থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোন নিঃসৃত হয়।
শক্তির প্রয়োজনীয়তা প্রধান কারণ দুইটি। কারণগুলো হলো-
১. দেহের অভ্যন্তরীণ কার্য নির্বাহের জন্য।
২. শারীরিক পরিশ্রম ও অন্যান্য কাজের জন্য।
শারীরিক কার্যকলাপের ওপর শক্তি ব্যয় নির্ভর করে। মৌল শক্তির চাহিদা ও দৈহিক কার্যকলাপের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির চাহিদা যোগ করেই একজন ব্যক্তির শক্তির চাহিদা নির্ণয় করা যায়।
দিনমজুর হওয়ার কারণে শফিকের শক্তি চাহিদা বেশি হবে। উদ্দীপকে
দেওয়া আছে,
শফিকের ওজন = ৫৭ কেজি এবং শফিক দিনমজুরের কাজ করে
শফিকের প্রতি কিলোগ্রাম ওজনে প্রতি ঘণ্টায় ১ কিলোক্যালরি শক্তি মৌল বিপাকের জন্য দরকার।
(i) শফিকের মৌল বিপাকের জন্য ব্যয়িত শক্তি = ওজন ১০ সময়
= ৫৭ ১০ ২৪
= ১৩৬৮ কিলোক্যালরি
(ii) ভারি কাজের জন্য শফিকের ব্যয় হয় মৌল বিপাকের ১০০% অর্থাৎ
= ১৩৬৮ ১০০%
= ১৩৬৮ কিলোক্যালরি
(iii) খাদ্যের বিশেষ চলক্রিয়ার জন্য ব্যয় হয় মোট শক্তির ১০%
= (১৩৬৮ ১৩৬৮) এর ১০%
= ২৭৩.৬ কিলোক্যালরি
শফিকের দৈনিক মোট ক্যালরি চাহিদা (১৩৬৮ + ১৩৬৮ + ২৭৩.৬)
= ৩০০৯.৬ কিলোক্যালরি
সুতরাং, শফিকের দৈনিক শক্তির চাহিদা ৩০০৯.৬ কিলোক্যালরি।
দুই ভাইয়ের মধ্যে শফিকের মৌল বিপাক হার বেশি হবে। দেহের ক্ষেত্রফল, দেহের গঠন এবং বয়স মৌল বিপাককে প্রভাবিত করে। এসকল বিষয়ের পার্থক্যের কারণে মৌল বিপাক হারেও পার্থক্য দেখা যায়।
শফিক তার বড় ভাই রফিকের থেকে বেশি লম্বা ও পেশিবহুল। অর্থাৎ শফিকের দেহের ক্ষেত্রফল ও গঠন তার বড় ভাইয়ের তুলনায় বেশি। আর আমরা জানি দেহের ক্ষেত্রফল বাড়লে বিপাক ক্রিয়ার হারও বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও দেহের গঠনের ভিন্নতার জন্যও মৌল বিপাক হারের পার্থক্য হয়ে থাকে। দৃঢ় পেশিবহুল দেহের বিপাক হার বেশি হয়। যেহেতু শফিক পেশিবহুল দেহের অধিকারি তাই তার বিপাক হারও বেশি। অপরদিকে বয়সও দেহের বিপাক ক্রিয়ার উপর প্রভাব ফেলে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মৌল বিপাক হার হ্রাস পেতে থাকে। বড় ভাই রফিক অপেক্ষা শফিকের মৌল বিপাক হার বেশি। এভাবে বয়স, দেহপৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল, দেহের গঠন ইত্যাদি এ কারণে দুই ভাইয়ের মৌল বিপাকে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
Related Question
View Allশক্তি পরিমাপের একক ক্যালরি।
শক্তির চাহিদা নির্ণয়ে মৌল বিপাক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। মৌল বিপাক হার বলতে প্রতি ঘণ্টায় প্রতি বর্গমিটার দেহপৃষ্ঠের ক্ষেত্রফলে যে পরিমাণ শক্তি বা ক্যালরি ব্যয় হয় তাকে বোঝায়। মধ্যম বয়সের ব্যক্তিদের গড় বিপাক হার প্রায় ৪০ ক্যালরি।
উদ্দীপকে রেহানা বেগম বলেন, শক্তির ব্যয় শারীরিক কার্যকলাপের ওপর নির্ভর করে। আমাদের বিভিন্ন কাজে নানা ধরনের শক্তি ব্যয় হয়। সম্পূর্ণ বিশ্রামরত অবস্থায়ও সর্বনিম্ন শক্তি ব্যয় হয়।
