যে বিষয়ে যাহার অধিকার নেই, সে বিষয়ে তাহার হস্তক্ষেপ অকর্তব্য'- এ নিয়মটি সাময়িক সাহিত্যে রক্ষিত হয় না।
অনাবশ্যক বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা রচনার গুণগত মান নষ্ট করে বলে প্রাবন্ধিক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
রচনায় বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টাকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দূষণীয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, লেখকের মাঝে বিদ্যা থাকলে তা তাঁর লেখায় নিজে থেকেই প্রকাশ পায়। অনেকে নিজেকে পণ্ডিত প্রমাণের জন্য ভারি ভারি তথ্য ও বিদেশি লেখকের উদ্ধৃতি দিয়ে থাকেন। এর ফলে রচনা জটিল হয়ে পড়ে এবং পাঠক বিরক্ত বোধ করে। রচনার পারিপাট্য নষ্ট হয় বলেই বঙ্কিমচন্দ্র লেখায় বিদ্যা পরিবেশনের চেষ্টা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রশ্নোক্ত উক্তিতে।
উদ্দীপকের ১ নম্বর উপদেশ 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনায় উল্লিখিত সাহিত্য রচনার প্রকৃত উদ্দেশ্য সমর্থন করে।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে লেখকের অভিলক্ষ্য কী হওয়া উচিত সে বিষয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মতামত পেশ করেছেন। প্রাবন্ধিকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো ধর্ম ও-সত্য। তাই লেখার ক্ষেত্রে লেখকের লক্ষ্য হওয় উচিত সৌন্দর্য সৃষ্টি অথবা মানবকল্যাণের ভাবনা। এছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্য রচনাকে তিনি নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া লেখার ক্ষেত্রে পাঠকের মনোরঞ্জন করতে গেলে রচনার উৎকর্ষ নষ্ট হয় বলেও তিনি নবীন লেখকদের সতর্ক করেছেন।
উদ্দীপকের ১ নম্বর উপদেশ আদর্শ লেখক হওয়ার জন্য চমৎকার একটি দিকনির্দেশনা। এখানে বলা হয়েছে পাঠকের মন রাখার জন্য নয় বক্স নিজের ভালোলাগা ও দায়িত্ববোধ থেকে লিখতে হবে। লেখায় সত্যাশ্রয়ী হওয়া এবং লেখার প্রতি সততা প্রদর্শনকেও গুরুত্ব প্রদান কর হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রচনায় লোকরঞ্জন এবং সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্য রচনা- এ দুটি প্রসঙ্গ ফুটে উঠেছে। আলোচ্য প্রসঙ্গেও এ ছা প্রসঙ্গে একই ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আলোচ্য প্রবন্ধের বিশ্লেষণে বলা যায়, উদ্দীপকের পরামর্শসমূহ উৎকৃষ্ট সাহিত্য সৃজনের অনুকূল, যা লেখক ও পাঠক উভয়ের জন্যই ইতিবাচক।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের উৎকর্ষ সাধনে নবীন লেখকদের করণীয় সম্পর্কে বেশকিছু মূল্যবান পরামর্শ উপস্থাপন করেছেন। তিনি সাহিত্য রচনার প্রকৃত উদ্দেশ্যটি পরিষ্কার করেছেন। সে সঙ্গে লেখার মানোন্নয়নে লেখকদের যেসব বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
উদ্দীপকে প্রখ্যাত লেখক স্টিফেন কিং প্রদত্ত উপদেশসমূহে লেখকদের লেখার ক্ষেত্রে নিজের বিবেক ও প্রজ্ঞাকে ব্যবহার করে সত্যাশ্রয়ী ও ইতিবাচক সাহিত্য রচনার কথা বলা হয়েছে। লেখায় পাঠকের মনোরঞ্জনের ভাবনা পরিত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লেখার উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে যথাযথ মূল্যায়ন, বিদ্যা জাহিরের অপচেষ্টা ত্যাগ, অনুকরণবৃত্তি ত্যাগ এবং সরলতা প্রয়োগের বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া হয়েছে। উৎকৃষ্ট মানের রচনা লেখার ক্ষেত্রে এ দিকগুলোতে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা আলোচ্য প্রবন্ধেও প্রকাশিত হয়েছে।
সাহিত্য মানুষের মননশীলতা বিকাশে সহায়ক। সেই সঙ্গে সাহিত্য সুকুমারবৃত্তি চর্চারও অন্যতম মাধ্যম। সৃজনশীলতা ও মননের বিকাশে তাই সুসাহিত্যের ভূমিকা অপরিসীম। সুসাহিত্য চর্চার জন্য চাই সুলেখক। যিনি সাহিত্য রচনার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানেন, সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে যিনি নিবেদিত প্রাণে, লেখার উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে যিনি আপসহীন, যাঁর লেখা সহজেই পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়; তিনিই সুলেখক। আলোচ্য প্রবন্ধ ও উদ্দীপকে প্রদত্ত উপদেশগুলোকে প্রায় সমধর্মীই বলা যায়। উভয়ক্ষেত্রেই আদর্শ লেখকের হাত ধরে আদর্শ সাহিত্য সৃষ্টির কামনা প্রচ্ছন্ন, রয়েছে। আদর্শ সাহিত্যই পাঠক তথা সমাজের মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। সার্বিক বিবেচনায় তাই বলা যায়- প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সর্বাংশে যৌক্তিক।
Related Question
View Allবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো সত্য ও ধর্ম।
