মানব ভ্রূণ তিনটি ঝিল্লি দ্বারা বেষ্টিত থাকে।
বংশগতি বলতে মানুষ যে সকল বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করে সেসব বৈশিষ্ট্যকে বোঝায়।
বংশগতির বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে দৈহিক গঠন, বুদ্ধিমত্তা, মানসিকতা, সহজাত প্রবণতা ইত্যাদি। এই বৈশিষ্ট্যগুলো পিতামাতার কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে সঞ্চারিত হয়। যে মুহূর্তে গর্ভসঞ্চার হয়, সেই মুহূর্তেই বংশগতি নির্ধারিত হয়ে যায়।
রোকসানার ওষুধ সেবন গর্ভকালীন বিকাশের শারীরিক প্রভাবের অন্তর্ভুক্ত।
মানব ভ্রূণের নিরাপদে বেড়ে ওঠার আশ্রয়স্থল হলো মাতৃগর্ভ। এ সময় শিশুর শরীরের ভিতরের ও বাইরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো সুচারুরূপে গঠিত হতে থাকে। কিন্তু কতগুলো বিষয় শিশুর এই বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। যেমন- মায়ের অপুষ্টি, মায়ের বয়স, মায়ের অসুস্থতা ও স্বাস্থ্য, ওষুধ, মাদকদ্রব্য ও ধুমপান, রক্তের Rh উপাদান, তেজস্ক্রিয়তা প্রভৃতি।
উদ্দীপকে রোকসানা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই এন্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন করে। যা গর্ভকালীন শারীরিক প্রভাবকে নির্দেশ করে। গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে যে কোনো ব্যথানাশক বা এন্টিবায়োটিক ওষুধ সেবনের ফলে ভ্রূণের ক্ষতি হতে পারে। গর্ভবতী মায়েদের ওষুধ সেবনের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। মায়েদের অতিরিক্ত ওষুধ সেবনের ফলে শিশুদের বর্ধন ও বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিশুর জীবনে গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসময় শিশুর হৃৎপিণ্ড ও অন্যান্য অঙ্গসমূহের প্রাথমিক গঠন শুরু হয়। কাজেই যেকোনো ওষুধ সেবনের পূর্বে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
রোকসানার মতো গর্ভবতী মায়ের মানসিক অবস্থা গর্ভকালীন সন্তানের বিকাশে ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
গর্ভবর্তী মায়ের মানসিক উত্তেজনা, অস্থিরতা, চাঞ্চল্য ভূণকে প্রভাবিত করে। এ সময়ে মায়ের অস্বাভাবিক ভয়, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, ক্রোধ, উত্তেজনা ভ্রূণের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
রোকসানার গর্ভাবস্থায় তার বাবা হঠাৎ করে মারা যায়। এতে সে খুবই ভেঙ্গে পড়ে। রোকসানার এরূপ মানসিক অবস্থা তার গর্ভস্থ সন্তানের বিকাশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। মানুষের আবেগের সাথে তার শরীরের অভ্যন্তরে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির যোগসূত্র রয়েছে। মায়ের মানসিক চাপে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির স্বাভাবিক ক্ষরণ ব্যাহত হয়। এর ফলে মা অপরিণত সন্তান প্রসব করতে পারেন। মায়ের উদ্বেগ জরায়ুর সংকোচনে বাঁধার সৃষ্টি করে যা সন্তান প্রসবে জটিলতা সৃষ্টি করে।
