বাংলাদেশের গণহত্যা ও বর্বরতার খবর বহির্বিশ্বে প্রথম ছড়িয়ে দেন বিদেশি সাংবাদিকরা।
যৌথবাহিনী গঠনের পর মুক্তিযুদ্ধ দারুণ গতি লাভ করে। কারণ মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথবাহিনী গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ সর্বাত্মক রূপলাভ করে। যৌথবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণের ফলে পাকিস্তানি বাহিনী খুব সহজেই পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে। অল্প সময়ের ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল শত্রুমুক্ত হয়। ১৬ই ডিসেম্বর যৌথবাহিনীর প্রধানের নিকট পাকিস্তানি বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে শফিকের বাবা অনিয়মিত বাহিনীর অধীনে থেকে যুদ্ধ করেছেন। মুক্তিবাহিনী সরকারি পর্যায়ে দুটি শাখায় বিভক্ত ছিল। যথা- নিয়মিত বাহিনী ও অনিয়মিত বাহিনী।
উদ্দীপকে শফিকের বাবা যুদ্ধকালীন সময়ে ছাত্র থাকায় তিনি অনিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত একজন যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেন। ছাত্র, যুবক, শ্রমিক, কৃষক ও সকল পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিভিন্ন সেক্টরের অধীনে অনিয়মিত বাহিনী গঠিত হয়। এই বাহিনীর সরকারি নামকরণ ছিল 'গণবাহিনী' বা এফ. এফ (ফ্রিডম ফাইটার বা মুক্তিযোদ্ধা)। তাদের নিজ নিজ এলাকায় গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হতো। কমিউনিস্ট পার্টি ন্যাপ (মোজাফফর), ন্যাপ (ভাসানী) ও ছাত্র ইউনিয়নের আলাদা গেরিলা দল ছিল। পাকিস্তানের চব্বিশ বছরে বাঙালি জাতির স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল আন্দোলনে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করছে এদেশের ছাত্রসমাজ। পরিশেষে বলা যায়, শফিকের বাবা যুদ্ধকালীন সময়ে অনিয়মিত বাহিনীর সদস্য ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সরকার তথা মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকার গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ মুজিবুর রহমানের নামে মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননকে নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। উদ্দীপকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলতে এ মুজিবনগর সরকারকেই বোঝানো হয়েছে। ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। মুজিবনগর সরকার প্রধানত দুইভাবে তার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। যেমন-বেসামরিক কার্যক্রম ও সামরিক কার্যক্রম। প্রত্যেক দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও এর অধীনে দপ্তর থাকে। মুজিবনগর সরকারেও তা ছিল। বাংলাদেশকে ১১টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করে ১১ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে ৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। মূলত মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং 'বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করা ছিল এ সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।
পরিশেষে বলা যায়, মুজিবনগর সরকার যদি যথাযথভাবে মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা না রাখত তবে এত অল্প সময়ে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জন করতে পারতাম না।
Related Question
View All১৯৭০ সালের পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান বিজয়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র শুরু করে।
জুলফিকার আলী ভুট্টো বাঙালিদের ক্ষমতা গ্রহণে বাধা দেওয়ার জন্য ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেন। তিনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সংকট তৈরি করেন। এই পদক্ষেপ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
ইয়াহিয়া খান ১লা মার্চ ১৯৭১ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। এতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে ক্ষোভআরও বেড়ে যায়। আওয়ামী লীগ এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সর্বাত্মক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে।
২রা মার্চ ১৯৭১ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়। এটি স্বাধীন বাংলার প্রথম আনুষ্ঠানিক পতাকা ছিল।
৩রা মার্চ ১৯৭১-এ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ওই দিন পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে ছাত্রনেতা শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এতে আন্দোলন আরও গতিশীল হয় এবং জনগণের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা বৃদ্ধি পায়।
শাজাহান সিরাজ ৩রা মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এতে বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এটি মুক্তি আন্দোলনে নতুন উদ্দীপনা এনে দেয় এবং ছাত্র-জনতাকে আরও সংগঠিত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!