আবাবিল এক ধরনের ছোট ছোট পাখি। যা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে চলে।
আয়াতুল কুরসি অত্যন্ত বরকতময় আয়াত। রাসুল (স.) এ আয়াতকে সবচেয়ে উত্তম আয়াত বলে অভিহিত করেছেন। নবি (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি নিয়মিত পাঠ করে, তার জন্য বেহেশতে প্রবেশের পথে একমাত্র মৃত্যু ব্যতীত আর কোনো বাধা থাকে না। (নাসাই) অর্থাৎ মৃত্যুর সাথে সাথেই সে বেহেশতের আরাম-আয়েশ উপভোগ করতে শুরু করবে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি সূরা ফিল অবতরণের প্রেক্ষাপটের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আরবের ইয়ামান প্রদেশের শাসনকর্তা 'আবরাহা' ছিল খ্রিষ্টান। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে সে কাবাগৃহ ধ্বংসের জন্য মক্কা নগরীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। বহু সৈন্য সংগ্রহ করে এবং তেরটি বিশালকায় শক্তিশালী হাতি নিয়ে অগ্রসর হয়। আবরাহার বাহিনী যখন কাবা অভিমুখে রওয়ানা হলো, এমন সময় আল্লাহ তায়ালা সমুদ্রের দিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি প্রেরণ করলেন। এ পাখিগুলো দুই পায়ে দুটি এবং ঠোঁটে একটি করে কংকর নিয়ে আবরাহার বাহিনীর ওপর নিক্ষেপ করল। ফলে আবরাহার সৈন্যবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেল। আর আবরাহা আহত অবস্থায় পালিয়ে গেল। পরবর্তীতে তার ক্ষতস্থানে পচন ধরে এবং ভয়ঙ্কর কষ্টের পর মারা যায়। অনুরূপ অবস্থা উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে। লালপুর এলাকার প্রাচীন মসজিদটিতে দূর-দূরান্ত থেকে নামাজ পড়তে আসে। এতে ঈর্ষান্বিত হয়ে নীলগঞ্জ এলাকার এক ধনাঢ্য ব্যক্তি একটি আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কিন্তু মানুষের সাড়া না পেয়ে সে ক্ষীপ্ত হয়ে লালপুর মসজিদে হামলার প্রস্তুতি নেয়। আল্লাহর বিশেষ সাহায্যে হামলার জন্য এগিয়ে আসা দুর্বৃত্তরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তাই দেখা যায়, উক্ত ঘটনাটি সূরা ফীল নাযিলের প্রেক্ষাপটের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ইমাম সাহেব সূরা নাসরের শিক্ষা অনুযায়ী উপদেশ দিয়েছেন। এ সূরার তাৎপর্য অত্যন্ত ব্যাপক।
সূরা নাসরেই আল্লাহর সাহায্যের জন্য প্রশংসা জ্ঞাপন করা হয়েছে।
সূরা আন-নাসর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সূরা। এটি নাযিল হওয়ার সাথে সাথে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ইসলামের পরিপূর্ণতা চলে এসেছে। তাই মহানবি (স.) অচিরেই দুনিয়া থেকে বিদায় নিবেন। এ বিষয়টি অনুভূত হওয়ায় সাহাবাদের মাঝে শোকের ছায়া দেখা দেয়। তবে সান্ত্বনার বিষয় ছিল তখন দলে দলে লোক ইসলাম কবুল করছিল। এমন পরিস্থিতিতে সাহাবায়ে কেরাম ধৈর্যধারণ করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে করণীয় বিষয় সম্পর্কে সতর্ক হয়েছিলেন। তাদের এই কর্মকান্ড আমাদেরকে শিখিয়ে দেয় কঠিন বিপদে যেন আমরা ব্যাকুল হয়ে না পড়ি এবং ধৈর্য সহকারে কর্তব্য পালন করি। উদ্দীপকের ইমাম সাহেব সবাইকে আহ্বান জানিয়ে এলেন যে, আসুন আমরা আল্লাহর সাহায্যের জন্য প্রশংসা জ্ঞাপন করি। আর নিজেদের ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি।
সর্বোপরি আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা ঘোষণা করতে হবে। যাবতীয় ত্রুটি ও পাপ কাজের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। সুতরাং বলা যায়, সূরা নাসরের তাৎপর্য অত্যন্ত ব্যাপক।
Related Question
View All'ইলমুল আহকাম্' হলো বিধিবিধান সম্পর্কিত জ্ঞান।
