কাজের ভালো মন্দ বিচার করাকে মূল্যায়ন বলে।
বাড়ি বা ফ্ল্যাট নির্বাচনে যথেষ্ট জায়গার প্রয়োজন। বড় বাড়ি নির্মাণে বেশি জমি প্রয়োজন। আবার ছোট আকারের ফ্ল্যাট নির্মাণে অল্প জমি হলেও চলে। পৌর কতৃপক্ষের নিয়ম মেনে চার কাঠা জমিতে প্রতি তলায় ১,৯০০ বর্গফুট, তিন কাঠা জমিতে ১,৪০০ বর্গফুট, দুই কাঠা জমিতে ৯৬০ বর্গফুট এবং এক কাঠা জমিতে ৪৮০ বর্গফুট মেঝে বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণ করা যায়
শফিক সাহেব একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাই একক সিদ্ধান্ত। খুব সহজেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। নিজস্ব চাহিদা, জ্ঞান, প্রয়োজন ইত্যাদির আলোকে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
শফিক সাহেব বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে সব সিদ্ধান্ত নিজেই গ্রহণ করেন। এক্ষেত্রে তিনি পরিবারের কারো সাথে আলোচনা করেন না। তার এ সিদ্ধান্ত, গ্রহণ প্রক্রিয়াটি একক সিদ্ধান্তের অন্তর্ভুক্ত। যখন সিদ্ধান্তের ব্যাপার জটিল তখন সমন্বয় সাধনের জন্য দলীয় সদস্যদের প্রতি লক্ষ রেখে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। একক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীর আলোচনা বা আদান-প্রদান নিয়ন্ত্রিত বা সীমিত রাখতে হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজের সিদ্ধান্ত দলীয়ভাবে গ্রহণ করা উচিত। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত দলীয়ভাবে গ্রহণ করা উচিত। এক্ষেত্রে কাজটি সুন্দর হয় এবং ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। যেমন- বাড়ির তৈরির ক্ষেত্রে শফিক সাহেব একাই সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এর ফলে তার বাড়ির নকশা পরিকল্পনা সঠিক হয় না। কিন্তু দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে এরকম ভুলের সম্ভাবনা কম থাকে।
ঘাবাড়ির খসড়া নকশা পরিবারের সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হলে তারপর চূড়ান্ত নকশা প্রস্তুত করতে হয়।
বাড়ির নকশা পরিকল্পনার সময় কতগুলো বিষয় বিবেচনা করতে হয়। যেমন- প্রয়োজন অনুসারে কক্ষের স্থান নির্বাচন। এক্ষেত্রে একান্ত প্রয়োজনীয় ও ব্যক্তিগত কক্ষ কোলাহলমুক্ত হতে হবে। গৃহের বিভিন্ন কক্ষ কাছাকাছি হলে হাঁটাচলায় সময়ও শক্তি সঞ্চয় হয়। উত্তর বা পশ্চিম দিকের পরিবর্তে সর্বদা দক্ষিণ বা পূর্বদিকে ঘরের সম্মুখ রাখা উচিত। পরিবারের সদস্যদের পছন্দের প্রতি খেয়াল রেখে ঘরের সংখ্যা ও আয়তন ঠিক করা উচিত। চলাফেরা ও আসবাবপত্র বিন্যাসের জন্য মেঝের আয়তন পর্যাপ্ত হতে হবে। চলাচলে পথ বন্ধ না করে ঘরের বিভিন্ন স্থানে মানানসইভাবে আসবাব সাজানোর পরিকল্পনা করতে হবে। প্রতিটি ঘরে পৃথক প্রবেশ পথ থাকলে নিজস্বতা রক্ষা করা যায়। এতে চলাচলে অযথা বাধা বিঘ্নের সৃষ্টি হয় না। প্রতিটি কক্ষ যাতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। দূষিত বায়ু পরিবর্তনের জন্য ঘরে বিশুদ্ধ, শুষ্ক এবং শীতল বায়ু চলাচল করা প্রয়োজন। বাসগৃহের প্রতিটি কক্ষের জানালা-দরজা উভয়মুখী হলে সহজে বদ্ধ বায়ু বের হয়ে বিশুদ্ধ বায়ু প্রবেশ করতে পারে।
বাড়ির নকশা পরিকল্পনায় শফিক সাহেবের উল্লিখিত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত ছিল। তাহলে তার বাড়ির নকশা পরিকল্পনা সঠিক হতো এবং তার পরিবারের সদস্যরাও সন্তুষ্ট হতো।
Related Question
View Allগৃহ আমাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা দেয়।
গ্রাম ও শহরের বাড়ির মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য দেখা যায়।
শহরাঞ্চলের বাড়িগুলো ইট, সিমেন্ট, রড ইত্যাদি দিয়ে তৈরি হয়। আর গ্রামাঞ্চলের বাড়িগুলো টিন, বাঁশ, ছন ইত্যাদি দিয়ে তৈরি হয়। বর্তমানে গ্রামে পাকা বাড়ি দেখা গেলেও কাঁচা বাড়ির সংখ্যাই বেশি। আর শহরে কাঁচা বাড়ি দেখাই যায় না।
