লালসার লালামাখা ক্রোধে' স্বার্থান্বেষী শক্তির শাসন-শোষণের কালানুক্রমিক অতীত কাহিনির মধ্য দিয়ে আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের পরিচয় খুঁজে পাওয়া যায়।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আমাদের গোলাম বানিয়ে রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তারা এ জনপদকে কুক্ষিগত করতে বারবার আক্রমণ ও শোষণ করেছে। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে বাঙালি জাতি লড়াই করে যাদের বিরোচিত স্বভাবের পরিচয় দিতে ভুল করেনি।
উদ্দীপকে 'লালসার লালামাখা ক্রোধ' বলতে এদেশকে কুক্ষিগত করার লালসায় যারা এখানে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে তাদেরকে বোঝানো হয়েছে। বিভিন্ন পরিচয়ে তারা অস্ত্র-কামান নিয়ে এখানে এসেছিল দখল করার মানসিকতায়। বাঙালির বুকে তারা ক্ষত চিহ্ন এঁকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেছিল। নির্যাতিত হতে হতে যেন এ মাটি ক্ষত সহ্য করার ক্ষমতা অর্জন করেছে। সেই লোভীগোষ্ঠী তাদের স্বার্থচরিতার্থ করতে এদেশের আকাশ চিরেছে, বিদীর্ণ বাংলাভূমি যেন তাদের আঘাতে নীল হয়ে গেছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির হাজার বছরের সংগ্রামের ঐতিহ্য গাঁথা তুলে ধরা হয়েছে। কবি খুব সচেতন বিধায় তিনি আমাদের পূর্বপুরুষের বীরত্ব ও সংগ্রাম অতুলনীয় কাব্যিক গাঁথুনিতে উপস্থাপন করতে পেয়েছেন। তিনি বাঙালির শিকড়ের খবর তুলে ধরেছেন। আজ যে সমৃদ্ধ জাতির গৌরব আমরা বোধ করছি এর পশ্চাতে রয়েছে ঐতিহ্যের সংগ্রামী ইতিহাস। কালে কালে কত জনপদ এখানে ধ্বংস হয়েছে। অনেক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এখানে বাণিজ্য সুবিধা নিতে এসেছিল। তারা আমাদের পূর্বপুরুষদের অত্যাচার-নির্যাতন করে নিঃশেষ করতে চেয়েছে। তাদের সেই নৃশংস নখরের দাগ এখনো শুকায়নি। রক্তজবার মতো সেই ক্ষত এখনো সতেজ রয়েছে। তারা হিংস্র মাংসাশী শিকারির মতো খাবলে খেতে চেয়েছে এদেশের অমূল্য সম্পদ। উদ্দীপকেও কবি একই ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। বিভিন্ন জাতির' কোটি অশ্বারোহীর শাসন-শোষণের কথা তুলে ধরেছেন। যারা এ দেশের লালসা চরিতার্থ করতে এসে অসুরের মতো আচরণ করেছে। ভিনদেশিদের লোভের কারণে শাসন, শোষণ ও নির্যাতন ভোগ করার সঙ্গে উদ্দীপক ও 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার প্রেক্ষাপট একসূত্রে গাঁথা।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!