রোকেয়া ইসলাম সরকারের স্থায়ী, দক্ষ ও বেতনভুক্ত চাকরিজীবী। তিনি নিরপেক্ষভাবে ও শৃঙ্খলার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। 
শাসনকার্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। 

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, দক্ষ, রাজনীতি নিরপেক্ষ সরকারি চাকরিজীবী শ্রেণি, যারা সরকারের নীতি বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ করে থাকেন।

উত্তরঃ

স্বাধীনতার দুটি উপাদান হলো-
১. আইন: আইন হচ্ছে স্বাধীনতার অন্যতম উপাদান। আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব। আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতায় রূপ নেয়। তাই স্বাধীনতার জন্য আইন একান্ত অপরিহার্য।
২. আইনের অনুশাসন : আইনের অনুশাসন স্বাধীনতার উল্লেখযোগ্য আরেকটি উপাদান। আইনের চোখে সবাই সমান, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এ আইনের অনুশাসনই স্বাধীনতাকে তাৎপর্যপূর্ণ করে

উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত রোকেয়া ইসলাম সরকারের শাসন বিভাগে নিয়োজিত আছেন।

সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে শাসন বিভাগ অন্যতম। শাসন বিভাগ আইনসভা প্রণীত আইন অনুসারে রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনা করে। সাধারণ অর্থে শাসন বিভাগ হলো প্রজাতন্ত্রের নিযুক্ত সেই অংশ যারা রাষ্ট্রীয় নীতি ও কার্যক্রম নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করে। যেমন-বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও অন্যান্য মন্ত্রিবর্গ। তবে ব্যাপক অর্থে প্রজাতন্ত্রের আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ ব্যতীত অন্যান্য সকল কর্মচারী-কর্মকর্তা শাসন বিভাগের আওতাভুক্ত। শাসন বিভাগে সাধারণত দুই ধরনের কর্মকর্তা পরিলক্ষিত হয়। রাজনৈতিক কর্মকর্তা এবং অরাজনৈতিক বা আমলাতান্ত্রিক শাসক। এ বিভাগের রাজনৈতিক কর্মকর্তাগণ রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে চূড়ান্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন এবং তাদের কাজের জন্য প্রত্যক্ষভাবে আইনসভার নিকট এবং পরোক্ষভাবে জনগণের নিকট দায়বন্ধ থাকেন। অপরদিকে অরাজনৈতিক বা আমলাতান্ত্রিক শাসকগণ হলো সরকারের স্থায়ী, দক্ষ ও বেতনভুক্ত চাকরিজীবী। এ শাসকগণ নিরপেক্ষভাবে ও শৃঙ্খলার সাথে নীতি ও আইন বাস্তবায়ন করে। রাষ্ট্রে সরকারের পরিবর্তন হলেও এই সমস্ত আমলাতান্ত্রিক শাসকদের পরিবর্তন হয় না। অর্থাৎ তারা রাষ্ট্রের স্থায়ী শাসক। আলোচ্য উদ্দীপকে রোকেয়া ইসলামও সরকারের স্থায়ী, দক্ষ ও বেতনভুক্ত চাকরিজীবী এবং তিনি নিরপেক্ষভাবে ও শৃঙ্খলার সাথে দায়িত্ব পালন করে। যে কারণে তিনি সরকারের শাসন বিভাগে অরাজনৈতিক বা আমলাতান্ত্রিক শাসক হিসেবে নিয়োজিত আছেন বলে প্রতীয়মান হয়।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত বিভাগের সদস্যরা সামাজিক পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেন। শাসন বিভাগ দেশের অভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শাসন বিভাগই সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে অন্যতম বিভাগ হিসেবে দেশ পরিচালনা করে। শাসন বিভাগ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা বিধান করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দেওয়া, পরিচালনা করা এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। আইন বিভাগ কর্তৃক ধার্যকৃত অর্থ আদায় এবং ব্যয়ের খাতে ব্যয় করার দায়িত্ব শাসন বিভাগের কর্মকর্তাদের। শাসন বিভাগে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রিবর্গ প্রধান দায়িত্ব পালন করলেও তারা মূলত স্থায়ী কর্মকর্তাদের সহযোগিতা নিয়েই তাদের কার্যসম্পাদন করেন এবং তারা নীতি নির্ধারণ করলেও নীতি বাস্তবায়ন করেন স্থায়ী কর্মকর্তাবৃন্দ। অর্থাৎ শাসন বিভাগে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী নীতি নির্ধারণ করলেও তারা যেহেতু স্থায়ী কর্মকর্তা নন সেহেতু যারা নীতির বাস্তবায়ন করেন এবং স্থায়ী কর্মকর্তা তাদের অবদানই বেশি। কেননা স্থায়ী কর্মকর্তাগণ সকল সরকারের আমলেই নীতি বাস্তবায়নের কাজ করেন। শাসন বিভাগের সদস্যরা সামাজিক পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন নীতির বাস্তবায়ন ঘটানোর পাশাপাশি জনশিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও পরিবহন, শিল্প-বাণিজ্য উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা; কৃষি উন্নয়ন ইত্যাদির উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ করেন। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এ বিষয় স্পষ্ট শাসন বিভাগের সদস্য রাষ্ট্রীয় নীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনেও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেন।

