অফিস বাড়ি হিসেবে তৈরি ঢাকার সবচেয়ে সুন্দরতম ভবন হলো কার্জন হল।
জাদুঘর বলতে বোঝায় এমন একটি ভবন বা প্রতিষ্ঠান যেখানে পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের সংগ্রহ সংরক্ষিত থাকে। বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত। এ জাদুঘরের গ্যালারিতে সারা দেশে প্রত্ননিদর্শনের সঙ্গে প্রদর্শন করা হয়েছে বাংলার নবাব, জমিদার ও ইংরেজ শাসনকালের বেশকিছু প্রত্নসম্পদ। এছাড়াও আমাদের দেশে অনেক আঞ্চলিক জাদুঘরও রয়েছে।
উদ্দীপকে লুনার প্রথম দেখা স্থানটি হলো আহসান মঞ্জিল।
ঢাকার প্রাচীন স্থাপত্যকীর্তির বিখ্যাত নিদর্শন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ঢাকার নওয়াবদের তৈরি প্রাসাদ আহসান মঞ্জিল। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে জালালপুর পরগনার জমিদার শেখ ইনায়েত উল্লাহ আহসান মঞ্জিলের বর্তমান স্থান রংমহল নামে একটি প্রমোদভবন তৈরি করেন। পরবর্তীতে খাজা আবদুল গণি ভবনটি ক্রয় করেন। তার পুত্র আহসানউল্লাহর নামানুসারে এই ভবনের নামকরণ করা হয় আহসান মঞ্জিল নামে। আহসান মঞ্জিলের প্রত্ননিদর্শনে বেশ সমৃদ্ধ।
এখানকার যাদুঘরের ২৩টি গ্যালারিতে অসংখ্য নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায়। নওয়াবদের ব্যবহৃত আসবাবপত্র, অস্ত্র ও বর্ম হাসপাতালে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি নাচের ঘর, লাইব্রেরি, খাবার ঘর, বিভিন্ন জীবজন্তুর শিং হাতির দাঁতের তৈরি বিরুনী বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যচিত্র প্রভৃতি এখানে বিদ্যমান। শুধু স্থাপত্য নিদর্শন বা প্রত্ন নিদর্শনের দিক থেকেই নয়, এই ভবন রাজনৈতিক অনেক অধ্যায়েরও সাক্ষী।
তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকের লুনার দেখা প্রথম স্থানটি আহসান মঞ্জিলই ছিল।
লুনার বাবার বক্তব্যটি ঐতিহাসিক বিচারে সত্য বলে বিবেচিত হয়। কেননা এ স্থানের সাথেই ১৮৫৭ সালের প্রথম ভারতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। ঢাকার পুরনো স্থাপত্যকর্মের মধ্যে সদরঘাট এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত বাহাদুর শাহ পার্কটি অন্যতম। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার নওয়াব আব্দুল গণি এ পার্ক তৈরি করে ব্রিটেনের রানির ভিক্টোরিয়ার নামে এর নাম দেন ভিক্টোরিয়া পার্ক। তার আগে এ জায়গাটির নাম ছিল আন্টাঘর ময়দান। এ আন্টাঘর ময়দানের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৮৫৭ সালের প্রথম ভারতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস। ১১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর এদেশীয় সৈন্যরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করে। ইংরেজরা একে বলে সিপাহি বিদ্রোহ। যুদ্ধে ভারতীয় সৈন্যরা জিততে পারেননি। বিদ্রোহী সৈন্যদের যারা ঢাকায় ইংরেজদের হাতে বন্দি হন তাঁদের ইংরেজরা এই আন্টাঘর ময়দানে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেয়। এ ঘটনার ঠিক একশো বছর পর ১৯৫৭ সালে স্বাধীনতার জন্য জীবনদানকারী সৈনিকদের স্মৃতিতে এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয় এবং নামকরণ হয় বাহাদুর শাহ পার্ক। এ ঐতিহাসিক লোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী এই বাহাদুর শাহ পার্কটি। আর এ কথাটিই, বলেছিলেন উদ্দীপকে উল্লিখিত লুনার বাবা।
Related Question
View All'প্রত্ন' শব্দের অর্থ হলো পুরানো। প্রত্নসম্প বলতে পুরানো স্থাপত্য ও শিল্পকর্মা, মূর্তি বা ভাস্কর্য, অলঙ্কার, প্রাচীন আমলের মুদ্রা ইত্যাদিকে বোঝায়। এসব প্রত্ননিদর্শনের মধ্য দিয়ে সেকালের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, বিশ্বাস-সংস্কার, রুচি বা দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।
ঢাকার মসজিদগুলোতে মোগল স্থাপত্যশৈলীর প্রাধান্য দেখা যায়। তবে এর সঙ্গে কিছুটা ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর মিশেলও রয়েছে। এসব মসজিদের নির্মাণশৈলী এবং কারুকাজ অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। এসব মসজিদ ঢাকার ঐতিহ্যের পরিচায়ক।
লালবাগ মসজিদ ও সিতারা বেগম মসজিদ মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। এগুলোর গঠনশৈলী চমৎকার এবং কারুকাজ অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। এই মসজিদগুলোতে মোগল শাসনামলের ঐতিহ্য ফুটে ওঠে।
শিয়াদের ইমামবাড়া এবং হোসেনি দালান শিয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। এখানে মহররমের সময় নানা ধর্মীয় কার্যক্রম পালিত হয়। ইমামবাড়া ঢাকার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রতীক। এগুলো ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ইংরেজ শাসনামলে এগুলো পুনর্নির্মাণ করা হয়।
ঢাকার প্রাচীন মন্দিরগুলোর মধ্যে ঢাকেশ্বরী মন্দির ও রমনা কালীমন্দির বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঢাকেশ্বরী মন্দির অনেক পুরনো এবং এটি ঢাকার ঐতিহ্যের পরিচায়ক। রমনা কালীমন্দির ঔপনিবেশিক আমলে পুনর্নির্মাণ করা হয়। এই মন্দিরগুলো ঢাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ঢাকার আর্মেনিয়ান গির্জা ১৭৮১ সালে আরমানিটোলায় নির্মিত হয়। এটি ঢাকার সবচেয়ে পুরানো গির্জা এবং আর্মেনীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐতিহ্যের নিদর্শন। গির্জাটির স্থাপত্যশৈলী চমৎকার এবং এটি বর্তমানে ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!