যেসব পদাথ সাধারণত চকচকে করে না, তাপ ও বিদ্যুৎ কুপরিবাহী তাদেরকে অধাতু বলা হয়।
গ্যাসীয় পদার্থকে একটি ছোট সিলিন্ডারে নিলে এটি সম্পূর্ণ 'জায়গা দখল করে আবার ঐ গ্যাসীয় পদার্থকে বড় সিলিন্ডারে নেওয়া হলে তখনো এটি সম্পূর্ণ জায়গা দখল করে। এ থেকে বুঝা যায়, গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আয়তন নাই।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পদার্থদ্বয় হলো একটি তামার পাত্র ও কিছু কয়লার টুকরা যা কঠিন পদার্থ। নিচে এদের বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলো:
তামার পাত্রের বৈশিষ্ট্য:
১. এটি কঠিন অর্থাৎ শক্ত।
২. আঘাতে ঝনঝন শব্দ করে।
৩.. তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
৪. উচ্চ তাপে গলে ও আলো প্রতিফলিত হয়। অর্থাৎ এটি একটি ধাতু।
কয়লার টুকরার বৈশিষ্ট্য:
১. এটি তেমন শক্ত নয়। চাপ দিলে ভেঙে যায়।
২. আঘাত করলে শব্দ উৎপন্ন হয় না।
৩.. তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
৪. নিম্ন তাপে গলে ও আলো প্রতিফলিত হয় না। অর্থাৎ এটি একটি অধাতু।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পদার্থদ্বয় কঠিন। তবে আঘাতে একটি ভাঙলেও অপরটি ভাঙবে না। এর মূল কারণ, কঠিন পদার্থ হলেও একটি ধাতু ও অপরটি অধাতু। উল্লিখিত পদার্থের একটি তামার পাত্র ও অপরটি কয়লার টুকরা। তামার পাত্র ধাতু, যা ধাতুর বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সাধারণত কঠিন। আঘাতে ঝনঝন শব্দ হয়, আলো প্রতিফলিত করে, একটি মাত্র পদার্থ দ্বারা তৈরি তাই আঘাতে ধাতব পদার্থ ভাঙে না। অপরদিকে কয়লার টুকরাকে আঘাত করলে ভেঙে যাবে। আঘাতে ঝনঝন শব্দ হবে না। অর্থাৎ, ধাতব পদার্থকে আঘাত করলে ভাঙে না এবং অধাতুকে আঘাত করলে ভাঙে।
এ কারণেই উদ্দীপকে উভয় কঠিন পদার্থের মধ্যে তামার পাত্র ভাঙে না এবং কয়লার টুকরা ভেঙে যাবে।
Related Question
View Allযা জায়গা দখল করে ও যার ভর আছে তাকেই পদার্থ বলে।
যেসব মৌলিক পদার্থ বিদ্যুৎ ও তাপ সুপরিবাহী নয়, তাদেরকে অধাতু বলে। অধাতুকে আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ করে না। এদেরকে সরু তারে ও পাতে পরিণত করা যায় না। এরা নিম্ন গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট। যেমন- কার্বন, নাইট্রোজেন, সালফার প্রভৃতি অধাতু।
ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রীর ব্যবহৃত পাত্রটির উপাদান হচ্ছে এলুমিনিয়াম। এটি একটি হালকা নীলাভ সাদা ধাতু। এ ধাতুটির ব্যবহারের দিক থেকে অনেক গুরুত্ব রয়েছে। যেমন-
১. এলুমিনিয়াম ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী।
২. ধাতুটি খুব হালকা এবং ভারবহনের ক্ষমতা আছে বলে এর ধাতু সংকরসমূহ উড়োজাহাজ, রেলগাড়ি, মটরগাড়ি, ট্রাম প্রভৃতির অংশ নির্মাণ করতে ব্যবহৃত হয়।
৩. বিদ্যুৎ সুপরিবাহী এবং কপারের তুলনায় সস্তা বলে বৈদ্যুতিক কেবল হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।
৪. হালকা বহনক্ষম সিড়ি নির্মাণে, বাসনপত্র, চেয়ার, বাক্স প্রভৃতি তৈরিতে এ ধাতু প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়।
৫. এলুমিনিয়ামের পাতলা পাত দিয়ে সিগারেট, চকলেট ও অনেক খাদ্য দ্রব্যের মোড়ক তৈরি করা হয়।
৬. চকচকে বার্নিশ তৈরিতে এলুমিনিয়াম চূর্ণ ব্যবহৃত হয়।
অতএব উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রীর ব্যবহৃত পাত্রটির উপাদানের গুরুত্ব অপরিসীম।
রান্নার ক্ষেত্রে ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রী বেশি সুবিধা পায়।
বিশ্লেষণ: উদ্দীপকে আমরা পাই, ফজলুল হক সাহেবের মা মাটির চুলায় মাটির পাতিলে রান্না করেন। অপরদিকে তার স্ত্রী গ্যাসের চুলায়এলুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করেন। ফজলুল হক সাহেবের মা মাটির চুলায় রান্না করার কারণে তিনি কম সুবিধা পান। কারণ, মাটি তাপ কুপরিবাহী বলে এর মধ্য দিয়ে তাপ চলাচল করে ধীরগতিতে। যার ফলে মাটির চুলায় মাটির পাতিলে রান্না করলে সহজে তাপ পাতিলের জিনিসকে সিদ্ধ করে না। এতে তার অনেক বেশি জ্বালানি খরচ করতে হয়। তাছাড়া মাটির চুলায় তিনি জ্বালানি হিসেবে যে কাঠ খড়ি ব্যবহার করেন আমরা জানি যে, তার প্রায় ৮৫ ভাগ নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে এলুমিনিয়ামের তাপ পরিবাহকত্ব মাটির তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এলুমিনিয়ামের তৈরি পাত্রে রান্না করলে পাতিলের জিনিস তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়। তাছাড়া এতে গ্যাস ব্যবহারের কারণে জ্বালানিও বেশি খরচ হয় না। ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রী এ সুবিধাগুলো পেয়ে থাকেন, যা তার মা পায় না। তাই বলা যায়, রান্নার ক্ষেত্রে ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রী তার মায়ের চেয়ে বেশি সুবিধা পায়।
যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ ফুটতে শুরু করে এবং বাষ্পে রূপান্তরিত হয়, তাই ঐ তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক।
কোনো বস্তুর তাপ পরিবহনের ক্ষমতাকে ঐ বস্তুর তাপ পরিবাহিতা বলে। যেমন, কাচের চেয়ে লোহা দ্রুত তাপ পরিবহন করে। তাই লোহার তাপ পরিবাহিতা বেশি, কাচের তাপ পরিবাহিতা লোহার চেয়ে কম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
