অমৃত-হ্রদে পড়লে মক্ষিকা গলে না।
কবি নিজেকে দাস ভেবেছেন, কারণ জন্মভূমি তাঁর কাছে মায়ের মতো এবং তিনি সেই মায়ের বিনয়ী সন্তান।
কবি জন্মভূমিকে মা আর নিজেকে সেই মায়ের দাস হিসেবে কল্পনা করেছেন। তিনি নিজেকে মায়ের সেবক মনে করে মায়ের কাছে অর্থাৎ জন্মভূমির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন স্বদেশ ফেলে বিদেশে যাওয়ার জন্য। প্রবাসে থেকে কবি উপলব্ধি করেছেন স্বদেশের স্নেহ-মায়া-মমতার কথা। জন্মভূমিকে তাই মা মনে করে সন্তান হিসেবে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন মায়ের কাছে। এ কারণে মায়ের কাছে বিনয়ের সাথে তিনি নিজেকে দাস ভেবেছেন।
উদ্দীপকের রাসেদের মাঝে 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার কবির যে চেতনা প্রকাশ পেয়েছে তা হলো নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিঃসংকোচে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
মানুষ ভুল করে স্বাভাবিক নিয়মে। আবার ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমাও প্রার্থনা করে। ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে লজ্জার কিছুই নেই।
'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় আমরা দেখি কবির স্বদেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও একাগ্রতা প্রকাশ পেয়েছে। প্রবাসী কবি মধুসূদন দত্ত ভেবেছেন মা যেমন সন্তানের কোনো দোষ মনে রাখে না তেমনি দেশমাতৃকাও তাঁর সব দোষ ক্ষমা করবেন। তাই বিনয়ের সাথে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিঃসংকোচে ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি উদ্দীপকের রাসেদের মধ্যেও প্রকাশ পেয়েছে। রাগ করে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়ে রাসেদ অনুধাবন করে যে সে ভুল করেছে ফলে সে পুনরায় বাড়ি ফিরে এসে মা-বাবার কাছে ভুল স্বীকার করে অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। তাই আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকের রাসেদের মাঝে 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার রচয়িতার যে চেতনা প্রকাশ পেয়েছে তা হলো নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিঃসংকোচে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
উল্লিখিত 'চেতনাই কেবল 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার বিষয়বস্তুকে তুলে ধরে না- মন্তব্যটি যথার্থ।
মা ও মাতৃভূমি প্রত্যেক মানুষের সবচেয়ে আপন। মানুষকে সবাই ত্যাগ করলেও মা আর মাতৃভূমি মানুষকে কখনো ত্যাগ করে না। মা ও মাতৃভূমি হলো মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান।
উদ্দীপকের রাসেদ তার ভুল বুঝতে পেরে বাড়ি ফিরে আসে। মা-বাবার কাছে নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। অন্যদিকে 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় আমরা দেখি জন্মভূমির প্রতি কবির শ্রদ্ধা ও একাগ্রতা। কবি জন্মভূমিকে মা হিসেবে কল্পনা করেছেন। কবিও নিজ অপরাধের জন্য জন্মভূমি মায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি দেশমাতৃকার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকার অভিব্যক্তিও প্রকাশ করেন।
উদ্দীপকে শুধু ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। কিন্তু এই একটি চেতনাই আলোচ্য কবিতার বিষয়বস্তুকে তুলে ধরে না। কেননা উদ্দীপকের এই চেতনাটি ছাড়াও কবিতায় ফুটে উঠেছে গভীর দেশপ্রেম, দেশের প্রতি আনুগত্য ও মৃত্যুর পরেও দেশের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কে আবদ্ধ থাকা। তাই আমরা বলতে পারি যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allবাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মহাকাব্যের নাম 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
