ইসলামি ব্যাংকিং হলো- এমন কারবার পদ্ধতি যেখানে যাবতীয় কার্যক্রম এবং লেনদেন ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
জাকাত আদায়ের মূল লক্ষ্যই হলো সমাজ থেকে দরিদ্রতা দূর করা। জাকাতলব্ধ সম্পদ পরিকল্পিত উপায়ে সংগ্রহ ও ব্যয় করা হলে সমাজে অভাব অনটন থাকবে না। কেননা সমাজের ধনীদের নিকট থেকে জাকাত সংগ্রহ করে তা গরিবদের জন্যই ব্যয় করা হবে। ধনীদের সম্পদে গরিবদের এ অধিকার আল্লাহ প্রদত্ত। জাকাতলব্ধ সম্পদ দিয়ে, দরিদ্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য মোচন করা যায়। এছাড়া জাকাতের অর্থ দিয়ে দরিদ্রদের ঋণমুক্তি দিয়ে, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে দিয়ে ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য মোচন করা যায়।
উদ্দীপকে পঞ্চাশ মণ ধান সরকারি তহবিলে জমাকরণে শরিয়তের উশর আদায়ের বিধান পালিত হয়েছে। উশর অর্থ এক-দশমাংশ। উশর হলো জমিতে উৎপন্ন ফসলের জাকাত।
উশর আদায় করা ফরজ। আল্লাহ উশর আদায়ের নির্দেশ দিয়ে বলেন- “তোমরা ফল-ফসল খাও, যখন ফসল কাটার সময় হয়। আর ফসল তোলার সময় তার হক আদায় কর। তোমরা অপচয় করো না। (সুরা আল-আনআম-১৪১) জমিতে উৎপন্ন ফসল কম হোক বা বেশি হোক তার উশর আদায় করতে হবে। উশরের পরিমাণ সম্পর্কে রাসুল (স) বলেছেন, “যে জমি বৃষ্টির পানি ও ঝরনার পানিতে সিক্ত করে তা থেকে ফসলের 'দশ ভাগের একভাগ' এবং যেসব জমি সেচের মাধ্যমে সিক্ত হয় সেগুলো থেকে ফসলের 'বিশ ভাগের এক ভাগ' আদায় করতে হবে। (সহিহ বুখারি)।
উদ্দীপকে সেচের মাধ্যমে উৎপাদিত ফসল হতে পঞ্চাশ মণ ধান সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়। অর্থাৎ সরকারের জাকাত ফান্ডে জমা দেওয়া হয়। উক্ত পঞ্চাশ মণ ধান মূলত কৃত্রিম উপায়ে সেচের মাধ্যমে উৎপাদন করা হয়েছে। তাই প্রতি মণে বিশ ভাগের এক ভাগ উশর দিলে এক হাজার মণে হয় পঞ্চাশ মণ। এই পঞ্চাশমণ ধান সরকারের তহবিলে জমা দেওয়ার মাধ্যমে ইসলামি শরিয়তে উশরের বিধান আদায় করা হয়েছে।
উদ্দীপকে সমিতির কার্যক্রম ইসলামি অর্থব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ইসলামি অর্থব্যবস্থা হলো- কুরআন-সুন্নাহে বর্ণিত মানুষের সম্পদ উপার্জন, বণ্টন ও ব্যয়ের নির্দেশনা। এটি একটি মানবকল্যাণময় প্রগতিশীল অর্থব্যবস্থা। শরিয়ত পরিপন্থি কোনো বিধান ইসলামি অর্থব্যবস্থায় অনুসৃত হয় না।
ইসলামি অর্থব্যবস্থা একটি আদর্শিক অর্থব্যবস্থা। অর্থসম্পদ সম্পর্কীয় সবক্ষেত্রে এর আদর্শিক চেতনা এ অর্থব্যবস্থাকে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করে রাখে। এ অর্থব্যবস্থায় সমস্ত সম্পত্তির একচ্ছত্র মালিক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। এ অর্থব্যবস্থা পুরোপুরি ইসলামি শরিয়তভিত্তিক। এখানে যা খুশি উৎপাদন করা যায় না, যেভাবে খুশি উপার্জনও করা যায় না। এ অর্থব্যবস্থায় হালাল পন্থায় উপার্জন বাধ্যতামূলক। এ অর্থব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ব্যয়নীতিতে অপচয় নিষিদ্ধ। এখানে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় সম্পদের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টননীতি অনুসরণ করা হয়। এ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো- হালাল-হারাম নির্ধারণ। সম্পদ উপার্জন, ব্যয় ও ভোগের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের নির্ধারিত সীমা-পরিসীমা মেনে চলা অত্যাবশ্যক। এ অর্থব্যবস্থার অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- জাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা। সুদমুক্ত এ জাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থায় ধনীদের সম্পদ হতে জাকাত আদায় করে দরিদ্রদের সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্র্য মোচন করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হয়। এই অর্থব্যবস্থার সাথে চমৎকার সাদৃশ্য রয়েছে উদ্দীপকে উল্লিখিত শফিক ও তার বন্ধুকে নিয়ে গঠিত সমবায় সমিতির সাথে। ইসলামি অর্থব্যবস্থার ন্যায় এখানে আল্লাহকে সম্পদের মূল সত্তাধিকারী মনে করা হয় এবং বছর শেষে মোট জামানতের নির্দিষ্ট অংশ জাকাত বণ্টনের ন্যায় দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
যেহেতু উদ্দীপকে সমিতির কার্যক্রমে আল্লাহকে সম্পদের মূল সত্তাধিকারী মনে করা হয় এবং বছর শেষে সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয় সেহেতু এই কার্যক্রম ইসলামি অর্থব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
Related Question
View Allআল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য ।
