মানবিক মানমর্যাদা সংরক্ষণের জন্য যেসব অধিকার একান্ত সংজ্ঞায়িত করেছে এভাবে- মানুষ তার জীবনে যেসব সুযোগ-সুবিধা অপরিহার্য সেগুলোই মানবাধিকার। জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়টিকে ভোগের দাবিদার হয় এবং যেগুলো ব্যতীত তার ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয় না সেগুলোই মানবাধিকার।
যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি পদমর্যাদার দিক থেকে দেশের সর্বশীর্ষ ব্যক্তিত্ব। তিনি জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। এ ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদেরসংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথমে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নাম প্রস্তাব করতে হয় এবং এর পরবর্তীতে স্পিকার সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। এই রাষ্ট্রপতি পরপর দুবার কিংবা আলাদাভাবে ৫ বছর মেয়াদে দুবার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
লোকমান সাহেব একজন প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী এবং তিনি ন্যায্যমূল্যে পণ্যসামগ্রী বিক্রি করে থাকেন। লোকমান সাহেব রাষ্ট্রের নাগরিক এবং রাষ্ট্র থেকে অনেক সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। তাই রাষ্ট্রের প্রতি তারও কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। আর এ কর্তব্যের মধ্যে রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা আরোপিত ও কার্যকরী করা হয় যে কর্তব্যকে সেটি হচ্ছে নাগরিকের আইনগত কর্তব্য। আর লোকমান সাহেব রাষ্ট্রের আইনগত কর্তব্য পালন করে। অর্থাৎ কর প্রদানের মাধ্যমে এবং কর ফাঁকি বন্ধের জন্য বন্ধুকে নিষেধ এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে সুনাগরিকের পরিচয় দিয়েছেন। এভাবেই লোকমান সাহেব তার আইনগত কর্তব্য পালন করে দেশে শান্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
হাকিম সাহেবের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের উন্নয়নে প্রতিবন্ধক, এ ব্যাপারে আমি একমত। এরপক্ষে যুক্তি নিম্নরূপ-আধুনিক রাষ্ট্রগুলো কল্যাণমূলক রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের নাগরিকদের কল্যাণের
জন্য রাষ্ট্র বহুবিধ উন্নয়নমূলক কাজ করে থাকে। আর এ উন্নয়নমূলক কাজের ব্যয়ভারের মূল উৎস হলো নাগরিক প্রদত্ত প্রত্যক্ষ কর। তাই রাষ্ট্রের অধিকার ভোগের জন্য প্রত্যেক নাগরিকের নিয়মিত কর প্রদান করা অবশ্য কর্তব্য। কেননা নাগরিকগণ যদি নিয়মিত কর প্রদান না করে তাহলে রাষ্ট্রের উন্নয়ন ব্যাহত হবে। এ ছাড়া নাগরিকগণ হলো রাষ্ট্রের মূল চালিকা শক্তি ও প্রাণ। তাই রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য নাগরিকদের রাষ্ট্রের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনে সাড়া দিতে হবে। তাহলেই রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন ঘটবে। কিন্তু উদ্দীপকে বর্ণিত লোকমান সাহেব অনেক অর্থের মালিক হলেও তিনি নানাভাবে নিজের আয় গোপন করে কুর ফাঁকি দেন এবং তথ্য গোপন করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফটকা ব্যবসায় খাটিয়েছেন। যা রাষ্ট্রের উন্নয়নে ব্যাপকভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
Related Question
View Allপ্রত্যেক রাষ্ট্রই এর প্রদত্ত অধিকারসমূহ দ্বারা পরিচিতি লাভকরে"- উক্তিটি করেছেন অধ্যাপক লাঙ্কি।
'মানুষ' হিসেবে প্রতিটি মানুষ যে অধিকার ভোগ করতে জন্মগতভাবে প্রত্যাশী তাই মানবাধিকার। মানুষের মূল্য ও মর্যাদার সাথে সংশ্লিষ্ট এ অধিকারগুলো মানুষ জন্মগতভাবে লাভ করে থাকে। অর্থাৎ আমরা মানুষ হিসেবে বাঁচতে প্রকৃতিগত ও সহজাত যে অধিকার প্রত্যাশা করি, তাই হলো মানবাধিকার। যেমন- জীবন ধারণের অধিকার, নিরাপত্তা লাভের অধিকার, নিষ্ঠুরতার শিকার না হওয়ার অধিকার, ন্যায়বিচার লাভের অধিকার ইত্যাদি।