শক্তির ব্যয়ের ভিত্তিতে কাজ তিন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন- হালকা কাজ, মাঝারি কাজ ও ভারি কাজ। হাঁটাচলা, বই পড়া, ঘর গোছানো ইত্যাদি হালকা কাজের জন্য প্রতি ঘণ্টায় শক্তির চাহিদা গড়ে ১৫০-২৫০ ক্যালরি। সাইকেল চালানো, জোরে হাঁটা, খেলাধুলা করা ইত্যাদি মাঝারি কাজের অন্তভুক্ত কাজের জন্য গড়ে ৩০০-৪০০ ক্যালরি প্রয়োজন। এ ধরনের সাঁতার কাটা, রিকশা চালানো, গাছ কাটা ইত্যাদি ভারি কাজের জন্য প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৪৫০-৫৯০ ক্যালরি ব্যয় হয়।
প্রতি ঘণ্টায় প্রতি কিলোগ্রাম ওজনের জন্য শক্তির চাহিদা-
লেখার কাজ - ২০ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায়
দর্জির কাজ- ৪৫ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায়
টাইপ করা- ৩০ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায়
রাজমিস্ত্রির কাজ- ৩০০ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায়
রিকশা চালানোর কাজ- ৩৫০ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায়
পরিশেষে বলা যায়, বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন ক্যালরি খরচ হয়।
উদ্দীপকে রেহানা বেগমের শেষের উক্তি নারী-পুরুষভেদে, বিভিন্ন বয়সে এবং বিভিন্ন শারীরিক অবস্থায় শক্তি চাহিদা বিভিন্ন হয়। শক্তি চাহিদায় বয়স, লিঙ্গ, পরিশ্রম, হরমোনের ক্ষরণ, দেহের আয়তন প্রভাব, বিস্তার করে। যার ফলে শক্তি চাহিদায় পার্থক্য দেখা যায়।
নারী ও পুরুষের মৌল বিপাক হার সমান হয় না। নারীর মৌল বিপাক হার সমবয়স্ক পুরুষের তুলনায় কম। নারী পুরুষের তুলনায় কম পরিশ্রমী এবং দেহে মেদ বেশি থাকে, অন্যথায় পুরুষের দৈহিক পরিশ্রমে পেশি চালনা তীব্রতর হয় বলে নারী অপেক্ষা পুরুষের বিপাক হার ১০%-২০% বেশি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মৌল বিপাক হার হ্রাস পেতে থাকে। বৃদ্ধদের তুলনায় যুবকের বিপাক বেশি হয়। শিশুদের বিপাক হার ১০%-১২% বেশি থাকে। জন্মের কয়েক মাস পর থেকে এটা সর্বাপেক্ষা বেশি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। তৃতীয় বছরে হ্রাস পেয়ে যৌবনে সামান্য বৃদ্ধি পায়। ২৫ বছর থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত আবার ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। পুরুষের তুলনায় মহিলাদের বিপাক বেশি ওঠানামা করে। মাসিকের পূর্বে এই হার বাড়ে এবং মাসিকের পর কমে। গর্ভাবস্থার শেষ ভাগে মৌল বিপাক ১৫%-২৫% বৃদ্ধি পায়। এ সময়ে গর্ভবতী মহিলার ওজন বৃদ্ধি পায় এবং গর্ভস্থ ভ্রূণের বিপাক হার বেশি থাকে, সে কারণে মৌল বিপাক বৃদ্ধি পায়।
তাই বলা যায়, বিভিন্ন অবস্থাভেদে শক্তি চাহিদার তারতম্য হয়।
শক্তি একটি ক্ষমতা যার দ্বারা আমরা কার্য সম্পাদন করে থাকি।
জীবন্ত কোষে যেসব জৈবিক প্রক্রিয়া অবিরত চলতে থাকে তার জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই শক্তির চাহিদাকে জীবদেহের প্রধান চাহিদা বলা হয়।
জৈবিক প্রক্রিয়ার মধ্যে শ্বসন, রক্ত সঞ্চালন, রেচন প্রভৃতি জীবন ধারণের জন্য অত্যাবশ্যক। এছাড়াও দেহের কোষের প্রতিটিতে রাসায়নিক প্রক্রিয়া চলে। যেমন- জারণ, বিজারণ, এনজাইম ও হরমোন নিঃসরণ ইত্যাদি। এগুলোর জন্য শক্তির প্রয়োজন। এছাড়া প্রাণীদেহের চলাফেরা ও অন্যান্য পেশিগত কাজেও শক্তির প্রয়োজন হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!