হিরণ্যধনু নিষাদদের রাজা ছিলেন।
কোনো লক্ষ্য অর্জনে বিশেষ যত্নের সাথে কঠোর সাধনার মধ্য দিয়ে বারবার চেষ্টা করাকেই বলে অধ্যবসায়। অধ্যবসায়ের মতো নৈতিক গুপটি চেষ্টা, উদ্যোগ, আন্তরিকতা, পরিশ্রম, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, একাগ্রতা ইত্যাদি গুণের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। তাই অধ্যবসায় হচ্ছে কতিপয় গুণের সমষ্টি। অধ্যবসায়ের সাহায্যে মানুষ অসাধ্যকে সাধন করে সামনে এগিয়ে যেতে পারে।
উদ্দীপকে লিপির সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের একলব্যের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে লিপি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে কিন্তু মেধাবী। চিত্রাংকনে তার গভীর মনোযোগ। তাই সে শহরে নামকরা চিত্রশিল্পী উমাদেবীর কাছে চিত্রাংকন শিখতে গিয়েছিল। কিন্তু লিপি দরিদ্র বলে উমাদেবী তাকে চিত্রাংকন শিখায়নি। লিপি বাড়িতে এসে উমাদেবীকে গুরু মনে করে চিত্রাংকন অনুশীলন শুরু করে। এতে একদিন সে শহরের নামকরা শিল্পী হয়ে যায়। অপরদিকে, পাঠ্যপুস্তকের একলব্যও কঠোর অধ্যবসায়ের ছারা ধনুর্বিদ্যা আয়ত্ত করলেন। একলব্য নিষাদ বংশীয় ব্যাধ ছিলেন বলে গুরু দ্রোণাচার্যের কাছে তাঁর ধনুর্বিদ্যা আয়ত্ত করা কেবল স্বপ্নই রয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তিনি হার মানেন নি, তাই তিনি গভীর বনে মাটি দিয়ে দ্রোণাচার্যের মূর্তি নির্মাণ করে মনে মনে তাঁকে গুরু মেনে অহর্নিশ তীর ধনুক দিয়ে অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষা করতে লাগলেন। এভাবেই কঠোর সাধনা, নিরলস পরিশ্রম আর ক্রমাগত অনুশীলনের দ্বারা একলব্য ধনুর্বিদ্যার প্রায় সকল কলাকৌশল আয়ত্ত করে ফেললেন এবং তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যার্জনে সক্ষম হলেন।
পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকের লিপির সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের একলব্যের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের লিপির সাফল্যের পিছনে রয়েছে অধ্যবসায়-উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকের লিপি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে কিন্তু মেধাবী। চিত্রাংকনে তার গভীর মনোযোগ। কিন্তু দরিদ্র বলে লিপিকে নামকরা চিত্রশিল্পী উমাদেবী চিত্রাংকন শেখায়নি। সেজন্য লিপি বাড়িতে এসে উমাদেবীকে গুরু মনে করে চিত্রাংকন অনুশীলন করে। অধ্যবসায়ের মাধ্যমে লিপি একদিন শহরের নামকরা শিল্পী হয়ে যায়। অধ্যবসায় একটি নৈতিক গুণ। সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যক্তিজীবনে যথার্থ শিক্ষিত ও চরিত্রবান হয়ে উঠতে যেমন অধ্যবসায়ের প্রয়োজন তেমনি সমাজের উন্নয়নেও প্রয়োজন অধ্যবসায়ী মানুষের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। মানুষ সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করে। সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি স্ব-স্ব দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করে তবে সমাজ হয়ে ওঠে শান্তিপূর্ণ। আর এর জন্য সমাজের প্রত্যেক মানুষের কাজের প্রতি একাগ্রতা, ধৈর্য, দায়িত্বশীলতা ও কর্তব্যপরায়ণ মনোভাব থাকতে হবে। আর এ গুণাবলির সমন্বয়ে যে বিশেষ নৈতিক গুণ মানুষের মধ্যে জাগ্রত হয় তাই হলো অধ্যবসায়। সভ্যতার শিখরে অধিষ্ঠিত আজকের বিশ্ব মানুষের সুদীর্ঘ দিনের অধ্যবসায়ের পরিণতি। যে জাতি যত বেশি অধ্যবসায়ী সে জাতি তত বেশি উন্নত। একটি জাতি যদি প্রকৃত অধ্যবসায়ী হয়ে ওঠে তবে সে জাতি তথা রাষ্ট্র অবশ্যই সুনাম ও গৌরবের অধিকারী হবে। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকের লিপির সাফল্যের পিছনে রয়েছে অধ্যবসায়।
Related Question
View Allকৌরব ও পাণ্ডবদের অস্ত্রগুরু ছিলেন দ্রোণাচার্য।
অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্য, কৌরব ও পান্ডবদের ছিল একটি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কুকুর। একদিন অর্মগুরু কৌরব ও পাণ্ডবদের অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষার পরীক্ষা নিতে গভীর বনে গেলেন। তাঁদের শিবিরের অল্প দূরেই ছিল একলব্যর সাধনার স্থান। একলব্য গভীর মনোনিবেশে অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষায় ব্যস্ত। এমন সময় কুকুরটি সেখানে এসে ঘেউ ঘেউ করে চিৎকার করাতে একলব্যের সাধনা ভেঙে যায়। যার জন্য একলব্য কুকুরটির মুখে বান নিক্ষেপ করেন।
