পরিবার এমন একটি সংগঠন যেখানে স্বামী-স্ত্রীসহ সবাই একসাথে অবস্থান করে।
দুগ্ধদানকারী মায়ের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন অর্থাৎ যে মা তার সন্তানকে বুকের দুধ পান করান তার প্রতি যত্নশীল হওয়ার কথা বলা হয়েছে। যেমন- তার জন্য পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবস্থা করা, মা ও শিশুকে বেশি সময় একত্রে রাখার ব্যবস্থা করা, গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় কাজে মাকে সহায়তা করা অর্থাৎ বুকের দুধ খাওয়াতে মায়ের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া।
লীনা পরিবারের ভাঙ্গন রোধ এবং আর্থিক সংকট নিরসন করার চেষ্টা করে। কারণ তারা পারিবারিক বিপর্যয়ের স্বীকার।
লীনার বাবার চাকরির টাকায় সংসারের সচ্ছলতা আনতে পারে না। লীনা চেষ্টা করে ভাই ও মা-বাবার সংকট দূর করতে। পরিবারে কিশোর বয়সের সন্তানরাও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলির মাধ্যমে লীনা পারিবারিক সমস্যা নিরসন করতে পারে।
i. অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর ব্যবস্থা করা।
ii. অসুবিধা, দুঃখ, কষ্ট পরস্পরের মাঝে ভাগাভাগি করা।
iii. ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে শেখা।
iv. মানসিক চাপ মুক্ত থাকার চেষ্টা করা।
v. পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পরিস্থিতি মোকাবেলার মনোভাব তৈরিতে সাহায্য করা।
vi. ভাইবোনের সাথে অধিক সময় কাটানো।
vii. ভবিষ্যতে আর্থিক সংকট কাটানোর জন্য নিজেকে পেশায় নিয়োজিত করার প্রস্তুতি ও মানোযোগী হওয়া।
উপরিউক্ত বিষয়গুলো মেনে চলে লীনা পারিবারিক সমস্যা দূর করতে পারে।
প্রতিটি শিশুই পরিবার থেকে আদর-ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও বিশ্বাস পেতে চায়। তার জীবন চলার পথে যখন এগুলো বাধাগ্রস্ত হয় তখন তাকে বলে পারিবারিক বিপর্যয়।
মা-বাবার অসুস্থতা, মৃত্যুজনিত শূন্যতা, মা-বাবার পৃথক অবস্থান বা বিবাহ বিচ্ছেদ অথবা পরিবারের ভাঙ্গনের কারণে পারিবারিক বিপর্যয় হতে পারে। আর এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হচ্ছে আর্থিক সংকট।
লীনার বাবার মাসিক আয় কম। ফলে তাদের পরিবারে আর্থিক সংকট লেগে থাকে। আর এ কারণে তাদের মা-বাবার মধ্যে মনোমালিন্য হয়ে থাকে। মা-বাবার মৃত্যু সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। কারণ বাবাই বেশির ভাগ পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার অভাবে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। পরিবারের শিশুদের ভরণ-পোষণ, লেখাপড়ার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। মায়ের মৃত্যুতেও সন্তানরা দেখাশোনা, যত্ন ও পরিচর্যার অবহেলায় পড়ে। বাবার দীর্ঘদিনের অসুস্থতাও পরিবারের বিপর্যয় সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় টাকা খরচ হলে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, আর্থিক সংকট পারিবারিক বিপর্যয়ে মুখ্য বিষয়।
Related Question
View Allনবজাতক শিশুর জীবনে কোনো অভিজ্ঞতা থাকে না।
