সেরেব্রাল পলসি এক ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা।
যে কর্ম পরিবেশ বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত নয় ও ঝুঁকিপূর্ণ তাকেই বিপজ্জনক কর্ম পরিবেশ বলে।
আমাদের দেশের শ্রম আইনে শিশুদের জন্য বিপজ্জনক কর্ম পরিবেশ নিষিদ্ধ। তারপরও অনেক শিশুরাই বিপজ্জনক পরিবেশে কাজ করে অঙ্গহানি, দৃষ্টিহানি, আগুনে পুড়ে যাওয়া প্রভৃতি দুর্ঘটনা ঘটে।
বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতার সাথে সম্পর্কিত রোগের নাম ও লক্ষণ উল্লেখ করা হলো:
| রোগের নাম | উপসর্গ |
| ১. মাইক্রোসেফালি | মাথার আকৃতি অস্বাভাবিক ছোট হয় ও এরা গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়। |
| ২. হাইড্রোসেফালি | মাথার ভেতরে তরল পদার্থ জমে থাকে। ফলে মাথার আকৃতি অস্বাভাবিক বড় হয়। |
| ৩. ডাউন সিন্ড্রোম | গোলাকার মুখমণ্ডল, তীর্যক চোখ, চোখের পাতা পুরু হয়। জন্মের সময় শিশু দুর্বল ও শিথিল থাকে। হাত, পা ও ঘাড় খাটো হয়। উপুড় হতে, বসতে ও হাঁটতে দেরি হয়। |
| ৪. ক্রিটিনিজম | শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বিলম্ব হয়। শিশু খুব ধীরে বেড়ে ওঠে। কপাল ছোট, মুখমণ্ডল ও হাত-পা ফোলা হয়। শিশুর দেহে থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন কম হয়। |
উল্লিখিত লক্ষণগুলো দেখে বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা শনাক্ত করা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত লিমন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। এই প্রতিবন্ধিতা রোধে তার বাবা-মায়ের কিছু বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত ছিল।
প্রতিবন্ধী শিশু যাতে জন্মগ্রহণ না করে এবং জন্মগ্রহণের পর যাতে প্রতিবন্ধিতার শিকার না হয় সেদিকে সবার সচেতনতা প্রয়োজন। তাই প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
গর্ভকালীন সময়ে লিমনের মাকে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খেতে হতো। পুষ্টিকর খাবার না খেলে অনেক সময় শিশু সময়ের আগেই জন্মগ্রহণ করে অথবা শিশু কম ওজনের হয়। এসব শিশু শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী হতে পারে। তাই লিমনের প্রতিবন্ধিতা রোধে তার মায়ের উচিত ছিল গর্ভকালীন সময়ে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। গর্ভকালীন সময়ে তার মাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ গ্রহণ করতে হতো। এর ফলে লিমন সুস্থ স্বাভাবিকভাবে জন্মগ্রহণ করত। তার বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা রোধে তার মায়ের উচিত ছিল গর্ভধারণের আগে রুবেলা ভাইরাসের টিকা নেয়া। এছাড়া জন্মের পর পরই তাকে কলোস্ট্রাম দুধ দেয়া। এতে তার বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা রোধ করা সম্ভব হতো। বেশি বয়সে সন্তান গ্রহণ বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতার অন্যতম কারণ। তাই বলা যায়, লিমনের বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা রোধে তার মায়ের এ বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত ছিল।
Related Question
View Allমা ও সন্তানের Rh উপাদানের মিল না থাকাকে Rh অসংগতা বা Rh incompatibility বলে।
কণার শিশুকে প্রতিবন্ধী শিশু হিসেবে শনাক্ত করা যায়।
কণার শিশুটি কোনো বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারে না। হাঁটা-চলাতেও তার সমস্যা রয়েছে। এটা মূলত তার রক্তে বিলিরুবিন (Bilirubin) বেড়ে যাওয়ার কারণেই হয়েছে।
রক্তে যদি বিলিরুবিনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় তবে মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি হয় এবং শিশু মানসিক প্রতিবন্ধী হয়। গর্ভকালীন সময়ে কণা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। তাছাড়া সে ঠিকমতো খাওয়া- দাওয়াও করেনি। অর্থাৎ নিজের প্রতি খেয়াল রাখেনি। ফলে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য যতটুকু পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন তার ঘাটতি হয়েছে। এ কারণেই কণার শিশুটির হাঁটা-চলার অর্থাৎ অঙ্গ সঞ্চালনমূলক বিকাশ ব্যাহত হয়েছে।
কণার অসচেতনতা তার শিশুর প্রতিবন্ধিতার কারণ বলে আমি মনে করি।
কণার শিশুটি প্রতিবন্ধী। গর্ভকালীন সময়ে কণার ম্যালেরিয়া হয়েছিল। তাছাড়া সে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করত না। সে নিজের প্রতি খেয়াল রাখত না।
গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার। কারণ গর্ভবতী মায়ের অপুষ্টির ফলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া গর্ভধারণের আগে বিভিন্ন প্রতিষেধক নেওয়াটাও জরুরি। গর্ভকালীন সময়ে কণার ম্যালেরিয়া হয়েছে। গর্ভস্থ শিশুর জন্য এ রোগের প্রভাব অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর ফলে শিশুর শারীরিক বিকলাঙ্গতার পাশাপাশি মানসিক প্রতিবন্ধিতাও হতে পারে। বর্তমানে কণার সন্তান কোনো কিছুর প্রতি বেশি মনোযোগ দিতে পারে না। এমনকি সে ঠিকমতো হাঁটতেও পারে না। এগুলো সবই কণার অসচেতনতার ফল।
মা ও সন্তানের Rh উপাদানের মিল না থাকাকে Rh অসংগতা বা Rh incompatibility বলে।
শিশুর শারীরিক গঠন যদি স্বাভাবিক না হয়, হাত অথবা পা না থাকে, কথা বলতে না পারে, চোখে না দেখে অথবা কম দেখে, বুদ্ধিমত্তা কম থাকে, সামাজিক আচরণ ও ভাব বিনিময় ঠিকমতো করতে না পারে, তবে এই ধরনের শিশুদের প্রতিবন্ধী শিশু বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!