আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষ নতুন একটি বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছে।
জনসমর্থন ছিল না বলে মুক্তিযুদ্ধের গল্পই ছিল স্বৈরাচারী সরকারের টিকে থাকার প্রধান অবলম্বন।
প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকার রাষ্ট্রক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে। এমতাবস্থায় জনসমর্থন মোটেও সরকারের পক্ষে ছিল না। ফলে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে তারা ট্রামকার্ড হিসেবে ব্যবহার করে। নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়েই তারা কোনোক্রমে ক্ষমতায় টিকেছিল। তাই শাসন চালানোর জন্য মুক্তিযুদ্ধের গল্পই ছিল স্বৈরাচারী সরকারের প্রধান অবলম্বন।
সরকারের দুর্নীতির কথা তুলে ধরার দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনার মিল রয়েছে।
দুর্নীতি ও ভ্রষ্টাচার আমাদের জাতীয় জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। এসবের প্রভাবে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা ও বৈষম্য দেখা দিতে পারে। আইনের শাসনও শিথিল হয়ে যেতে পারে। সর্বোপরি দুর্নীতি এমন এক বিষ, যা সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংসও করে দিতে পারে।
উদ্দীপকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভার কথা বলা হয়েছে। দুর্নীতির দায়ে তিনি একসময় দণ্ডিত হন এবং জেল খাটেন। একইভাবে 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনায়ও স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের আমলে সরকারের বিভিন্ন সেক্টরে হওয়া সীমাহীন দুর্নীতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। সে সময় সরকার ও তার দোসররা দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত ছিল। এরই অংশ হিসেবে তারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে। এমনকি ব্যাংক ব্যবস্থাকেও একরকম ধ্বংস করে দেয়, যা উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের দুর্নীতির ঘটনাকেই নির্দেশ করে।
"উদ্দীপকটি 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনার আংশিক প্রতিনিধিত্ব করে" মন্তব্যটি যথার্থ।
বাঙালিরা চিরকালই সাহসী ও আত্মপ্রত্যয়ী। এদেশের সুদীর্ঘকালের ইতিহাসেও দেখা যায়, তারা কোনো অপশক্তির কাছেই মাথা নত করেনি। বরং দৃঢ়চেতা মনোভাব নিয়ে অন্যায়-অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। এই আপসহীন মনোভাবই এ জাতিকে আজকের অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছে।
উদ্দীপকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভা সম্পর্কে আলোকপাত ক্ররা হয়েছে। তিনি ব্রাজিলের দুবারের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। কিন্তু একসময় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য একটি নির্মাণ কোম্পানির কাছ থেকে ঘুস নেওয়ার অভিযোগে তিনি দণ্ডিত হন এবং কারাভোগ করেন। উদ্দীপকে ফুটে ওঠা সরকারের এমন দুর্নীতির কথা 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনায়ও পরিলক্ষিত হয়।
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনাটি ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা। এ রচনায় স্বৈরাচারী সরকারের শোষণ-নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলন এবং বিজয়ের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও সেখানে এ আন্দোলনে জনগণের সম্পৃক্ততা ও আন্দোলনকে ঘিরে নতুন এক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত হয়েছে। উদ্দীপকে এসব বিষয় ফুটে ওঠেনি। সেখানে কেরল এ রচনায় উল্লেখিত স্বৈরাচারী সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির দিকটিই প্রকাশ পেয়েছে। এ বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
Related Question
View Allকোটা সংস্কার আন্দোলনে বড়ো সাফল্য অর্জিত হয় ২০১৮ সালে।
প্রশ্নোক্ত বাক্যটির দ্বারা দেশ সংস্কারে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের একাত্মতা বোঝানো হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগদান করেন। সবাই নিজেদের অবস্থান ভুলে রাস্তায় একত্র লড়াই করেছিলেন একটা উদ্দেশ্য সামনে রেখে। এভাবে আন্দোলনের সময় এমন এক ভাষা তৈরি হয়েছিল যার মাধ্যমে সবাই সবাইকে বুঝতে পারছিলেন। মানুষের মধ্যে এমন বোধ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর তৈরি হয়েছিল বলে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকটি 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধের ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই সকল ক্ষমতার উর্ধ্বে। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে এটাই হওয়া উচিত। অথচ অনেক সময় দেখা যায়, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার জনগণের বিরুদ্ধাচরণ করে। তখন পরিণতি হয় মর্মান্তিক।
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধে ছাত্রসমাজ কোটার যৌক্তিক সংস্কার চেয়ে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের একপর্যায়ে সরকার সাধারণ শিক্ষার্থীর দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে চরম দমননীতি এবং হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করে। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরকারের প্রতিরোধে এগিয়ে আসে। এতে গণঅভ্যুত্থান ঘটে এবং সরকারপ্রধান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। উদ্দীপকেও দেখা যায়, গোঁতাবায়া রাজাপাকসে বিক্ষোভকারীদের দমন করার জন্য নিপীড়ন চালায়। শেষ পর্যন্ত তার পতন হয়।
"সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধের সামগ্রিকতাকে স্পর্শ করে না।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাঙালি জাতি হলো বীরের জাতি। তারা যুগে যুগে বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রাণপথে লড়াই করেছে। সাম্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাঙালিরা জীবনদানেও কার্পণ্য করেনি।
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধে কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনের শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা সরকার পতনের আন্দোলনের রূপ নেয়। আন্দোলনকে দমিয়ে রাখার জন্য সরকার তার পোষ্য দলীয় বাহিনী ও জাতীয় বাহিনীর বিপথগামী সদস্যদের দ্বারা সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালায়। পুলিশের গুলিতে নিহত হয় শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে হাজার হাজার জনতা। ছাত্র-জনতার তোপের মুখে পড়ে সরকার পালাতে বাধ্য হয়। উদ্দীপকেও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের পালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। ফলে ডজনখানেক আহত হয়েছে। সেখানে কোনো মৃত্যুর ঘটনার কথা নেই। আবার জুলাই বিপ্লব পুরোপুরি শিক্ষার্থী দ্বারা পরিচালিত ছিল। কিন্তু উদ্দীপকে বর্ণিত বিক্ষোভে এমন কোনো আভাস নেই। উপর্যুক্ত এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'কারফিউ' শব্দের অর্থ সান্ধ্যআইন।
'সরকার নির্বাচন নিয়ে একের পর এক তামাশা করেছে' বলতে এখানে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রহসনের নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনে জয়ী হয় এবং সরকার গঠন করে। এর পর থেকে এই সরকারে তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনই ছিল বিতর্কিত। এসব নির্বাচনে সরকার লোক দেখানো ভোটের আয়োজন করে শেষ পর্যন্ত কারচুপি করে নির্বাচনে জয়ী হয়। এভাবে সরকার যে প্রহসনের নির্বাচন করে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে সে কথাই বোঝানো হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!