শিশুকে হ্যাঁ বলার অর্থ হলো তাকে ইতিবাচক ভাবে পরিচালনা করা। শিশুদের নেতিবাচক নির্দেশ দেওয়া উচিত না। তাদের প্রতি যেকোনো আদেশ, নির্দেশ, মন্তব্য ইতিবাচকভাবে বলতে হবে। আমরা সবসময় শিশু সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করি বা নির্দেশ দেই। কিন্তু নির্দেশগুলো হ্যাঁ বোধকভাবে প্রকাশ করতে হবে। যেমন- 'তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না' এটা না বলে, 'চেষ্টা করলেই তুমি পারবে' এভাবে বলা।
জাবাবার আচরণ সেজানের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সেজানের পড়ার প্রতি আগ্রহ ও নিজের কাজ নিজে করতে দেখে তার বাবা তাকে ধন্যবাদ জানান। সেজানের বাবা যে কাজটি করলেন তা হলো প্রশংসা করা।
প্রশংসা সেজানের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। শিশুদের কাছে তাদের ভালো দিকগুলো তুলে ধরলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং তারা অন্যকে প্রশংসা করতে শেখে। প্রশংসার ফলে সেজানের নিজের সম্পর্কে ভালো ধারণা হবে। সেজান বুঝতে পাররে যে সে অনেক কিছু করতে পারে। কারণ প্রশংসা শিশুর দক্ষতাকে বাড়ায় ও এবং সে কাজে সফল হয়। বাবার এ আচরণে সেজান বুঝতে পারবে সে কী পারে এবং তার মধ্যে কী কী গুণ আছে। ফলে পরবর্তীতে সেজান ভালো কাজ করার জন্য উৎসাহী হবে। এভাবেই বাবার আচরণ সেজানের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সেজানের বাবা মা তাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করছেন বলে আমি মনে করি।
শিশুকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য কতগুলো নীতি রয়েছে। এগুলো হলো- শিশুর সামনে আদর্শ আচরণ উপস্থাপন, তাদের প্রশংসা করা, শাস্তি না দেওয়া, শিশুর জন্য 'হ্যাঁ' বলা, ভাববিনিময়, তাদের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি এবং মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণ করা।
প্রশংসা করলে শিশু ভালো কাজ করার জন্য উৎসাহী হয়। সেজানের বাবা তার ভালো কাজের জন্য প্রশংসা করছেন। সেজানের বাবা-মা কারো সাথে উঁচু স্বরে কথা বলেন না বা অন্যের প্রতি অশ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ করেন না। অর্থাৎ তারা শিশু পরিচালনার নীতিগুলো সঠিকভাবে পালন করেন। শিশুর সাথে ভাব বিনিময় করলে তাদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো জানা যায়। মা সেজানের বন্ধুদের সাথে ঝগড়ার কারণ সম্পর্কে জেনে পুনরায় তাকে মিলেমিশে থাকার জন্য পরামর্শ দিলেন। যা তাকে সামাজিক হতে সাহায্য করবে। সেজানের সামনে আদর্শ আচরণগুলো করলে সে এগুলো করতে অভ্যস্ত হবে। কারণ শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। সুষ্ঠু পরিচালনার মাধ্যমে শিশুকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা যায়। আর সঠিক তত্ত্বাবধানেই শিশুর মধ্যে ভালো আচরণ গড়ে ওঠে। এ দুটি বিষয়েই সেজানের বাবা-মা বেশ সচেতন।
তাই আমি মনে করি সেজানকে তার বাবা-মা সঠিকভাবেই পরিচালিত করছেন।
শিশুর সুস্থতা ও বেঁচে থাকার জন্য মায়ের বুকের দুধ গুরুত্বপূর্ণ।
শালদুধ শিশুর প্রথম টীকা হিসেবে কাজ করে।
মায়ের বুকের প্রথম দুধকে শালদুধ বা Colostrum বলে। শালদুধ নানা রকম প্রতিরোধমূলক সক্রিয় কোষ, এন্টিবডি ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শিশুর রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। শালদুধ পরিপাচক অন্ত্রসমূহকে উদ্দীপ্ত করে। ফলে অন্ত্র দ্রুত Meconium (শিশুর প্রথম মল) পরিষ্কার করে ও জন্ডিস প্রতিরোধে সাহায্য করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!