মাদার তেরেসা মাটিতে দাগ কেটে শিশুদের বর্ণমালা শেখাতেন।
অসহায়, দরিদ্র, বস্তিবাসী ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার কাজে উৎসাহ দিতে এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে মাদার তেরেসা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মাঝে সেবার আগ্রহ জাগাতেন।
মাদার তেরেসা একজন বিখ্যাত মানবদরদি মহীয়সী নারী। তিনি সারাটি জীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তিনি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদেরও মানবসেবায় অংশগ্রহণ করার জন্য উৎসাহ দিতেন। মানুষকে সেবা করার মাঝে যে নির্মল আনন্দ আছে, তিনি ছাত্রছাত্রীদের তা বোঝাতে চেষ্টা করতেন।
উদ্দীপকের বেগম রোকেয়ার মাঝে 'মাদার তেরেসা' প্রবন্ধের মাদার তেরেসার গরিব-দুঃখী-অসহায় মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার দিকটি ফুটে উঠেছে।
জ্ঞানার্জন মানুষের শ্রেষ্ঠ কাজ। এ কাজে উৎসাহ বা অনুপ্রেরণা দেওয়া শ্রেষ্ঠ মহৎ কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম। শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীকে সত্য পথের সন্ধান দিয়ে প্রকৃত মানুষ করে গড়ে তোলা যায়।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে নারীজাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার কথা। তিনি নারীশিক্ষার জন্য ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করেছিলেন। 'মাদার তেরেসা' প্রবন্ধে দেখা যায়, মহীয়সী নারী মাদার তেরেসা অসহায়, দুস্থ, বস্তিবাসী ছেলেমেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষা দিতেন মাটিতে দাগ কেটে বর্ণমালা শেখানোর মধ্য দিয়ে। তাঁর অনুপ্রেরণায় ও কর্তব্যপরায়ণতায় অসংখ্য ছেলেমেয়ে পায় জ্ঞানের আলো। সুতরাং উদ্দীপকের বেগম রোকেয়ার মাঝে মাদার তেরেসার শিক্ষা দেওয়ার দিকটি ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপকের রোকেয়া এবং 'মাদার তেরেসা' প্রবন্ধের মাদার তেরেসা উভয় মহীয়সী নারীই মানবতার সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন।"- মন্তব্যটি যথাযথ।
এমন কিছু কাজ রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে মানুষ মানুষের অন্তরে বেঁচে থাকে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মানবসেবা। এ কাজের মাধ্যমে একদিকে যেমন মানুষ উপকৃত হয়, অন্যদিকে নিজের মাঝেও স্বর্গীয় সুখ অনুভূত হয়।
উদ্দীপকের বেগম রোকেয়া নারীমুক্তি আন্দোলনের অন্যতম কর্ণধার। তিনি চিন্তা করলেন নারীদের শুধু গৃহকর্মে বন্দি রেখে কখনই সমাজের বা মানবতার উন্নতি সম্ভব নয়। তাই তিনি গৃহবন্দি নারীদের বাইরে এনে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালান। 'মাদার তেরেসা' প্রবন্ধে মাদার তেরেসাও মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। মানুষকে সেবা করার মধ্যে তিনি আনন্দ পান। দরিদ্র, অসহায়, পঙ্গু, রোগাক্রান্ত ইত্যাদি নানা সমস্যায় জর্জরিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা দিতে থাকেন।
উদ্দীপকের বেগম রোকেয়া নারীজাতির মুক্তি, সমাজের বিকাশ ও জাতির উন্নয়নে নারীশিক্ষাকে বিকল্পহীন হিসেবে তুলে ধরেন। একইভাবে 'মাদার তেরেসা' প্রবন্ধে মাদার তেরেসা গরিব, এতিম, পঙ্গু, রোগাক্রান্ত মানুষকে সেবা দ্বারা সুস্থ করে তোলেন। মাদার তেরেসা ও বেগম রোকেয়ার মাঝে মানবতার কল্যাণে নিজেদেরকে উৎসর্গ করার অনুপ্রেরণা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সুতরাং বলা যায়, মন্তব্যটি সঠিক।
Related Question
View Allসেবা কাজের জন্য মাদার তেরেসার প্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ সম্মাননা হলো নোবেল পুরষ্কার।