উদ্দীপকে অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যকার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এগুলোর পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কথা বলা হয়েছে।
অধিকার ও কর্তব্য নাগরিকতার দুটি দিক। নাগরিকদের যেমন অধিকার আছে, তেমনি কর্তব্যও পালন করতে হয়। অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর পরিপূরক। এ দুটি যেন একই মুদ্রার দুটি দিকের ন্যায়। সামাজিক সচেতনতা থেকে এদের সৃষ্টি এবং সমাজের মধ্যেই এরা অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে। নাগরিকগণ নিজ নিজ অধিকারের বিনিময়ে রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করে থাকে। এজন্যই লাস্কি বলেন, "আমার নিরাপদে থাকার অধিকার থাকলে অন্যের কর্তব্য হলো আমাকে অন্যায়ভাবে আক্রমণ না করা।" অধিকার বলতে যেমন কতকগুলো শর্তকে বুঝানো হয়, তেমনি তা পালনও দায়িত্ব। যেমন-ভোটদানের অধিকার বলতে ভোটাধিকার প্রয়োগের দায়িত্বকেও বোঝায়। কারও অধিকার বলতে যেমন তার কর্তব্যকেও বোঝায়, তেননি একজনের অধিকার বলতে অন্যের কর্তব্যকেও বোঝানো হয়। আমার সম্পত্তির ভোগের অধিকার আছে, এর অর্থ অন্যের সম্পত্তিতে অন্যায় হস্তক্ষেপ না করাও আমার দায়িত্ব।
কারও অধিকার বলতে যেমন তার কর্তব্যকে বোঝায়, তেমনি একজনের অধিকার বলতে অন্যের কর্তব্যকে বোঝায়। একজনের অধিকার ভোগ করা অন্যের কর্তব্য পালনের ওপর নির্ভরশীল। এজন্যই বলা হয়, অধিকারের মধ্যেই কর্তব্য নিহিত। যেমন- আমার বেঁচে থাকার যদি অধিকার থেকে থাকে, তবে আমার কর্তব্য হলো
অন্যের বেঁচে থাকার পথে কোনো বাধার সৃষ্টি না করা। অনুরূপভাবে অন্যের কর্তব্যও হলো আমাকে হত্যা না করা। অধিকার ও কর্তব্য একটি ছাড়া অন্যটি কল্পনা করা যায় না। সমাজের একজনের অধিকারের পরিধি অন্য সকলের কর্তব্যবোধ দ্বারা সীমাবদ্ধ। কারণ অধিকার যদি অবাধ ও সীমাহীন হয় তবে এ থেকে স্বেচ্ছাচারিতার জন্ম হবে। এতে সবল ব্যক্তি অধিকার ভোগ করবে; কিন্তু দুর্বল তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
রাষ্ট্র নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করবে। বিনিময়ে নাগরিকগণ রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করবে। নাগরিকের যা দায়িত্ব রাষ্ট্রের তা অধিকার আর রাষ্ট্রের যা দায়িত্ব নাগরিকের তা অধিকার। রাষ্ট্র নাগরিকের অধিকার উপভোগের নিশ্চয়তা দেয়। ফলে রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হয়। অর্থাৎ বলা যায়, অধিকার ও কর্তব্য নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। কার্ল মার্কস বলেছেন, "কর্তব্য ছাড়া কোনো অধিকার নেই আর অধিকার ছাড়া কোনো কর্তব্য নেই।” সুতরাং বলা যায়, অধিকারের মধ্যেই কর্তব্য নিহিত থাকে
বাংলাদেশে ২০০৯ সালের ৫ এপ্রিল তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়
সাধারণভাবে যেকোনো বস্তু বা বিষয় সম্পর্কে জানার জন বিবরণকে তথ্য বলা হয়। তথ্য অধিকার আইনে তথ্যকে সুনির্দিষ্টভাে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো কর্তৃপক্ষের গঠন কাঠামো ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত যে কোনো স্মারক, বই, নকশ মানচিত্র, চুক্তি, তথ্য- উপাত্ত, আদেশ, বিজ্ঞপ্তি, দলিল, আলোকচিত্র অডিও, ভিডিও, যান্ত্রিকভাবে পঠনযোগ্য দলিলাদি এবং বৈশিষ্ট নির্বিশেষে যেকোনো তথ্যবহ বস্তু ইত্যাদিকে তথ্য বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!