সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারই পরিচালনা।
আর্থিক আয় ও প্রকৃত আয় যোগ করে পরিবারের মোট আয় হিসাব করা হয়।
প্রত্যেক পরিবার তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন ও চাহিদা পূরণ করার জন্য মোট আয়ের কিছু অংশ ব্যবহার করে এবং কিছু অংশ জমা রাখে। এই জমাকৃত আয় আবার বিভিন্নমুখী কাজে ব্যবহার করা যায়। যেমন- বাড়ি ও জমির ট্যাক্স পরিশোধ করা।
পরিবারের মোট অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করার সময় ব্যয় সম্পর্কে জানা দরকার।
বাজেট পরিবারের আয়-ব্যয়ের ওপর নির্ভর করে। তাই যে সকল বিষয়ের ওপর পরিবারের ব্যয় নির্ভর করে সেগুলো সম্পর্কে লাবনীর সচেতন থাকা প্রয়োজন ছিল।পরিবারের সদস্য সংখ্যার ওপর ব্যয়ের পরিমাণ নির্ভর করে। সদস্য সংখ্যা বেশি হলে অর্থ ব্যয় বেশি হবে এবং কম হলে ব্যয়ও কম হবে। পরিবারের জীবনযাত্রার মান যেমন পারিবারিক ব্যয়ও সেরকম হবে। জীবনযাত্রার মান উন্নত হলে পারিবারিক ব্যয় বেশি হবে। আয়ের ওপর ব্যয় নির্ভর করে। পরিবারের আয় যখন বেশি হয় তখন ব্যয়ও বেশি হয়। কিন্তু যখন আয় কম হয় এবং চাহিদা বেশি থাকে তখন পরিবারকে সচেতনভাবে ব্যয় করতে হয়। আবার বাসা থেকে যদি কর্মস্থল ও সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব বেশি হয়, তাহলে এ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পায়। যে পরিবার যে বিষয়টিকে মূল্য দেয়, তার ওপর পরিবারের ব্যয় নির্ভর করে। অর্থাৎ কোনো পরিবার শিক্ষাকে বেশি মূল্য দেয়, কেউ বিনোদনকে মূল্য দেয়, কেউ সদস্যদের শখ বা অভ্যাসকে গুরুত্ব দেয়। এগুলোর জন্যও কিছু অর্থ বরাদ্দ রাখতে হয়। কারও হাঁস-মুরগি পালনের শখ, কারও ডাকটিকিট সংগ্রহ, কারও বই পড়া, ভ্রমণ প্রভৃতির শখ থাকে। এ অনুযায়ী অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে।
সুতরাং, পরিবারের ব্যয় সম্পর্কে সচেতন থাকলে লাবণী উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যায় পরতো না।
লাবনীর সহকর্মীর বক্তব্যটি হলো উত্তম বাজেট তৈরি করতে হলে মোট আয়ের পাশাপাশি আরো কিছু বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
লাবনী বাজেট তৈরি করে চলে না। কক্সবাজার যাওয়ায় মাসের ২০ তারিখেই তার টাকা শেষ হয়ে যায়। এই সমস্যা প্রতিহত করতে বাজেট তৈরির সময় তাকে কতগুলো বিষয় বিবেচনা করতে হবে সেগুলো হলো-
১. তালিকাভুক্ত প্রতিটি দ্রব্যের মূল্য নির্ধারণ করে মোট মূল্য বের করতে হবে।
২. পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যের তালিকা তৈরি করতে হবে।
৩. পরিবারের সকলের মতামত জানতে হবে।
৪. যে সময়ের বাজেট করা হবে, সে সময়ের আয়ের হিসাব করতে হবে।
৫. আনুমানিক আয়ের সাথে সম্ভাব্য ব্যয়ের সমতা রক্ষা করতে হবে।
৬. সঞ্চয়ের ব্যবস্থা বাজেট পরিকল্পনায় থাকতে হবে।
৭. সব শেষে বাজেটটি বাস্তবমুখী কি না সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন- প্রত্যেক সদস্যদের প্রয়োজনগুলোর দিকে খেয়াল রাখা, জরুরি অবস্থার মোকাবিলা করা, বাড়তি আয় হাতে রাখা প্রভৃতি।
লাবনীকে এই সব বিষয় বিবেচনা করে বাজেট তৈরি করতে হবে।
Related Question
View Allআর্থিক আয় হলো দেশের প্রচলিত মুদ্রা অর্জন করা।
নির্দিষ্ট সময়ে আয় অনুযায়ী ব্যয় ও সঞ্চয় করার পূর্ব পরিকল্পনাকে বাজেট বলে।
বাজেটের মাধ্যমে পরিবারের আয়কে প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী ব্যয় করা যায়। নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট আয় অনুযায়ী কোন খাতে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হবে তা নির্ধারণ করা হয় বাজেটের মাধ্যমে। এটি অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে পারে না, কিন্তু অর্থকে পরিবারের সর্বাধিক প্রয়োজনে ব্যয় করে চাহিদাগুলো সহজেই মেটাতে পারে।