বাংলার মানুষের প্রতি মাদার তেরেসার বিশেষ দরদ ছিল বলেই তিনি গাউন ছেড়ে বাঙালি নারীর পোশাক শাড়ি পরেছিলেন।
বাংলার মানুষের জন্য মাদার তেরেসার বিশেষ দরদ ছিল। বাংলার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা মোচন ও তাদের সেবায় কাজ করার জন্য তিনি মনে মনে তাগিদ অনুভব করছিলেন। তাই বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে তিনি বাঙালির জীবনকে শান্তিতে ভরিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন। বাংলার মানুষের জন্য তাঁর এ বিশেষ দরদ থেকেই তিনি গাউন ছেড়ে বাঙালি নারীর পোশাক শাড়ি পরেছিলেন।
উদ্দীপকের রহিমা খাতুনের টাকা বাঁচানোর কাজটিতে মাদার তেরেসা নোবেল পুরষ্কারের অর্থ ক্ষুধার্ত মানুষকে দেওয়ার ঘটনার প্রতিফলন ঘটেছে।
মানুষের মহত্ত্ব আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তাঁদের অনুসরণে আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্রসর হই। সমাজে নিগৃহীত মানুষের প্রতি সবাই সাহায্যের হাত বাড়াই।
'মাদার তেরেসা' প্রবন্ধে মাদার তেরেসার মহত্ত্বের কথা বলা হয়েছে। সেবা কাজের সম্মাননাস্বরূপ প্রাপ্ত পুরষ্কারের অর্থ তিনি দান করেছেন গরিব-দুঃখীদের সেবার জন্য। আর নোবেল পুরস্কার প্রদান উপলক্ষে যে ভোজসভার আয়োজন করা হয়েছিল সেটা বাতিল করে ক্ষুধার্ত মানুষকে সেই অর্থ দেওয়া হয়। উদ্দীপকের রহিমা খাতুন তার নিজের ঈদের কেনাকাটা থেকে টাকা বাঁচিয়ে সবচেয়ে গরিব ও লেখাপড়ায় আগ্রহী মহিলাকে পুরষ্কার দেন। উদ্দীপকের রহিমা খাতুনের টাকা বাঁচানো তাই মাদার তেরেসার ঘটনার প্রতিফলন মনে হয়।
"উদ্দীপকের রহিমা খাতুনের চেয়ে মাদার তেরেসার সেবামূলক কাজের পরিধি ছিল ব্যাপক কিন্তু তাদের লক্ষ্য অভিন্ন।"- কথাটি যথার্থ হয়েছে।
ছোট ছোট উদ্যোগ থেকেই মানুষের কাজের পরিধি আরও ব্যাপক ও 'বিস্তৃত হয়। মহৎ মানুষেরা কালে কালে দেশে দেশে এর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
উদ্দীপকের রহিমা খাতুন প্রতিবেশী নিরক্ষর মহিলাদের অক্ষরজ্ঞান দিতে শুরু করেন। বেতন ছাড়াই তিনি এ কাজ করেন। এছাড়া ঈদের কেনাকাটা থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে গরিব ও লেখাপড়ায় আগ্রহী মহিলাদের পুরষ্কার দেন। 'মাদার তেরেসা' প্রবন্ধের মাদার তেরেসা সেবার ব্রত নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তাঁর সেবা কোনো দেশ বা সমাজে সীমাবদ্ধ ছিল না। বাংলাদেশ থেকে শুরু করে পৃথিবীজুড়েই তাঁর সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
উদ্দীপকের রহিমা খাতুনের চেয়ে মাদার তেরেসার সেবামূলক কাজের পরিধি ব্যাপক হলেও উভয়ের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন। অতএব রলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য মাদার তেরেসা কর্তৃক স্থাপিত প্রতিষ্ঠানটির নাম 'নবজীবন আবাস'।
“ধর্মের ফারাক, দেশের ভিন্নতা, জাতির পার্থক্য মাদার তেরেসা কখনও বিবেচনায় নেননি।"- কারণ তিনি মানুষকেই সবচেয়ে বড় করে দেখেছিলেন।
মাদার তেরেসা ছিলেন একজন অসাধারণ মানবসেবী। যেখানে রোগ, শোক, দুঃখ-দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগের নির্মমতা সেখানে মাদার তেরেসা তাঁর সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিভিন্ন জায়গা, দেশ ও মানুষের মাঝে ছুটে গিয়েছেন তাদের বিপদ। তিনি দেশ, ধর্ম, জাতির পার্থক্য না করে সেবাকাজে মানুষকেই বড় করে দেখেছেন। মানুষকে ভালোবেসে তিনি মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। তার কাছে জাত-ভেদ পার্থক্য ছিল না। তার কাছে মানুষের একমাত্র পরিচয় ছিল মানুষ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
