প্রশংসা করে বলেন, "তোমার এ কার্যক্রম তোমাকে সফলতার দিকে নিয়ে যাবে।" মালিকের এ উক্তিটি সঠিক হয়েছে।
কোনো কাজ সুসম্পন্ন করতে হলে লক্ষ্য নির্ধারণ করে পরিকল্পনামাফিক কাজটি করতে হয়। তাহলে কাঙ্ক্ষিত সফলতা লাভ করা যায়। জাহিদ সাহেব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেন। পরিকল্পনামতো কাজ করলে সফল হওয়া স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে পরিকল্পনাটি সঠিক হতে হবে এবং নিয়মমাফিক তা বাস্তবায়নে অগ্রসর হতে হবে। এজন্য বলা হয়- Plan is the half of
জাহিদ সাহেব পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করায় তার কাজগুলো সময়মতো সম্পন্ন হয়। এজন্য তার মালিক তার প্রতি সন্তুষ্ট। আর মালিক সন্তুষ্ট হলে তার পদোন্নতি হবে, বেতন বৃদ্ধি পাবে, ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এক সময় তিনি একজন সফল মানুষে পরিণত হবেন। জাহিদ সাহেবের মালিক তার উক্তিতে এ কথাই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাই মালিকের উক্তি বাস্তবসম্মত ও সঠিক।
Related Question
View Allলক্ষ্য অর্জনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন এবং মূল্যবান বলে মনে করা হয় তাকে মান বলে।
পরিকল্পনা গৃহে সময়, শক্তি ও অর্থের সাশ্রয় করে।
পরিকল্পনার সাথে কাজ করলে বাস্তববাদীভাবে অর্থ ব্যয় করা যায়।পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের মতামতের ওপর এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধা চিন্তা করে পরিকল্পনা করলে কাজে সফল হওয়া যায়। তাই গৃহ ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ।:
উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত স্থান গৃহ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত ধাপটি নির্দেশ করে।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ গৃহ ব্যবস্থাপনা কার্যকলাপের মৌলিক অঙ্গ। এটি গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রাণস্বরূপ। সিদ্ধান্ত ছাড়া গৃহ ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা যায় না।গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ যেকোনো সমস্যা সমাধানের সঠিক পথ নির্দেশ দেয়।ফলে সর্বোত্তম সমাধান নিশ্চিত হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সমস্যার স্বরূপ উদঘাটন করতে হয়। এজন্য সমস্যা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে হয়। এতে মেধা, মননশীলতা, যুক্তি ও অনুসন্ধানী মনোভাব গড়ে ওঠে। সীমিত সম্পদ সুপরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের ওপর পরিবারের সাফল্য নির্ভর করে। সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এগুলো এমনভাবে ব্যবহার করাহয় যা থেকে সর্বোত্তম ফল লাভ করা যায়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের বিকল্প পন্থা নির্ধারণ করা হয় বলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অযথা সময় নষ্ট হয় না। সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিবারকে নানা প্রতিকূলতা ও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যায়
উদ্দীপকে 'B' গৃহ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য ধাপকে নির্দেশ করছে। আর এই লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে গৃহ ব্যবস্থাপনার সবগুলো ধাপ চক্রাকারে আবর্তিত হয়।
গৃহ ব্যবস্থাপনার ধাপ বা পদ্ধতিসমূহ হচ্ছে পরিকল্পনা, সংগঠন, নির্দেশনা, সমন্বয় সাধন, নিয়ন্ত্রণ, মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ। আমরা যদি কর্মসম্পাদনের সময় সচেতনভাবে ব্যবস্থাপনার এই ধাপসমূহ অনুসরণ করি তাহলে সহজেই লক্ষ্যে পৌছানো সম্ভব। লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে সিন্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে গৃহ ব্যবস্থাপনার ধাপসমূহ চক্রাকারে আবর্তিত থাকে।
পরিকল্পনা গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রথম ও মৌলিক কাজ। লক্ষ্য অর্জনের জন্য কী করতে হবে, কখন ও কত সময় নিয়ে করতে হবে ইত্যাদি বিষয়ে পূর্বসিদ্ধান্ত গ্রহণই পরিকল্পনা। গৃহ ব্যবস্থাপনার দ্বিতীয় ধাপ হলো সংগঠন। এই পর্যায়ে কোনো কাজ কোথায়, কীভাবে করা হবে তা স্থির করা হয়। সংগঠনের পরবর্তী ধাপ হলো নির্দেশনা। নির্দেশনা হলো কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের মূল লক্ষ্যের আলোকে কাজ সম্পাদনের জন্য আদেশ-নির্দেশ প্রদান করা। পরিকল্পনা ও নির্দেশনা অনুসারে কোনো কাজ বাস্তবে রূপান্তরিত করাই হলো বাস্তবায়ন। আর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সকল ভুল ত্রুটি খুঁজে বের করে সংশোধনের ব্যবস্থা নিয়ে উদ্দেশ্য অর্জন নিশ্চিত করা হয়। বাস্তবায়ন ও নিয়ন্ত্রণের পরবর্তী ধাপ হচ্ছে সমন্বয়সাধন। এর মাধ্যমে মতানৈক্য দূর করে ব্যক্তিবর্গ ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য, সমঝোতা, সহযোগিতা ও সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। এতে কাজের মধ্যে নিরবচ্ছিন্নতা ও ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। গৃহ ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে মূল্যায়ন। মূল্যায়নের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জিত হলো কি না আর যদি হয়ে থাকে সেটা কতোটা তা পরিমাপ করা যায়।
কোনো একটি কাজ সম্পূর্ণভাবে করার জন্য কাজের বিভিন্ন পর্যায়ের বর্ণনাই প্রসেস চার্ট।
কাজ করার স্থানের পরিসর এমন হওয়া উচিত, যাতে স্বাভাবিক দেহভঙ্গি ও দেহের অবস্থান ঠিক রেখে কাজ করা যায়। সময় এবং শক্তি সংরক্ষণে দেহভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বসে বা দাঁড়িয়ে সহজভাবে হাতের নাগালের মধ্যে কাজের স্থান হলে সময় ও শ্রম বাঁচে এবং সহজে কাজ করা যায়। কাজ সহজ করার জন্য একইভাবে কাজ না করে সহজ উপায়ে সময় ও শক্তি ব্যয় করে কাজটি শেষ করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!