যে সমস্ত দ্রব্য পাওয়ার জন্যে মানুষকে মূল্য প্রদান করতে হয় তাকে অর্থনৈতিক দ্রব্য বলে
যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণগুলোর ওপর ব্যক্তিমালিকানা বজায় থাকে, তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে।
এ ব্যবস্থায় উৎপাদন, বিনিময়, বণ্টন ও ভোগসহ সমাজের সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হয়। উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ী নিজ ইচ্ছানুযায়ী ও মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন ও ক্রয়-বিক্রয় করে। ভোগের ক্ষেত্রেও প্রত্যেক ব্যক্তি পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে। অর্থাৎ, ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কোনো সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এ অর্থব্যবস্থাকে অবাধ বা মুক্ত অর্থনীতিও বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত শফিক ও তার বাবা কৃষিকাজ করে; যা একটি অর্থনৈতিক কাজ।
মানুষ জীবিকা নির্বাহ করার জন্য যে কাজ করে থাকে, তাকে অর্থনৈতিক কাজ বলে। এ ধরনের কাজ দ্বারা মানুষ অর্থ উপার্জন করে এবং তা জীবনধারণের জন্য ব্যয় করে। যেমন- শ্রমিকদের কল-কারখানায় কাজ, কৃষকদের জমিতে কাজ ইত্যাদি হলো অর্থনৈতিক কাজ। এ ধরনের কাজ করে অর্জিত অর্থ দ্বারা মানুষ জীবনধারণের প্রয়োজনীয় অভাবসমূহ পূরণ করে। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, শফিক দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সে তার বাবার সাথে কৃষিকাজ করে থাকে এবং উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করে তারা জীবিকা নির্বাহ করে। অর্থাৎ শফিক ও তার বাবা কৃষিকাজ করে অর্থ উপার্জন করে এবং তা জীবনধারণে ব্যয় করে। কাজেই বলা যায়, শফিক ও তার বাবার কাজটি হলো কৃষি-সংক্রান্ত অর্থনৈতিক কাজ।
উদ্দীপকে মিশ্র অর্থব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে সহায়ক।
মিশ্র অর্থব্যবস্থায় উৎপাদন ব্যবস্থা, বিনিয়োগ, সম্পদের মালিকানা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি খাতের উপস্থিতি স্বীকৃত। এ অর্থব্যবস্থায় ভোক্তার পছন্দকে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাজারে ভোক্তার পছন্দ অনুযায়ী দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদিত হয় এবং তারা পছন্দ অনুযায়ী দ্রব্য ক্রয় ও ভোগ করতে পারে। এ অর্থব্যবস্থায় সরকার জনগণের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে। যেমন- কাজের বিনিময়ে খাদ্য, বেকার ও বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, নারী ও শিশু সুরক্ষা তহবিল, পেনশন, গ্র্যাচুইটি প্রভৃতি প্রদান করে। তাই বেসরকারিভাবে পরিচালিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক কার্যাবলির পাশাপাশি সরকারের এসব সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করে। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় বণ্টন ক্ষেত্রেও উভয় (সরকারি ও বেসরকারি) খাতের কর্তৃত্ব লক্ষ করা যায়। এখানে বেসরকারি উদ্যোগে যে বণ্টনব্যবস্থা পরিচালিত হয় তা মুনাফাকে কেন্দ্র করেই গ্রহণ করা হয়। আবার সরকারি উদ্যোগে যে বণ্টনব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তার লক্ষ্য থাকে আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা মজবুত করা, শ্রমিকদের ন্যূনতম জীবনযাত্রার মান সংরক্ষণ, দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি তথা টেকসই সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। বিশুদ্ধ সমাজতন্ত্র বা ধনতন্ত্র কোনোটিই সমাজের উন্নয়নের জন্য এককভাবে যথেষ্ট নয়। তাই বলা যায়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন তথা একটি দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য মিশ্র অর্থব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Related Question
