উত্তরঃ
طهارة শব্দের অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা বা শুদ্ধতা।
وضوء ভঙ্গের কারণসমূহ প্রধানত ৭টি। সেগুলো হলো:
- পেশাব বা পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া (যেমন: বায়ু, পেশাব, পায়খানা, রক্ত ইত্যাদি)।
- মুখ ভরে বমি হওয়া (অর্থাৎ, বমি ধরে রাখতে কষ্ট হয় এমন পরিমাণে)।
- শুয়ে বা কোনো কিছুর ওপর হেলান দিয়ে ঘুমানো, যার ফলে শরীরের জোড়া ঢিলা হয়ে যায় এবং ঘুম গভীর হয়।
- বেহুশ হওয়া, পাগল হওয়া বা নেশাগ্রস্ত হওয়া (অর্থাৎ, জ্ঞান হারানো)।
- শরীর থেকে রক্ত, পুঁজ বা হলুদ পানি বের হয়ে এমন স্থানে গড়িয়ে পড়া, যা পবিত্র করা ফরয (যেমন: কোনো জখম থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়া)।
- নামাজে রুকু-সিজদাসহ উচ্চস্বরে হাসা (যদি পাশের ব্যক্তি শুনতে পায়)।
- মহিলাদের মাসিক ঋতুস্রাব বা নিফাস (সন্তান প্রসবের পর রক্তস্রাব) শুরু হওয়া (এগুলো গোসলেরও কারণ)।
যেসব পানি দ্বারা طهارة (পবিত্রতা) অর্জন করা জায়েয, সেগুলো হলো:
- বৃষ্টির পানি।
- নদী, সমুদ্র বা হ্রদের পানি।
- কূয়া বা ঝর্ণার পানি।
- বরফ বা শিলা গলার পানি।
- বড় পুকুর বা জলাশয়ের পানি, যা নড়াচড়া করলে তার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় না (অর্থাৎ, যেখানে অপবিত্রতা মিশে পুরো পানি নাপাক হয় না)।
যেসব পানি দ্বারা طهارة (পবিত্রতা) অর্জন করা জায়েয নয়, সেগুলো হলো:
- নাপাক বা অপবিত্র পানি (যেমন: কোনো নাপাকি পড়ার কারণে যা অপবিত্র হয়ে গেছে)।
- মুস্তামাল পানি (একবার ওযু বা গোসলের কাজে ব্যবহৃত পানি, যা বিশুদ্ধ হলেও পুনরায় পবিত্রতার জন্য ব্যবহার করা যায় না)।
- মিশ্রিত পানি (এমন পানি যার সাথে অন্য কোনো পবিত্র জিনিস মিশে পানির মৌলিক গুণাবলী, যেমন- স্বাদ, গন্ধ, রঙ পরিবর্তিত হয়ে গেছে এবং তাকে আর 'পানি' বলা যায় না, যেমন- ফলের রস, গোলাপ জল)।
ইসলামে طهارة বা পবিত্রতার গুরুত্ব অপরিসীম। নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য ইবাদতের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা অপরিহার্য। এই পবিত্রতা মূলত দুই প্রকার: অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা (আত্মার পবিত্রতা) এবং বাহ্যিক পবিত্রতা (শারীরিক ও পোশাকের পবিত্রতা)। বাহ্যিক পবিত্রতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো وضوء বা অজু, যা নামাজের পূর্বে সম্পন্ন করা ফরয।
وضوء ভঙ্গের কারণগুলো মূলত শারীরিক অবস্থা পরিবর্তন বা শরীর থেকে কোনো অপবিত্র জিনিস বের হওয়ার সাথে সম্পর্কিত। এর কারণ হলো, وضوء একটি আনুষ্ঠানিক পবিত্রতা, যা এই ধরনের ঘটনাগুলোর মাধ্যমে নষ্ট হয়ে যায়। তাই একজন মুসলিমকে নিয়মিতভাবে অজু করে নামাজ ও অন্যান্য ইবাদতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়।
পবিত্রতার জন্য ব্যবহৃত পানির উৎস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে পবিত্রতার জন্য যেসব পানি ব্যবহার করা জায়েয, সেগুলোকে সাধারণত 'তাহূর' পানি বলা হয়, অর্থাৎ যে পানি নিজে পবিত্র এবং অন্যকেও পবিত্র করতে সক্ষম। প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত পানি, যেমন বৃষ্টি, নদী, সমুদ্র ইত্যাদির পানি এই শ্রেণীতে পড়ে। তবে, যেসব পানি অপবিত্র হয়ে গেছে বা যার মৌলিক গুণাবলী এমনভাবে পরিবর্তিত হয়েছে যে তাকে আর 'পানি' বলা যায় না, তা পবিত্রতার কাজে ব্যবহার করা যায় না। একইভাবে, একবার ওজু বা গোসলে ব্যবহৃত পানি (মুস্তামাল পানি) পবিত্র হলেও, তা দিয়ে পুনরায় ওজু বা গোসল করা যায় না, তবে তা অন্যান্য পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহার করা যায়। এই বিধানগুলো মুসলিমদের দৈনন্দিন জীবনে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশনা দেয়।