সামাজিক কার্যাবলি শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে পরিবার।
যে পরিবার পরিকল্পনা মাফিক গঠিত হয় তাকে পরিকল্পিত পরিবার বলে। পরিকল্পিত পরিবারে সদস্যরা মা-বাবার সান্নিধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যমে বেড়ে ওঠে। এর ফলে তাদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা দেখা যায় না। কিন্তু পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেশি হলে অর্থনৈতিক সমস্যা বেশি হয় এবং সদস্যরা বিভিন্ন অপরাধ কর্মে লিপ্ত হয়।
উদ্দীপকে মাতৃবাস এবং নয়াবাস পরিবার ব্যবস্থার কথা বলা রয়েছে। মাতৃবাস পরিবারে পাত্র বিয়ের পর পাত্রীর পিতৃগৃহে স্ত্রীসহ বসবাস করে। উপজাতীয় গারো পরিবারগুলোতে মাতৃবাস পরিবার দেখা যায়। নয়াবাস পরিবারে স্বামী-স্ত্রী বিবাহের পর নতুন বাড়িতে দাম্পত্য জীবন শুরু করে।
রোমানা তার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে দেখে সেখানকার মেয়েরা বিয়ের পর স্বামীসহ নিজের বাবার বাড়িতে বসবাস করে। যা মাতৃবাস পরিবারকে নির্দেশ করছে। অন্যদিকে তার বড় ভাই তার কর্মস্থলের সুবিধার জন্য স্ত্রীকে নিয়ে নতুন বাড়িতে বসবাস করছে। যা নয়াবাস পরিবার ব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বর্তমানে শহরাঞ্চলে নয়াবাস পরিবার দেখা যায়।
সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে পরিবারের গঠন ও আকারের মধ্যে পরিবর্তন ঘটেছে।
আদিকাল থেকে মানুষ যখন দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে শুরু করে তখন থেকে বিভিন্নভাবে বিভিন্নরকম পরিবার গড়ে ওঠে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নানা ধর্মাবলম্বী ও গোত্রের লোকদের মধ্যে বিবাহ সম্পর্কিত রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠানের পার্থক্যের ভিত্তিতে পরিবারেরে বিভিন্ন রূপ দেখা যায়।
উদ্দীপকে মাতৃবাস এবং নয়াবাস পরিবার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। এ দুটি পরিবার ব্যবস্থা ছাড়াও বাংলাদেশে আরো বিভিন্ন ধরনের পরিবার দেখা যায়। পিতৃপ্রধান পরিবারের ক্ষমতা ও নেতৃত্ব একজন পুরুষের ওপর ন্যস্ত থাকে। এই পরিবারে পুরুষের মাধ্যমে বংশ পরিচয় নির্ধারিত হয়। যখন বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রী স্বামীর পিতৃগৃহে বাস করে 'তখন তাকে পিতৃবাস পরিবার বলে।
স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের অবিবাহিত সন্তানদের নিয়ে গঠিত পরিবার হলো অণু পরিবার। আবার পরিবারের স্বামী-স্ত্রী, সন্তান তার বাবা-মা, ভাই- বোন এবং নিকট আত্মীয়স্বজন নিয়ে একত্রে বসবাস করে তখন তাকে যৌথ পরিবার বলে। আবার যখন স্বামী-স্ত্রী তাদের বিবাহিত সন্তান ও নাতি-নাতনি নিয়ে একত্রে বসবাস করে তখন তাকে বর্ধিত পরিবার বলে।
একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রীলোকের বিবাহের মাধ্যমে যে পরিবার গড়ে ওঠে তা একক বিবাহভিত্তিক পরিবার। যদি কোনো পুরুষ একাধিক বিবাহ করে বা একের অধিক স্ত্রী নিয়ে বসবাস' করে তখন তাকে বহু স্ত্রী বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে। যখন কোনো ব্যক্তি নিজের গোত্রের বাইরে বিয়ে করে তখন তাকে বহির্গোত্র বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে। যখন কোনো ব্যক্তি নিজ গোত্রের মধ্যে বিয়ে করে তখন তাকে অন্তর্গোত্র বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে। সুতরাং মাতৃবাস ও নয়াবাস ছাড়াও উপরে উল্লিখিত বিভিন্ন ধরনের পরিবার ব্যবস্থা বাংলাদেশের সমাজে বিদ্যমান।