View Allকোন ব্যক্তি তার মালিকানাধীন উৎপাদনের উপকরণকে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত করে তার বিনিময়ে যা অর্জন করে তাই আয়।
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত যেসব সম্পদ ব্যবহার বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের শক্তি (বিদ্যুৎ, তাপ) উৎপাদন করা হয় সেগুলোকে শক্তি সম্পদ বলে।
যেমন- নদীর স্রোত ব্যবহার করে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোলিয়াম ইত্যাদি ব্যবহার করে তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয় সোলার প্যানেল। আবার আণবিক শক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধাস্ত্র (পারমাণবিক বোমা, গ্রেনেড) ইত্যাদি তৈরি করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, নদীর স্রোত, সৌরশক্তি, আণবিক শক্তি এগুলো হচ্ছে শক্তি সম্পদের বিভিন্ন উৎস।
শফিকের মাছ-মাংস ক্রয়ের ধারণাটি সুযোগ ব্যয়ের (Opportunity Cost) মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
কোনো দ্রব্যের অতিরিক্ত এক একক উৎপাদন বাড়াতে বিকল্প দ্রব্যটির যে পরিমাণ উৎপাদন ত্যাগ করতে হয় তাকে প্রথমোক্ত দ্রব্যটির সুযোগ ব্যয় বলে।

প্রদত্ত চিত্রে (OX) অক্ষে মাংসের পরিমাণ এবং (OY) অক্ষে মাছের পরিমাণ নির্দেশ করা হয়েছে। AB রেখাটি হলো সুযোগ ব্যয় রেখা যা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে দুটি বিকল্প দ্রব্য (মাছ ও মাংস) ক্রয়ের বিভিন্ন সংমিশ্রণ প্রকাশ করছে। এক্ষেত্রে শফিক ১০০০ টাকা ব্যয় করে শুধু মাংস কিনলে OB পরিমাণ অর্থাৎ ৪ কেজি মাংস কিনতে পারে অথবা সে মাছ কিনলে OA পরিমাণ অর্থাৎ ২ কেজি মাছ কিনতে পারে। কিন্তু শফিক ১০০০ টাকা দিয়ে ২ কেজি মাংস এবং ১ কেজি মাছ ক্রয় করলো; যা C বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত। অতএব C বিন্দুতে ১ কেজি মাছের সুযোগ ব্যয় হলো ২ কেজি মাংস।
উদ্দীপকের শফিকের দুটি দ্রব্য নির্বাচনের বিষয়টি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
নির্বাচন বলতে বোঝায় মানুষের অসীম অভাবের মধ্যে অপেক্ষাকৃত গুরুত্বপূর্ণ অভাবগুলো বাছাই করা। কারণ মানবজীবনে অভাব অসীম হলেও তা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সীমিত। এ জন্য মানুষের পক্ষে সকল অভাব একত্রে পূরণ করা সম্ভব হয় না। এ সমস্যা সমাধানের জন্য মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে বেশি প্রয়োজনীয় অভাবগুলো আগে পূরণ করার প্রচেষ্টা করে। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, শফিক বাজারে গিয়ে দেখল তার মায়ের দেওয়া ১০০০ টাকা দিয়ে ২ কেজি মাছ অথবা ৪ কেজি মাংস ক্রয় করতে পারে। তখন সে অনেক চিন্তার পর ১ কেজি মাছ এবং ২ কেজি মাংস ক্রয় করে যা মূলত গুরুত্ব অনুসারে অভাব নির্বাচনকে নির্দেশ করে। অর্থাৎ, শফিক তার প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত সম্পদ (১০০০ টাকা) দিয়ে অভাব নির্বাচনের মাধ্যমে তা পূরণ করে থাকে। কাজেই, উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, মানবজীবনে সম্পদের স্বল্পতা তথা দুষ্প্রাপ্যতার কারণে অভাব নির্বাচন করে তা পূরণ করতে হয়।
যে সমস্ত দ্রব্য পাওয়ার জন্য মানুষকে মূল্য প্রদান করতে হয় তাকে অর্থনৈতিক দ্রব্য বলে।
প্রকৃতি থেকে পাওয়া যে জিনিসগুলো মানুষের প্রয়োজন মেটায় তাকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলে।
মানুষ প্রকৃতি থেকেই সব সম্পদ আহরণ করতে পারে। কেননা প্রকৃতির মধ্যেই নানা মূল্যবান সম্পদ রয়েছে। যেমন- ভূমি, বনভূমি, খনিজ সম্পদ, নদ-নদী, গাছপালা, জীবজন্তু ইত্যাদি প্রকৃতির উপাদান। বস্তুত, প্রকৃতির এসকল উপাদানকেই প্রাকৃতিক সম্পদ বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!