গর্ভকালীন সময়ে মায়ের মানসিক দুশ্চিন্তার জন্য ভ্রুণ যদি অতিরিক্ত নড়াচড়া করে তবে সন্তানের ওজন খুব কমে যায় এবং স্নায়ু এত দুর্বল হয়ে যায় যে, জন্মের পর প্রথম কয়েকদিন নবজাতকের পক্ষে পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো বেশ কষ্টকর হয়। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মায়ের নবজাতক খুব চঞ্চল প্রকৃতির হয় এবং জন্মের পর শিশু অতিরিক্ত কান্নাকাটি করে থাকে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে মায়ের গর্ভাবস্থার প্রথম দশ সপ্তাহে আবেগের ক্ষতিকর ফল হিসেবে সন্তান ত্রুটিযুক্ত মুখের তালু নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, রোকসানার মানসিক বিপর্যন্ত অবস্থা তার গর্ভস্থ সন্তানের বিকাশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
Related Question
View Allমেলানিন তৈরি হয় টাইরোসিন হতে।
হাইড্রোসেফালি এক ধরনের জিনগত অস্বাভাবিকতা। হাইড্রোসেলফালি হলে মাথার মধ্যে তরল পদার্থ সেরেব্রো-স্পাইনাল রস নিঃসরণ না হয়ে জমা থাকে। ফলে মাথা অস্বাভাবিক বড় হয়। শিশু প্রতিবন্ধী হয়।
রহিম মিয়ার বড় সন্তানটির মধ্যে থাইরয়েড গ্রন্থি হতে নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোনের ঘাটতি রয়েছে।
থাইরয়েড হরমোনের অভাবে শিশু বামনত্ব লাভ করে। এ ধরনের জিনগত অস্বাভাবিকতাকে ক্রেটিনিজম বলে। এর অপর নাম হাইপোথাইরয়েডিজম।
বংশগত বা অন্য কোনো কারণে গর্ভাবস্থায় আয়োডিন এর অভাব হলে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে বামনত্ব দেখা দেয়। এছাড়া মাথায় চুল অল্প থাকে। কপাল ছোট, নাক চ্যাপ্টা হয়। এদের জিহবা বেশ মোটা থাকে। অনেকের গলগণ্ড হয় ও বিপাক ক্রিয়া হ্রাস পায়। এ রোগে হজমজনিত গোলযোগ থাকে এবং যৌনাঙ্গের বিকাশ ঠিকমতো হয় না।
রহিম মিয়ার ছোট সন্তানটির মধ্যে হিমোফিলিয়া নামক জিনগত অস্বাভাবিকতা রয়েছে।
হিমোফিলিয়া রোগে শরীরের কোথাও কেটে গেল তার রক্ত জমাট বাঁধতে চায় না। মায়ের রক্ত থেকে পুত্রসন্তানদের দেহে বিস্তার লাভ করে এই রোগ।
ছেলেদের এই রোগ দেখা যায়। মেয়েরা বাহক হিসেবে কাজ করে। এই রোগে কোনো স্থান কেটে গেলে রক্তক্ষরণ সহজে বন্ধ হয় না। আঘাত পেলে চামড়ার নিচে বা জোড়ার অভ্যন্তরে রক্তপাত হতে থাকে। একে রক্তক্ষরণীয় রোগ বলা হয়, মহিলাদের চেয়ে পুরুষের sex chromosome কে এর জন্য দায়ী করা হয়।
হিমোফিলিয়ায় কোনো cloting factor থাকে না। এই রোগে রোগীর রক্তে রক্ত বন্ধনকারী অ্যান্টি হিমোফিলিক ফ্যাক্টর VIII থাকে না। ফলে রক্ত জমাট হতে অনেক সময় লাগে। রহিম মিয়ার ছোট সন্তানের মধ্যে এ ধরনের জিনগত অস্বাভাবিকতাই পরিলক্ষিত হয়।
স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের প্রধান অঙ্গের নাম ডিম্বাশয়।
ভালভা স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের একটি অংশ বা অঙ্গাণু। ভালভা বলতে যোনি যে ছিদ্রপথে বাইরে উন্মুক্ত থাকে তাকে বোঝায়। লেবিয়া মেজরা, লেবিয়া মাইনরা, ক্লাইটোরিস এবং ভেন্টিবুলার গ্রন্থিকে একত্রে ভালভা বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!