বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে বোঝায়।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থায় স্থানীয় সরকারগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের নিযুক্ত কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত হয় না। এর প্রতিনিধিগণ এলাকার জনসাধারণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত অথবা সরকার কর্তৃক মনোনীত হন। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো আইনের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত। এরা নিজ নিজ এলাকার জনগণের নিকট দায়ী থাকেন। বাংলাদেশে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ প্রভৃতি
উদ্দীপকে শমির ভোটাধিকারপ্রাপ্তি বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার নির্বাচকমণ্ডলী নির্ধারণ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত।
নির্বাচন প্রক্রিয়া বলতে নির্বাচন অনুষ্ঠান সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো বোঝায়।
ভোটার তালিকা প্রণয়ন; নির্বাচনি এলাকা নির্ধারণ; নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা; রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ; মনোনয়নপত্র বিতরণ, গ্রহণ ও বাছাই; প্রতীক বণ্টন ও ব্যালট পেপার মুদ্রণ; ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনা; প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ; ব্যালট বাক্স বিতরণ; ভোট গ্রহণ; ভোট গণনা এবং ফলাফল ঘোষণা ইত্যাদি যাবতীয় কাজ নির্বাচনি প্রক্রিয়ার অংশ। অর্থাৎ নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রমকে নির্বাচনি প্রক্রিয়া বলে। এ প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে, সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাপ্ত বয়স্ক নির্বাচকমন্ডলী বা ভোটার নির্ধারণ করা।
উদ্দীপকের শমির বয়স ১৮ বছর হওয়ায় সে সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের ভোটার হয়েছে, যা বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার নির্বাচকমণ্ডলী বা ভোটার নির্ধারণ প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। তাই বলা যায়, শমির বয়স বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার নির্বাচকমণ্ডলী নির্ধারণ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত।
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ করার জন্য আমি যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণে সুপারিশ করবো সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো-
সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অর্থবহ নির্বাচনের কতকগুলো পূর্বশর্ত রয়েছে। একটি যুগোপযোগী আইনি কাঠামো; নির্ভরযোগ্য ভোটার তালিকা ও যথাযথভাবে নির্বাচনি এলাকা নির্ধারণ; স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও যুগোপযোগী নির্বাচন কমিশন এবং নিরপেক্ষ সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রভৃতি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পাদন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও দায়বন্ধ রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচনি মাঠে কালো টাকা ও পেশিশক্তির অনুপস্থিতি, সর্বোপরি নাগরিকের অংশগ্রহণ। কেননা, নাগরিকের অংশগ্রহণ ব্যতীত কোনো নির্বাচন অর্থবহ হতে পারে না।
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকগণই সকল ক্ষমতার উৎস। ভোটাধিকার প্রাপ্ত নাগরিকগণ যোগ্য ও উপযুক্ত প্রতিনিধি নির্বাচন করার মাধ্যমে সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন। নাগরিকগণ জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নাগরিকগণ প্রশাসনকে সার্বিকভাবে সহায়তা প্রদান করে থাকেন। এছাড়া ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরী, নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন ও সংস্কার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের নিরপেক্ষতা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান, আইনের শাসন প্রভৃতি অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
Related Question
View All২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য যারা প্রতিনিধি নির্বাচন করে তাদেরকে নির্বাচকমণ্ডলী বলে।
নির্বাচকমণ্ডলী বা ভোটাররাই হচ্ছে প্রতিনিধি বাছাইয়ের জন্য যোগ্য বিচারক। বাংলাদেশে ১৮ বছর বয়স্ক যারা ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে তাদেরকে ভোটার বা নির্বাচকমণ্ডলী বলা হয়।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এদেশের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার বেশকিছু বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।
বাংলাদেশে সর্বজনীন প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় নাম থাকা আবশ্যক। এদেশে সকল নাগরিকের জন্য 'এক ব্যক্তি এক ভোট' নীতি প্রচলিত। প্রত্যেক নির্বাচনি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা থাকে। বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাসমূহ এবং জাতীয় সংসদের ৩৫০ আসনের মধ্যে ৩০০টি সাধারণ আসনের সদস্যগণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। আর বাকি ৫০ টি সংরক্ষিত আসনে মহিলা সদস্যগণ পরোক্ষভাবে ৩০০ জন সংসদ সদস্য কর্তৃক নির্বাচিত হন।
বাংলাদেশে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত সকল নির্বাচন গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়। এ পদ্ধতিতে ভোটারগণ প্রার্থীর নাম ও প্রতীকের পাশে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সরবরাহকৃত নির্ধারিত সীলমোহর ব্যবহার করেন। এতে ভোট গণনার কাজে সুবিধা হয়। এদেশের নির্বাচনে সমগ্রদেশকে জনসংখ্যার সমতার ভিত্তিতে ৩০০টি একক প্রতিনিধি নির্বাচনি এলাকায় বিভক্ত করা হয়। এছাড়া সকল জন প্রতিনিধিত্বশীল সংস্থায় একক নির্বাচনি এলাকা থেকে একজন করে প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। বাংলাদেশে অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন রয়েছে। এই কমিশনই নির্বাচনি সকল কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এদেশের সংবিধানে নিয়মিতভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় EVM ব্যবহার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর সাহায্যে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ ও গণনার কাজ করা হয়।
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় নাগরিকদের ভূমিকা অপরিসীম।
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে সরকার নয়, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এ দেশের জনগণ নির্বাচনে সঠিক মাত্রায় অংশগ্রহণ করে বলেই রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে তাদের অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত আছে। জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখছে।বাংলাদেশের নাগরিকগণ জেনে, বুঝে সকল প্রভাবমুক্ত হয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। আর এভাবে ভোট প্রয়োগের ফলে সৎ যোগ্য ও দক্ষ প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া সম্ভব। আর এমন জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে পারলে দেশে আইনের শাসন কায়েম হবে, দুর্নীতি দূর হবে। কেবল নিজের ভোটদানের মাধ্যমেই একজন নাগরিকের দায়িত্ব শেষ হয় না। অন্যকে ভোটাধিকার, রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে ভোটদানে উৎসাহিত করাও নাগরিকের কর্তব্য। নির্বাচনি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা কেবল সরকার বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন সকল প্রকার সন্ত্রাসী অপতৎপরতা বন্ধে নাগরিক সচেতনতা একান্ত প্রয়োজন। সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা। এক্ষেত্রে নাগরিকগণ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করে থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশে সরকারি সহযোগিতায় নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সকল পর্যায়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তা সত্ত্বেও নির্বাচনকে অর্থবহ, ফলপ্রসূ ও প্রাণবন্ত করার ক্ষেত্রে নাগরিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, গ্রাম-শহর, পেশা নির্বিশেষে প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নাগরিকের ভোটাধিকার প্রাপ্তিকেই সর্বজনীন ভোটাধিকার বলে।
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিনিধিত্বমূলক শাসন পরিচালিত। নাগরিকগণ তাদের ভোট প্রদানের মাধ্যমে প্রতিনিধি নিবার্চন করে আইন প্রণয়ন এবং সরকার পরিচালনায় অংশ্রহণ করে থাকে। আর প্রতিনিধি বাছাইয়ের জন্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ জনগণ তথা নাগরিকদের পক্ষেই শাসন পরিচালনা করে থাকে। আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সফলতার পূর্বশর্তই হচ্ছে নির্বাচন। এজন্যই বর্তমান প্রতিনিধিত্বমূলক শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচনে নাগরিকের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!