চৈতালি বাড়ি নির্বাচনের সময় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো দক্ষতার সাথে পর্যবেক্ষণ করেছেন বলে তার পরিবার বসবাসের বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করছে।
বাসগৃহ আমাদের নানা চাহিদা পূরণ করে। যেমন- সামাজিক, মানসিক, শারীরিক ইত্যাদি। এ সকল চাহিদা যাতে সঠিকভাবে পূরণ হয় সেজন্য বাড়ি নির্বাচন করতে হয় বিচক্ষণতার সাথে। চৈতালি একজন বিচক্ষণ মহিলা। তিনি বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় পরিবারের প্রয়োজনীয়তা, আয়, সদস্য সংখ্যা, তাদের কর্মতৎপরতা ও বয়স, প্রতিবেশি, যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজলভ্যতা ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেছেন। পাশাপাশি বাড়িটি শক্ত ভূমির উপর অবস্থিত কি না এবং জমির আয়তন, আকার ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি লক্ষ রেখেছেন।তিনি বাড়িটির চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সার্ভিসিং সুবিধা (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি) ঠিক আছে কি না তা বিবেচনা করেছেন। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যাতায়াত সুবিধা, হাসপাতাল, ব্যাংক, মসজিদ, পার্ক ও অন্যান্য সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ঠিকমতো পাওয়া যাবে কি না এ সকল বিষয়ের প্রতিও তিনি দৃষ্টি রেখেছেন। তাই তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িটিতে বসবাস করে আরাম পাচ্ছে ও সহজেই সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারছে।
শাবাব তার মায়ের কাছে গৃহের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানতে চাইলে চৈতালি তাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন।
গৃহ বা আবাসস্থল মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে মানুষ যেখানে বিশ্রাম ও নিরাপত্তা পায় তাই গৃহ হিসেবে পরিচিত।
চৈতালি বলেন, গৃহ আমাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা দেয়। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিরূপ পরিস্থিতি হতে রক্ষা করে গৃহ। আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আবু রক্ষা করে গৃহ। তাছাড়া গৃহ আমাদের সকলের স্বাস্থ্য রক্ষা ও সুস্থ জীবনযাপনে সহায়তা করে। দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজকর্ম, যেমন- খাদ্য তৈরি, পড়াশোনা, আরাম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, গল্পগুজব, মেহমানদারি ইত্যাদি সকল কাজ আমরা গৃহেই সম্পাদন করি। এছাড়া সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর গৃহেই আমরা আরাম অনুভব করি। সামাজিকতা ও পারিবারিক বন্ধন রক্ষার ক্ষেত্রে গৃহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গৃহ পরিবেশ থেকেই আমাদের মূল্যবোধ, লক্ষ্য ও মান নির্ধারিত হয়। গৃহ মানুষকে সভ্য সমাজ গড়ে তুলতে এবং পরস্পরের বন্ধনে আবদ্ধ রেখে শক্তিশালী সমাজ ও দেশ গঠনে সহায়তা করে। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশি ও পরিবারের সদস্যদের সাথে মমতার বন্ধনে আবদ্ধ রাখতে সহায়তা করে গৃহ। ফলে পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য বৃদ্ধি পায় এবং আত্মতৃপ্তি লাভ হয়। এ সকল প্রয়োজনীয়তার কথাই চৈতালি তার ছেলে শাবাবকে বলেন
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হলো তার বাসগৃহ।
পরিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে বাসগৃহ। বাসগৃহের স্থান নির্বাচনের লক্ষণীয় বিষয়সমূহ হলো-
১. এলাকাটি এমন হবে যাতে পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।
২. স্থানটি আবাসিক হতে হবে।
৩. স্থানটিতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস থাকবে
। ৪. বাসস্থানের কাছাকাছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সামাজিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!