Related Question
View Allপরিবারের সুখ সমৃদ্ধির কথা চিন্তা করে পরিকল্পিত উপায়ে পরিবার গঠন করাকে পরিকল্পিত পরিবার বলে।
বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী যে নতুন সংসার শুরু করে তাকে নয়াবাস পরিবার বলে।
পাশ্চাত্য সমাজে এই ধরনের পরিবারের সংখ্যা অধিক। আমাদের দেশে বর্তমানে পেশাগত কারণে এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা শহরাঞ্চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে
যৌথ পরিবারে বেড়ে ওঠা সজল যখন রাঙামাটিতে গারো সমাজের একটি বিয়েতে অংশগ্রহণ করে তখন সে কৌতূহলী হয়ে যায়।
নতুন পরিবেশ, নতুন পদ্ধতিতে সংঘটিত বিবাহ উৎসব সজলকে অবাক করে দেয়। কারণ সে যে বিয়েতে অংশগ্রহণ করেছিল সেখানে স্বামীরা বিয়ের পর মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করে। অর্থাৎ এটি একটি মাতৃপ্রধান পরিবার।
মাতৃপ্রধান পরিবারের ক্ষমতা ও নেতৃত্ব একজন মহিলার ওপর ন্যস্ত থাকে। এখানে স্ত্রী লোকের অধিকার পুরুষের চেয়ে বেশি এবং স্ত্রীলোকের মাধ্যমে বংশ পরিচয় নির্ধারিত হয়। পরিবারের ক্ষমতাভিত্তিক হিসেব করলে এটি মাতৃপ্রধান পরিবার হিসেবে পরিচিত। পরিবারের সকল দায়দায়িত্ব এখানে মাতা বা প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীলোকই নেতৃত্ব দেয়। সজল বিয়েতে এ সকল বিষয়গুলো দেখেই কৌতূহলী হয়েছিল। আমাদের সমাজে আমরা পিতৃতান্ত্রিক পরিবারে বসবাস করি। যেখানে বিয়ের পর স্ত্রী পুরুষের অধিকারী হয়ে থাকে। কিন্তু গারো সমাজের এই পরিবারের নতুন পরিবেশ, নতুন বিবাহ পদ্ধতি সজলকে কৌতূহলী করে তোলে।
সজল যে পরিবারে বসবাস করে সেটি পরিবারের কাঠামো বা আকারানুযায়ী যৌথ পরিবারের অন্তর্গত।
যৌথ পরিবারে পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী, সন্তান-সন্ততিসহ একত্রে বসবাস করে। এ ধরনের পরিবারে চাচা-চাচি ও তাদের সন্তান-সন্ততি বসবাস করতে পারে।
সজল এরূপই একটি যৌথ পরিবারে বসবাস করে, যেখানে তাদের সাথে চাচা-চাচি ও তাদের সন্তানাদিও রয়েছে। কৃষিভিত্তিক সমাজে যৌথ পরিবারে বয়ষ্ক ব্যক্তি পরিবারের প্রধান। তার হাতে সম্পত্তির অধিকার থাকে এবং তিনি পরিবারের অর্থনৈতিক বিষয় দেখাশুনা করেন।
যৌথ পরিবারে শিশুদের লালনপালনে সমস্যা হয় না। ছোটরা বড়দের সম্মান ও বড়রা ছোটদের সাথে স্নেহের সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। যৌথ পরিবারের ছেলেমেয়েরা সহনশীল হয়। ছেলেমেয়েদের সমস্যা সমাধানে বাবা-মা ভূমিকা রাখে। সকলে মিলেমিশে যৌথ পরিবারে ভাগ করে থাকে। ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে গড়ে তুলতে যৌথ পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। সজলের পরিবারটিও যৌথ পরিবার। এধরনের পরিবারে সকলে মিলেমিশে বিভিন্ন আনন্দ উৎসবে অংশগ্রহণ করে।
সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে সমাজের রূপান্তর।
পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বলতে বোঝায় পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন কাজে একে অপরের প্রতি নির্ভর করা।
পারস্পরিক বিশ্বাস ও নির্ভরশীলতা পরিবারের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। পারস্পরিক বিশ্বাস যত মজবুত হয় পরিবারের মধ্যে সহযোগিতা ও সমঝোতা তত বেশি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া সুখে দুঃখে একে অপরের অংশীদার হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!