সুতরাং, বাজেট আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
ছক 'A' মানবীয় সম্পদের ধারণা দেয়।
পরিবার লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন ধরনের সম্পদ ব্যবহার করে। সম্পদ অর্জনে মানবীয় ও বস্তুগত এই দুই ধরনের হয়।
মানবীয় সম্পদ মানুষের অন্তর্নিহিত গুণাবলি। এগুলো মানুষকে বিভিন্ন ধরনের সম্পদ অর্জনে সাহায্য করে। এগুলো হলো- জ্ঞান, দক্ষতা, কাজ করার ক্ষমতা, বুদ্ধি, অভিজ্ঞতা, আগ্রহ, মনোভাব, ধৈর্য, শক্তি ইত্যাদি। পরিবারের প্রতিটি সদস্য সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের দক্ষতা, জ্ঞান, বুদ্ধি, শক্তি ইত্যাদি মানবীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে সচ্ছলতা বজায় রাখারচেষ্টা করে। মানুষের এই চেষ্টা এবং সচ্ছলতা বজায় রাখার জন্য ব্যবহৃত শ্রম, জ্ঞান, দক্ষতা ইত্যাদি মানবীয় সম্পদের অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, কম দামি ভিটামিনসমৃদ্ধ খাদ্য হলো শাকসবজি। কিন্তু অনেকেই শাকসবজি খেতে চায় না। এক্ষেত্রে যদি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যায় তবে তা পরিবারের জন্য বড় সম্পদ। আবার খাদ্যাভাসের এ পরিবর্তনকে সহজভাবে গ্রহণ করার মনোভাবও একটি সম্পদ। মানবীয় সম্পদ অস্পর্শনীয়, এগুলো কেউ কাউকে ধার দিতে পারে না। এ সম্পদ পারস্পরিক বিনিময়যোগ্য নয়। এগুলো ব্যক্তির একান্ত নিজস্ব সম্পদ।
ছক 'A' এর যথার্থ ব্যবহার পরোক্ষভাবে 'B' এর সমৃদ্ধি ঘটায়।
ছক 'B' তে আছে অর্থ, জমি, গহনা ও বাড়ি-ঘর। এগুলো বস্তুগত সম্পদ। মানবীয় সম্পদ ছাড়া যেসব বস্তু, ও সেবা মানুষের অভাব মেটায় সেগুলো বস্তুগত সম্পদ। যেমন- জমি, অর্থ, গহনা, বাড়ি, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সুবিধা অর্থাৎ, স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট, পার্ক, পরিবহনের সুবিধা, লাইব্রেরি ইত্যাদি। পরিবার এ ধরনের সম্পদকে ব্যবহার করে লক্ষ্য অর্জন করে।সময়, শক্তি, জ্ঞান, দক্ষতা দিয়ে পরিবারের আয় বাড়ানো যায়। যেমন-দর্জির কাছে পোশাক তৈরি না করে দক্ষতা, জ্ঞান ও ধৈর্যকে কাজে লাগিয়ে নিজে তৈরি করলে খরচ বাঁচানো যায়। ছোট ভাইবোন বা ছেলেমেয়েকে পড়ালে ব্যয় হ্রাস পায়। এছাড়া অন্য জায়গায় টিউশনি করে পরিবারের আয়ও বাড়ানো যায়। বাড়ির বারান্দা, আঙিনা ও ছাদে শাকসবজি ও ফলের গাছ লাগালে নিজেদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। এর ফলে খাদ্য খাতে ব্যয় কমানো যাবে। আর যদি বেশি পরিমাণে উৎপাদন করা যায় তাহলে বিক্রি করে অর্থ উপার্জনও করা যাবে। অনেকেই ছাদ, বারান্দা ও অঙিনায় হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, কবুতর, কোয়েল পাখি ইত্যাদি পালন করে। এর ফলে পরিবারের আমিষের চাহিদা পূরণ হয় এবং খাদ্য খাতে ব্যয় হ্রাস পায়। নিজের দক্ষতা, ধৈর্য ও জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের গৃহসজ্জা সামগ্রী তৈরি করে ঘর সাজানো যায়। এছাড়া এটাকে ব্যবসায়ের মাধ্যম হিসেবে নিয়ে অর্থ উপার্জনও করা যায়।
এভাবেই মানবীয় সম্পদ ব্যবহার করে বস্তুগত সম্পদ অর্থ উপার্জন করা যায়। আর অর্থের মাধ্যমেই অন্যান্য বস্তুগত সম্পদ কেনা সম্ভব হয়।
সুতরাং, ছক 'A' অর্থাৎ, মানবীয় সম্পদের যথার্থ ব্যবহার পরোক্ষভাবে | ছক 'B' বা বস্তুগত সম্পদের সমৃদ্ধি ঘটায়।
নির্দিষ্ট সময়ে পরিবারের অর্জিত অর্থ দ্বারা কী পরিমাণ দ্রব্য বা সেবা ক্রয় করা যায় তার প্রকাশিত মূল্যকে প্রকৃত আয় বলে।
বাজেট হলো আয় ও ব্যয়ের আনুমানিক হিসাব।
বাজেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট আয়ে কোন খাতে কী পরিমাণ ব্যয় করা হবে তা নির্ধারণ করা হয়। এটি হলো সচেতনভাবে অর্থ ব্যয়ের নির্দেশিকা। তাই বাজেট অপচয় রোধ করে এবং অর্থকে সর্বাধিক প্রয়োজনে ব্যয় করে চাহিদা মেটায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!