আলোচ্য উক্তির মাধ্যমে লেখক বুঝিয়েছেন, ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষা বা অন্যের অনিষ্ট সাধনের উদ্দেশ্যে লেখনী ধারণ চরম গর্হিত কাজ।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য মানবতার মঙ্গল সাধন অথবা সৌন্দর্য সৃষ্টি। লেখার মাধ্যমে যদি সত্য ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠা হয়, তবে তা সার্থক হয়। অন্যদিকে যে লেখায় কেবল নিজের স্বার্থ প্রাধান্য পায়, যাতে মিথ্যা প্রশ্রয় দেওয়া হয়, যে লেখা মানুষের পীড়নের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাই সৎ মনোভাব ছাড়া লেখনী ধারণকে লেখক মহাপাপ বলে উল্লেখ করেছেন।
উদ্দীপকের কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য সাধনায় 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে প্রকাশিত মানবকল্যাণে আত্মনিবেদনের বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন দেখা যায়।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাহিত্য রচনার মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। লেখকের মতে, খ্যাতি বা অর্থলাভ সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য নয়। মানুষের কল্যাণ বা সৌন্দর্য সৃষ্টিই লেখকের মূল অভিপ্রায় হওয়া বাঞ্ছনীয়। লেখকদের প্রতি তাই তাঁর নিবেদন, যে লেখায় মানুষের অনিষ্ট হয় তা পরিত্যাগ করে মানবমজাল নিশ্চিত করে এমন সাহিত্য রচনায় ব্রতী হওয়া উচিত।
উদ্দীপকে বাংলা সাহিত্যের মহান শিল্পী কাজী নজরুল ইসলামের কথা বলা হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সংকটকালে তিনি মানবমুক্তির গান নিয়ে সাহিত্যাঙ্গনে আবির্ভূত হয়েছিলেন। মানুষের শোষণ-বঞ্চনা, ক্ষুধা-দারিদ্র্যের যন্ত্রণা তাঁর লেখনীতে স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয়। শ্রেণি-বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের স্বপ্নের কথাই নজরুলের সাহিত্যে মুখ্য হয়ে ওঠে। মানবহিতৈষী মনোভাব নিয়ে সাহিত্য রচনায় অগ্রসর হওয়ার আহ্বান আলোচ্য প্রবন্ধেও বিদ্যমান। প্রবন্ধের লেখকের মতে, এটিই সাহিত্য রচনার আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। এ বৈশিষ্ট্যই কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যে প্রতিফলিত হয়েছে।
সাহিত্যের মধ্য দিয়ে সত্য ও সুন্দরের চর্চা অব্যাহত রাখার বিবেচনায় উদ্দীপকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নিবেদন যথার্থভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে অবশ্য পালনীয় কিছু পরামর্শ প্রদান করেছেন। তাঁর মতে, সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য যশ বা অর্থ লাভ নয় বরং মানবকল্যাণ। লেখকগণের উচিত লোকরঞ্জন পরিত্যাগ করে সত্য প্রকাশে অসংকোচ হওয়া। বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ ও জনকল্যাণমুখী করার জন্য বঙ্কিমচন্দ্রের এ পরামর্শ অমূল্য।
আলোচ্য উদ্দীপকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখক সত্তার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। শোষণ-বঞ্চনা, দারিদ্র্য, সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা- এ সবই তিনি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। নিজের সাহিত্যে তিনি এ সমস্ত অন্ধকারের অবসান কামনা করেছেন। মানুষে মানুষে ভেদাভেদহীন সৌহার্দপূর্ণ সমাজ গড়াই ছিল নজরুলের লক্ষ্য। আলোচ্য প্রবন্ধের মূলসুরও তাই।
লেখক মাত্রই সত্য ও সুন্দরের পূজারি। মানবমুক্তির গভীরতম অনুভূতি লেখকের জাদুকরী শব্দমালায় আমাদের সামনে মূর্ত হয়ে ওঠে। সমাজের অসাম্য, অন্যায়, অরাজকতা লক্ষ করেও যে চুপ থাকে বা অন্যায়কারীদের তোষণ করে সে প্রকৃত লেখক নয়। প্রকৃত লেখক কখনোই সত্য প্রকাশে পিছপা হন না। তাঁর সত্য ভাষণেই মানবমুক্তির দুয়ার উন্মোচিত হয়। আলোচ্য উদ্দীপকে বর্ণিত কৰি কাজী নজরুলের লেখার মাঝে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বেজেছিল প্রবল বিদ্রোহের সুর। মানবকল্যাণের শাশ্বত ও সুন্দর বাণীই ছিল তাঁর লেখার মূল হাতিয়ার। এই হাতিয়ারকে জীবনপথের পাথেয় করার নিবেদনই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আলোচ্য প্রবন্ধে করেছেন। রচনায় মানবমঙ্গলকেই সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণের নিবেদন জানিয়েছেন তিনি, যার প্রতিফলন উদ্দীপকে স্পষ্টরূপেই ফুটে উঠেছে।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ইংরেজি উপন্যাসের নাম Rajmohans Wife ।
সাহিত্যে অলংকার বা ব্যঙ্গ যথাযথভাবে ব্যবহার করা প্রসঙ্গে লেখক আলোচ্য কথাটি বলেছেন।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে লেখক নতুন লেখকদের আদর্শ লেখক হওয়ায় করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। মূলত নতুনদের যথাযথ অলংকার বা ব্যক্তা ব্যবহারের প্রতি আলোকপাত করেছেন লেখক। কেননা লেখার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো নানাবিধ অলংকার। ব্যঙ্গ সেসবের মধ্যে অন্যতম। এসব অলংকার ব্যবহার যথার্থভাবে করতে না পারলে এবং তা বারবার পড়লে যদি বেখাপ্পা মনে
হয়, তখন তা কেটে দেওয়া উচিত বলে লেখক মনে করেন। প্রশ্নোক্ত বক্তব্যে সে কথাই বলা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!