কোনো সাধারণ অংশীদার ব্যবসায় পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ না করলে তাকে ঘুমন্ত অংশীদার বলে।
চুক্তি ব্যতীত অংশীদারি কারবার গঠন করা যায় না বিধায় চুক্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের মূলভিত্তি বলা হয়।
অংশীদারি চুক্তি মৌখিক অথবা লিখিত উভয়ই হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে অংশীদারদের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি, বিরোধ, মামলা- মোকদ্দমা ইত্যাদি এড়ানোর জন্য চুক্তি লিখিত হওয়াই বাঞ্ছনীয়। এজন্য বলা হয়, চুক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অংশীদারি ব্যবসায়ের ধরন হলো সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায়।
যদি কোনো অংশীদারি ব্যবসায়ে সকল অংশীদারের দায় অসীম না থাকে বা কয়েকজন অথবা কমপক্ষে একজন অংশীদারের দায় সীমাবদ্ধ থাকে, তাকে সীমিত বা সীমাবদ্ধ বা পরিমিত অংশীদারি ব্যবসায় বলে।
উদ্দীপকের শফিক, আজিম ও রনি পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একটি গৃহনির্মাণ ফার্ম গঠন করার পরিকল্পনা করে। তারা উক্ত ফার্মে প্রকৌশলী রফিকের সুনাম ব্যবহার করার জন্য তাকে অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করে। রফিকের দায় ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত সীমিত অর্থাৎ রফিক সীমিত অংশীদার। অন্যদিকে তিন বছর পর আজিম দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। তার ১৫ বছর বয়সী সন্তান তামীমকে তারা অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করে। তামীম নাবালক বিধায় তার দায়ও আইন অনুযায়ী সীমিত অর্থাৎ তামীম সীমাবদ্ধ অংশীদার। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত অংশীদারি ব্যবসায়ের ধরন হলো সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায়।
উদ্দীপকে দায় মেটানোর জন্য রফিক ও তামীমকে প্রদত্ত চিঠির কোনো যৌক্তিকতা নেই। কেননা রফিক ও তামীম উভয়ই সীমাবদ্ধ অংশীদার।
চুক্তি অনুযায়ী বা আইনগত কারণে ব্যবসায়ের কোনো অংশীদারের দায় সীমাবদ্ধ হলে তাকে সীমিত বা সীমাবদ্ধ অংশীদার বলে।
উদ্দীপকের অংশীদারি প্রতিষ্ঠানটিতে রফিক একজন সীমাবদ্ধ অংশীদার। কেননা রফিক চুক্তি অনুযায়ী মূলধন, শ্রম বা দক্ষতা কিছুই বিনিয়োগ করেন না কিন্তু মুনাফা ভোগ করেন এবং ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত দায় বহন করবেন। অর্থাৎ জনাব রফিকের দায় ১০,০০০ টাকা. পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে অংশীদারি প্রতিষ্ঠানটির অপর একজন অংশীদার আজিম দুর্ঘটনায় মৃত্যবরণ করায় তার ১৫ বছর বয়সী সন্তান তামীমকে অন্যান্য অংশীদারগণ অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করে। তামিম নাবালক বিধায় তার দায় আইন অনুযায়ী বিনিয়োগকৃত মূলধন পর্যন্ত সীমিত থাকবে। অর্থাৎ তামিমও একজন সীমাবদ্ধ অংশীদার।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে দায় মেটানোর জন্য রফিক ও তামীমকে প্রদত্ত চিঠি অযৌক্তিক কেননা উভয়ই সীমাবদ্ধ অংশীদার।
Related Question
View Allসাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়ের ন্যূনতম সদস্যসংখ্যা ২ জন।
অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারদের দায় ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে অসীম।
অসীম দায় বলতে ব্যবসায়ে নিয়োজিত মূলধনের বাইরেও অংশীদারদের দায় সৃষ্টি হওয়াকে বোঝায়; যা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিকে দায়বদ্ধ করে এবং ব্যক্তি দেউলিয়া হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তা বিস্তৃত থাকে। এরূপ অসীম দায়ের কারণেই অংশীদারি ব্যবসায় গঠনে সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা উৎসাহিত হয় না। যে কারণে সকল দেশেই এরূপ ব্যবসায়ের সংখ্যা কম। তাই বলা যায়, অংশীদারি ব্যবসায়ের দায় অসীম।
উদ্দীপকের জনাব সফিক একজন কর্মী অংশীদার।
যে অংশীদার ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না, শুধু নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রাখে তাকে কর্মী অংশীদার বলে। চুক্তি অনুযায়ী কর্মী অংশীদার অন্যান্য অংশীদারের ন্যায় ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে এবং অসীম দায় বহনে বাধ্য থাকে। অবশ্য ব্যবসায় পরিচালনার জন্য এদেরকে নির্দিষ্ট হারে বেতন বা লাভের অংশ দেওয়া হয়। সাধারণত ব্যবসায় পরিচালনায় যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে এ ধরনের অংশীদার হিসেবে নেওয়া হয় যাতে ব্যবসায়ে অধিক মুনাফা অর্জন করতে সমর্থ হয়।
উদ্দীপকের জনাব সফিক একজন প্রকৌশলী। তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে করিম, রহিম ও মিজান তাকে বিনা মূলধনে অংশীদার হিসাবে নেয়। যেহেতু জনাব সফিক ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ না করেও শুধু নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রাখার কারণে উক্ত ব্যবসায়ের অংশীদারিত্ব লাভ করেছে। তাই বলা যায়, জনাব সফিক একজন কর্মী অংশীদার।
উদ্দীপকের আলোকে আমি মনে করি মি. মিজান অন্যদের মতো সমান মুনাফা পাবে।
অংশীদারি ব্যবসায়ের সকল অংশীদার একই রকম হবে এমন নয়। বিভিন্ন ধরনের অংশীদারের মধ্যে অন্যতম হলো ঘুমন্ত অংশীদার। যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে কিন্তু অধিকার থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায় পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে না তাকে ঘুমন্ত অংশীদার বলে।
মি. মিজান একজন ঘুমন্ত অংশীদার। উদ্দীপকে করিম, রহিম ও মিজান অংশীদারির ভিত্তিতে ব্যবসায় গঠন করেছে। এ ব্যবসায়ে করিম, রহিম ও সফিক পরিচালনায় অংশ নেয় কিন্তু মিজান পরিচালনায় অংশ নেয়নি। তবে বছর শেষে মিজান অন্যদের মতো মুনাফা দাবি করে। মি. মিজানের কার্যক্রম অনুযায়ী তিনি একজন ঘুমন্ত অংশীদার। এ অংশীদারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মিজান সমান মুনাফা পাবেন।
সুতরাং বলা যায়, জনাব মিজান সমান মুনাফা পাবেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!