কবি দেশমাতৃকার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকার জন্য বর প্রার্থনা করেন।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর জন্মভূমিকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন। তিনিও চান তাঁর প্রিয় জন্মভূমি যেন তাকে মনে রাখেন, হৃদয়ে স্থান দেন। দেশমাতৃকার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকার মধ্য দিয়ে তিনি অমরতা লাভ করতে চান। কবি আকুলভাবে তাঁর স্বদেশের কাছে সেই বর প্রার্থনা করেন।
উদ্দীপকের প্রথম কবিতাংশে বাংলার প্রকৃতিতে কবির অমরতা লাভের আকাঙ্ক্ষা ও স্বদেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে। 'ফুটি যেন স্মৃতি-জলে' চরণটির মধ্য দিয়েও এ কথাই প্রকাশ পায়।
সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি। এদেশের প্রতি রয়েছে আমাদের সীমাহীন ভালোবাসা। বাংলা-মায়ের কোলে তাই সব বাঙালি অনন্তকাল স্থান পেতে চায়।
উদ্দীপকের প্রথম স্তবকের কবি মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম হলে মানুষ অথবা শঙ্খচিল-শালিকের বেশে বাংলা-মায়ের কোলে ফিরে আসার আকুতি প্রকাশ করেছেন। কবির এ আকুতির মধ্য দিয়ে বাংলার প্রকৃতিতে অমরতা লাভের ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে অকৃত্রিম স্বদেশপ্রেম। কবির এই স্বদেশপ্রেমের অনুভূতি ও অমরতা লাভের আকাঙ্ক্ষা 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার প্রশ্নোক্ত চরণটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। একজন বাংলা-মায়ের কাছে ফিরে আসতে চেয়েছেন, অন্যজন বাংলা-মা যেন তাঁকে মনে রাখে এবং তিনি যেন মায়ের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকতে পারেন অনন্তকাল সেই মিনতি জানিয়েছেন।
"দ্বিতীয় কবিতাংশ এবং 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার মূল সুর একই"- মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের জন্মভূমি বিচিত্র উপাদানে সজ্জিত। যেমন প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর তেমনই এ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে।
'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় স্বদেশের প্রতি কবির শ্রদ্ধা ও একাত্মতা তীব্রভাবে প্রকাশ পেয়েছে। কবি স্বদেশকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। স্বদেশের প্রতিটি বস্তু তাঁকে আকর্ষণ করে। তাই কবি বাংলা-মাকে আকুতি জানিয়েছেন তিনি যেন ছেলেকে ভুলে না যান। আকাঙ্ক্ষা জানিয়েছেন চির স্মরণীয় হওয়ার এবং দেশমাতার স্মৃতিতে পদ্ম ফুলের মতো ফুটে থাকার। উদ্দীপকের দ্বিতীয় কবিতাংশেও দেশ বা পৃথিবীর প্রতি কবির ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কবি দেশ, দেশের মানুষের মাঝে তথা এ সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চান। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই প্রকৃতি এই পৃথিবী ছেড়ে চিরতরে চলে যেতে চান না।
দেশমাতৃকার প্রতি উদ্দীপকের কবি ও আলোচ্য কবিতার কবি উভয়েরই টান সীমাহীন। উভয় জায়গায়ই দেশ ও দেশের প্রকৃতিকে ভালোবাসা এবং মানবহৃদয়ে বেঁচে থাকার আকুতি প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে স্বদেশের স্মৃতিতে ঠাঁই পাওয়ার আকুলতা। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতাটি একটি গীতিকবিতা।
সুখ-দুঃখ নিয়েই মানুষের জীবন চলমান বলে জীবন-নদের নীর স্থির নয়।
জাগতিক নিয়মে জীবন বয়ে চলে। কখনো জীবনে দুঃখ এসে ভর করে, কখনোবা আবার সুখের স্রোতে ভেসে চলে। নদীর ধারা যেমন প্রতিনিয়ত বয়ে চলে, জীবনও তাই। প্রকৃতির নিয়মেই রাতের শেষে
দিন হয়, আবার দিনের শেষে রাত আসে। জীবনেও এমন দুঃখ-দুর্দশায় মেঘ ঘনিয়ে অন্ধকার রাত হয়, আবার হাসি-আনন্দে জীবন ভরে ওঠে। এভাবে প্রকৃতির নিয়মেই জীবন-নদের নীর স্থির নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!