মনোহর বাবুর কর্মকান্ডে যে নৈতিক গুণটি প্রকাশ পেয়েছে তা হলো দেশপ্রেম।
দেশপ্রেম বলতে বোঝায় দেশের প্রতি ভালোবাসা। মানুষ যেদেশে জন্মগ্রহণ করে, তার মাটি-জল আলো-বাতাস তার দেহকে পুষ্ট করে, তাকে বাঁচিয়ে রাখে। বড় হয়ে মানুষ তার মাতৃভূমির প্রতি মমত্ব অনুভব করে। মাতৃভূমির প্রতি এ মমত্ববোধই দেশপ্রেম। দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার নামই দেশপ্রেম। দেশপ্রেম ধর্মের অঙ্গ। উদ্দীপকের মনোহর বাবু গ্রামের উন্নয়ন ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত আছেন। রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ, হাসপাতাল নির্মাণ এবং সেখানে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া এসব কাজের মধ্য দিয়ে তিনি দেশপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। যিনি দেশপ্রেমিক, তিনি দেশের স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেন। তিনি সবসময় দেশ ও দেশবাসীর কল্যাণের জন্য কাজ করেন। দেশের কোনো বিপদে দেশপ্রেমিক কখনো নীরব থাকতে পারেন না। দেশের মঙ্গলের জন্য প্রয়োজন হলে নিজের জীবন বিসর্জন দিতেও দ্বিধাবোধ করেন না। দেশপ্রেম মানবজীবনের একটি মহৎ গুণ। মনোহর বাবুর কর্মকাণ্ডে দেশপ্রেম নামক নৈতিক গুণটিই প্রকাশ পেয়েছে।
হ্যাঁ, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মনোহর বাবুর নৈতিক গুণটির অবশ্যই প্রয়োজন আছে।
মনোহর বাবুর কর্মকাণ্ডে দেশপ্রেমের যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশপ্রেম ধর্মের অঙ্গ। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক ব্যক্তি নিজ স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে দেশের কল্যাণের। কথা চিন্তা করেন। তিনি দেশের উন্নতির জন্য কাজ করেন এবং দেশের মানুষকে ভালোবাসেন। উদ্দীপকের মনোহর বাবু তার গ্রামের উন্নয়ন ও মানুষের সেবায় যেসব কর্মকাণ্ড সম্পাদন করেন তার মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে দেশপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। দেশের উন্নতির জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করার মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমের। প্রকাশ-ঘটে। রাষ্ট্র যাতে সঠিকভাবে শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়, সেজন্য যোগ্য নাগরিক হিসেবে দেশপ্রেমিক বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। নিজের দেশের কল্যাণের জন্য দক্ষ নাগরিক হিসেবে নিজেকে। গড়ে তুলতে হয়। কেবল নিজের বা নিজের পরিবারের স্বার্থ দেখলেই। চলে না, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণের কথাও ভাবতে হয়। সমাজ তথা রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য সদা সচেষ্ট থাকতে হয়। এর নাম দেশপ্রেম। ত্যাগ ও তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে দেশপ্রেম নামক নৈতিক গুণটি অর্জন করতে হয়। দেশপ্রেম মানুষকে উদার করে, দেশের মানুষকে ভালোবাসতে উদ্বুদ্ধ করে, আত্মসুখ বিসর্জন দেওয়ার প্রেরণা দান করে। দেশপ্রেম মনুষ্যত্বের পরিচায়ক। যার মধ্যে দেশপ্রেম নেই তাকে যথার্থ মানুষ বলা যায় না। আত্মকেন্দ্রিক মানুষ কখনো দেশপ্রেমিক হতে পারে না। দেশপ্রেমিক। দেশের সম্পদ, দেশের স্বার্থ, দেশের মর্যাদা প্রভৃতিকে নিজের সম্পদ, নিজের স্বার্থ ও নিজের মর্যাদা বলে মনে করেন। তাই বলা যায়, মনোহর বাবুর কর্মকান্ডে দেশপ্রেমের যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।
দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার নার্স হচ্ছে দেশপ্রেম।
হাতে কাম, মুখে নাম'- এটি হরিচাঁদ ঠাকুরের অন্যতম উপদেশ। তিনি বলেছেন, গৃহকর্ম গৃহধর্ম করিবে সকল, হাতে কাম মুখে নাম ভক্তিই প্রবল। হরিচাঁদ ঠাকুর নিজেও সংসারী ছিলেন, তাই তিনি সংসারে থেকেই ধর্মচর্চা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনিই সবাইকে বুঝিয়েছেন যে, ধর্মচর্চার জন্য সংসার ত্যাগ করতে হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!