দ্বিতীয় স্তরের তাকওয়া অনুশীলনকারী ব্যক্তিকে বলা হয় সুলাহা।
তাকওয়ার দ্বিতীয় সোপান হলো এমন হালাল কথা, কাজ, বিষয় ও বস্তু বর্জনের স্তর, যে হালালের হালাল হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ রয়েছে। কেননা, সন্দেহযুক্ত হালাল বর্জন না করলে সন্দেহাতীতভাবে হারাম থেকে মুক্ত থাকা যায় না। রাসুলুল্লাহ (স) যা সন্দেহযুক্ত তা বর্জন করতে এবং যা সন্দেহযুক্ত নয় তা গ্রহণ করার কথা বলেছেন।
অর্থনীতিবিদ রফিকুল ইসলামের আলোচনায় ইসলামি অর্থব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ইসলামি অর্থব্যবস্থা হলো কুরআন-সুন্নাহর আলোকে মানুষের সম্পদ উপার্জন, বণ্টন ও ব্যয়ের নির্দেশনা। এটি একটি মানবকল্যাণময় ও প্রগতিশীল অর্থব্যবস্থা। জাকাত, হালাল উপার্জন ও ইসলামি শরিয়তের অনুসরণ এ অর্থব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা রফিকুল ইসলামের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের রফিকুল ইসলাম এমন একটি অর্থব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যেখানে হালাল উপার্জন এবং জাকাতের বিষয়টি বাধ্যতামূলক। তার আলোচিত অর্থব্যবস্থার সাথে ইসলামি অর্থব্যবস্থার মিল রয়েছে। ইসলামি অর্থব্যবস্থা একটি আদর্শিক অর্থব্যবস্থা। এ অর্থব্যবস্থায় সম্পদের প্রকৃত মালিক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। মানুষ তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে তা ব্যবহার করেন। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় যা খুশি এব উৎপাদন করা যায় না, যেভাবে খুশি উপার্জনও করা যায় না। এ অর্থব্যবস্থায় হালাল পন্থায় উপার্জন বাধ্যতামূলক। এ ব্যবস্থায় সম্পদের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টননীতি অনুসরণ করা হয়। এ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো- হালাল-হারাম নির্ধারণ। সম্পদ উপার্জন, ব্যয় ও ভোগের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের নির্ধারিত সীমা- পরিসীমা মেনে চলা অত্যাবশ্যক। এ অর্থব্যবস্থার অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- জাকাতভিত্তিক ও সুদমুক্ত। এ অর্থব্যবস্থায় ধনীদের সম্পদে গরিবদের জন্য নির্ধারিত অংশ রয়েছে। ইসলামের বিধান অনুযায়ী সঠিকভাবে জাকাত প্রদানের মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যকার বৈষম্য কমে আসে।
ইবাদত কবুলের জন্য আমাদের হালাল উপার্জন করতে হবে এবং হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকতে হবে- মাওলানা মুহিবুর রহমানের উক্তিটি ইসলামের আলোকে যথার্থ। ইসলামি শরিয়তে যেসব বিষয়ের অনুমতি রয়েছে এবং যা সম্পর্কে কোনো নিষেধ বাণী নেই তাকে হালাল বা বৈধ বলে। আর শরিয়তে যেসব বিষয় নিষেধ করা হয়েছে তা হারাম বা অবৈধ। জীবনের সবক্ষেত্রে হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা ইসলামের বিধান। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় এ বিধানটি মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম। হালাল উপার্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। এটি ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত। মানুষ যদি হালাল উপার্জন করে এবং হালাল জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে। আর যদি হারাম উপায়ে উপার্জন ও হারাম জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা একজন মুমিনের জন্য অত্যাবশ্যক। হালাল- হারামের বিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ পালন করা হয়। হালাল উপার্জনকারীর ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হন আর হারাম উপার্জনকারীর প্রতি অসন্তুষ্ট হন।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন ও ইবাদত কবুলের জন্য ইসলামি শরিয়তের আলোকে হালাল-হারামের বিধান মেনে চলা মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যক। তাই মাওলানা মুহিবুর রহমানের উক্তিটি ইসলামের দৃষ্টিতে যথার্থ।
ইসলাম পাঁচটি বুনিয়াদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
স্বত্ব ত্যাগ করে কাউকে বিশেষ করে অভাবগ্রস্ত ও নিঃস্ব লোকদের কিছু দান করাকে সাদাকাত বলে। সাদাকাত অর্থ হলো দান। এটি দুই প্রকার। যথা- ১. নফল বা ঐচ্ছিক সাদাকাত এবং ২. ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক সাদাকাত। অর্থাৎ বাধ্যবাধকতা ছাড়া অথবা বিশেষ শর্তসাপেক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে যে দান করা হয় তাই ওয়াজিব সাদাকাত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!