লাইলাতুল কদর বা কদর রাত অত্যন্ত মর্যাদাবান ও মহিমান্বিত রাত। আল্লাহ তায়ালা এ রাতে পবিত্র কুরআন নাযিল করেন। এ রাতের ইবাদত হাজার মাস একাধারে ইবাদত করার চাইতে উত্তম। আমাদের আয়ুষ্কাল খুবই সীমিত। এ অবস্থায় এ রাতে ইবাদত করলে আমাদের নেকির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এটি আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নিয়ামতস্বরূপ। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদেরকে রহমত, বরকত ও শান্তির সওগাত দিয়ে প্রেরণ করেন। এ রাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুখ-শান্তি ও রহমত বিরাজ করতে থাকে।
মুহিবের দাদা বিশ্বজগৎ ধ্বংসের তথ্য সূরা আল-যিলযালে পেয়েছেন।
সূরা যিলযালে কিয়ামত বা মহাপ্রলয়ের অভিনব বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ যখন সমগ্র দুনিয়া ধ্বংস করে দেবেন তখন সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাবে। কবর থেকে মানুষ বের হয়ে আসতে থাকবে। সমস্ত মানুষ সেই মহান দিনে নিজ নিজ কৃতকর্মের হিসাব প্রদান করতে থাকবে। প্রত্যেকে দুনিয়াতে করা তার প্রতিটি সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম পাপপুণ্যের হিসাব দিতে থাকবে এবং তা অনুযায়ী প্রতিদানস্বরূপ পুরষ্কার অথবা তিরষ্কারে ভূষিত হবে। উক্ত অবস্থার সাথে মুহিবের দাদার বক্তব্যের মিল রয়েছে। তিনি বলেছেন, "কোনো এক সময় এমন এক ভূমিকম্প সংঘটিত হবে, তখন গাছপালা খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে, পাহাড়গুলো তুলোর মতো উড়বে; সব কিছু চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।" সুতরাং বলা যায়, মুহিবের দাদা বিশ্বজগৎ ধ্বংস সংক্রান্ত তথ্য সূরা আল-যিলযালে পেয়েছেন।
মুহিবের দাদা 'মুক্তির সনদ' বলতে আল-কুরআনকে বুঝিয়েছেন। কেননা আল-কুরআনই বিশ্ববাসীকে হিদায়েতের সুপথ দেখাতে পারে।
মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সার্বিক দিক ও বিভাগের একটি সুসংহত ও সুসমন্বিত বিধান কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। এ মর্মে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- "এ হচ্ছে সমগ্র মানুষের বিধান, মুত্তাকিদের জন্য উপদেশ ও পথনির্দেশনা।" (সূরা আলে-ইমরান: ১৩৮) আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, "আমি এ কিতাবে কিছুই বর্ণনা করা বাদ রাখিনি।" (সূরা আন-আম ৩৮) অন্যত্র আল্লাহ বলেন, "হে বিশ্বমানবতা তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে এসেছে উপদেশ ও তোমাদের অন্তরে যা আছে তার প্রতিকার এবং বিশ্ববাসীদের জন্য পথনির্দেশস্বরূপ।" (সূরা ইউনুস: ৫৭) তিনি আরও
বলেন, "আমি তোমার প্রতি (হে মুহাম্মদ) এ কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা আত্মসমর্পণকারীগণের জন্য সবকিছুর বিশদ বিবরণ সুস্পষ্ট পথনির্দেশক ও সুসংবাদ।" (সূরা আন-নাহল: ৮৯) আল্লাহ তায়ালা আরও বর্ণনা করেন- "এ কিতাব এটি তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তুমি মানুষদেরকে তাদের পালনকর্তা নির্দেশক্রমে বের করে নিয়ে আসতে পারে অন্ধকার থেকে আলোকময় জীবনে, তাঁর পথে যিনি পরাক্রমশালী, প্রশংসিত।" (সূরা ইবরাহিম: ১) উদ্দীপকের মুহিবের এক প্রশ্নের জবাবে তার দাদা বলেন, আমাদেরকে মুক্তির সনদ হিসেবে যে নির্ভুল গ্রন্থটি দেওয়া হয়েছে, তা অনুসরণ করা উচিত।
অতএব উক্ত আলোচনা হতে বোঝা যায়, আল-কুরআনই বিশ্বমানবতার মুক্তির সনদ। তাই এ গ্রন্থের গুরুত্ব অপরিসীম।
আবাবিল এক ধরনের ছোট ছোট পাখি। যা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে চলে।
আয়াতুল কুরসি অত্যন্ত বরকতময় আয়াত। রাসুল (স.) এ আয়াতকে সবচেয়ে উত্তম আয়াত বলে অভিহিত করেছেন। নবি (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি নিয়মিত পাঠ করে, তার জন্য বেহেশতে প্রবেশের পথে একমাত্র মৃত্যু ব্যতীত আর কোনো বাধা থাকে না। (নাসাই) অর্থাৎ মৃত্যুর সাথে সাথেই সে বেহেশতের আরাম-আয়েশ উপভোগ করতে শুরু করবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!