64

Related Question

View All
উত্তরঃ

বিচার বিভাগ জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে। কিন্তু যদি এটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। বিচার বিভাগকে অনেক সময় সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিতে হয়। সরকারের অন্য কোনো বিভাগের অধীনে থেকে কাজ করলে সব সময় সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়া সম্ভব হয় না। এজন্য ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখতে হয়।

223
উত্তরঃ

A চিহ্নিত সংস্থাটি আইন প্রণয়নকারী সংস্থা বা আইনসভা।
রাষ্ট্রের তিনটি মৌলিক অঙ্গের মধ্যে আইনসভা বা আইন বিভাগ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থাতে আইনবিভাগের গুরুত্ব ও ভূমিকা অনেক বেশি। আইন বিভাগের প্রধান কাজ হলো আইন প্রণয়ন করা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইনসভা শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট তাদের কাজের জন্য দায়ী থাকে। আইনসভা এখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল অংশের কাজ করে। জনপ্রতিনিধিরা আইনসভায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। আইন প্রণয়ন ছাড়াও সংবিধান প্রণয়ন, সংশোধন, আলোচনা, বিতর্ক, জনমত গঠন, আর্থিক বিবৃতি প্রণয়ন, তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিচারসংক্রান্ত কাজ, শাসনসংক্রান্ত কাজ, সমালোচনামূলক কাজ ইত্যাদি করে থাকে। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় আইনসভা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

204
উত্তরঃ

সরকারের তিনটি মৌলিক বিভাগের মধ্যে কাজ সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা আইন বিভাগের কাজ। আইন অনুসারে দেশ পরিচালনা করা শাসন বিভাগের কাজ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বিচার বিভাগের কাজ।

উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B-তে যথাক্রমে আইন ও শাসন বিভাগের কথা বলা হয়েছে। একটি দেশ পরিচালনা তথা নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্বে থাকে এই দুটি বিভাগ। একটি দেশের শাসন বিভাগ ব্যাপক অর্থে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে গ্রামের চৌকিদার পর্যন্ত বিস্তৃত কর্মী বাহিনী নিয়ে গঠিত। শাসনকার্য পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দেশরক্ষা, দেশের উন্নয়নমূলক কার্যাবলি পরিচালনা সবই শাসন বিভাগের হাতে ন্যস্ত। শাসন বিভাগ এসব কার্যাবলি সম্পন্ন করে আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে।

শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। শাসন বিভাগের কার্যাবলিকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে আইন বিভাগ। অন্যদিকে বিচার বিভাগ ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিচার করে থাকে। কিন্তু বিচার বিভাগের রায়কে বাস্তবায়ন করার দায়িত্বও থাকে শাসন বিভাগের হাতে। আবার বিচার বিভাগের প্রদত্ত রায় বা শাস্তিকে মওকুফ বা মার্জনার ক্ষমতা শাসন বিভাগের হাতে আছে। এ দিক থেকে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ মূল নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকে। শাসন বিভাগের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে একটি রাষ্ট্র বিপন্ন হতে বাধ্য। আবার আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে শাসন বিভাগ বেপরোয়া হয়ে যেতে পারে।

এদিক থেকে শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক, নিয়ন্ত্রক এবং সমন্বয় সাধনকারী। রাষ্ট্র পরিচালনায় এই দুটি বিভাগের ভূমিকাও অনেকটা তত্ত্বাবধায়কের ন্যায়। তাই আমি মনে করি, একটি রাষ্ট্র উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

204
উত্তরঃ

ব্রিটেনের আইনসভার উচ্চকক্ষের নাম হাউস অব লর্ডস এবং নিম্নকক্ষের নাম হাউস অব কমন্স।

336
উত্তরঃ

সরকারের যে বিভাগ আইনসভা প্রণীত আইন অনুসারে রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনা করে, তাকে শাসন বিভাগ বলে। অর্থাৎ আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে যে বিভাগ দেশ শাসন বা পরিচালনা করে থাকে, তাই শাসন বিভাগ। সংকীর্ণ অর্থে শাসন বিভাগ হলো প্রজাতন্ত্রের নীতি ও কার্যক্রম নির্ধারণের দায়িত্ব প্রাপ্ত অংশ যেমন- প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীবর্গ, আমলারা। আর ব্যাপক অর্থে আইন ও বিচার বিভাগ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের সকল অংশীজন শাসন বিভাগের আওতাভুক্ত।

1.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews