বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর প্রধান স্তর দুইটি।
প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে অর্থমন্ত্রী বাজেট প্রণয়ন ও সংসদে উপস্থাপন করেন। প্রতি বছর সরকার দেশ পরিচালনার জন্যে বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করে।
অর্থমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে খসড়া বাজেট প্রণীত হয়। মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যগণ এ বিষয়ে সহযোগিতা করেন। খসড়া বাজেট অর্থমন্ত্রী সংসদে উপস্থাপন করেন। সংসদ সদস্যগণ দীর্ঘ বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ তা পাস করেন।
উদ্দীপকের আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ দেশে ফিরে রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।
সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি শাসন বিভাগের সর্বোচ্চ ব্যক্তি এবং আলঙ্কারিক প্রধান। সরকারের সব শাসনসংক্রান্ত কাজ তার নামে পরিচালিত হয়। তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে নানা পরামর্শ প্রদান করে থাকেন।
উদ্দীপকের পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ দেশে ফিরে এমন একজন সম্মানিত ব্যক্তির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন, যিনি শাসন বিভাগের সর্বোচ্চ ব্যক্তি এবং আলঙ্কারিক প্রধান। সরকারের সব শাসনসংক্রান্ত কাজ তার নামে পরিচালিত হয় এবং তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে নানা পরামর্শ প্রদান করেন। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে পরামর্শ প্রদান করাই উক্ত ব্যক্তি তথা রাষ্ট্রপতির একমাত্র কাজ- আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত নই।
রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান। সরকারের সকল শাসনসংক্রান্ত কাজ তার নামে পরিচালিত হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দেন। এছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের তিনিই নিয়োগদান করেন। রাষ্ট্রপতি আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজ করেন। রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত কিংবা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে ভেঙে দিতে পারেন। তাছাড়া রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সকল সম্মানের উৎস। তার অনুমতি ছাড়া দেশের কোনো নাগরিক অন্য দেশের দেওয়া সম্মাননা বা পদবি গ্রহণ করতে পারেন না।
রাষ্ট্রপতি জাতীয় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী ও বিচারপতিদের শপথ বাক্য পাঠ করান। তার সম্মতি ছাড়া কোনো অর্থবিল সংসদে উত্থাপন করা যায় না। অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে সংসদ কোনো ক্ষেত্রে অর্থ মঞ্জুর করতে অসমর্থ হলে রাষ্ট্রপতি ৬০ দিনের জন্য সংশ্লিষ্ট তহবিল হতে অর্থ মঞ্জুর করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ এবং তার সাথে পরামর্শ করে আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের নিযুক্ত করেন। তিনি আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাজা হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন।
উপরের আলোচনায় স্পষ্ট যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে পরামর্শ প্রদান করা ছাড়াও রাষ্ট্রপতি আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন।
Related Question
View Allশাসন বিভাগের অপর নাম নির্বাহী বিভাগ।
মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো বিভাগীয় প্রশাসন।
বিভাগের উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন ও তত্ত্বাবধান করে বিভাগীয় প্রশাসন। তবে বিভাগের সব কাজ সম্পন্ন করা হয় বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে। তিনি কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে বিভাগের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
'A' চিহ্নিত স্থানটি সরকারের আইন বিভাগকে নির্দেশ করছে।
সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে আইনসভা অন্যতম। বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় জাতীয় সংসদ যাবতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশের আইন প্রণয়নের সব ক্ষমতা জাতীয় সংসদের। সংসদ যেকোনো আইন প্রণয়ন, প্রচলিত আইনের পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে।
জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধানমন্ত্রী ও 'মন্ত্রিসভার সদস্যরা সংসদের কাছে দায়ী থাকে। কোনো কারণে সংসদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা আনলে মন্ত্রিসভা ভেঙে যায়। সংসদের অনুমতি ছাড়া কোনো কর বা খাজনা আরোপ ও আদায় করা যায় না। সংসদ প্রতি বছর জাতীয় বাজেট পাস করে। সংসদ সংবিধানে উল্লিখিত নিয়মের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে পারে। তবে এজন্য সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের দরকার হয়। সুতরাং বলা যায়, আইন বিভাগের কর্মকাণ্ডের পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'B' চিহ্নিত বিভাগটি হলো নির্বাহী বিভাগ এবং 'A' চিহ্নিত বিভাগটি হলো আইন বিভাগ। বাংলাদেশে আইন বিভাগ নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। এ বিষয়টির সাথে আমি একমত।
সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় আইনসভার স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সরকারের যেসব কাজ করতে হয় সেগুলো হলো- আইনসংক্রান্ত কাজ, শাসনসংক্রান্ত কাজ এবং বিচারসংক্রান্ত কাজ। এই তিন প্রকার কাজ সম্পাদন করার জন্য আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগের ওপর দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে। তবে আইন বিভাগের কাজের পরিধি ব্যাপক। এটি শুধু আইন প্রণয়নই করে না, নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণও করে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা সংসদের কাছে দায়ী থাকেন। কোনো কারণে সংসদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা আনলে মন্ত্রিসভা ভেঙেযায়। মুলতুবি প্রস্তাব, নিন্দা প্রস্তাব, অনাস্থা প্রস্তাব, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, সংসদীয় বিভিন্ন কমিটি ও সংসদে সাধারণ আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট, আইন বিভাগের সাথে নির্বাহী বিভাগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। আইন বিভাগ তথা জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে।
যুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল।
রাষ্ট্রের শাসনকাজ পরিচালনা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রশাসনকে রাষ্ট্রের হৃৎপিণ্ড বলা হয়।
রাষ্ট্রের শাসনকাজ পরিচালনার দায়িত্ব প্রশাসনের। রাষ্ট্রের ভিতরে শান্তি- শৃঙ্খলা রক্ষা ও রাষ্ট্রের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সুষ্ঠু প্রশাসনের কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রশাসন রাষ্ট্রের হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!