যেসব জ্যোতিষ্ক আলো ও তাপ উৎপন্ন করতে পারে তাই নক্ষত্র।
ভূ-ত্বক বিভিন্ন পদার্থ দ্বারা গঠিত। এর কিছু অংশ জৈব পদার্থ দিয়ে গড়া। আরও আছে অজৈব পদার্থ। অজৈব অংশের মধ্যে অনেক সময় একাধিক পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। কখনও একটি অজৈব' পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় না থেকে আলাদা থাকে। এরূপ অজৈব - পদার্থকে খনিজ পদার্থ বলে। খনিজ পদার্থের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এদেরকে মানুষ তৈরি করে না, এদেরকে প্রকৃতিতেই পাওয়া যায়।
বর্ণা সবশেষে যে জ্যোতিষ্কের আলো প্রত্যক্ষ করেছিল তা ছিল একটি উপগ্রহ।
ব্যাখ্যা: বর্ণা সবশেষে চাঁদের আলো প্রত্যক্ষ করেছিল। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। এর আয়তন পৃথিবীর পঞ্চাশ ভাগের একভাগ। চাঁদ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরে। এটি ২৭ দিন ৮ ঘণ্টায় পৃথিবীকে একবার ঘুরে আসে। এ ঘূর্ণনের সময় পৃথিবীর যে অংশ চাঁদের সম্মুখে থাকে সে অংশ হতে চাঁদকে দেখা যায়। মেঘমুক্ত রাতের আকাশে আমরা চাঁদকে রূপালী আলোয় দেখি। বাস্তবে চাঁদের কোনো আলো নেই। মূলত সূর্যের আলোয় সে আলোকিত হয়। সূর্য হতে যে আলো বিকিরিত হয় তা চাঁদের পৃষ্ঠে প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে আসে। তখন পৃথিবীর ঐ পৃষ্ঠ হতে চাঁদকে আলোকিত দেখা যায়। এজন্যই আমরা আকাশে চাঁদের আলো দেখতে পাই। উদ্দীপকের ঘটনায় বর্ণা সবশেষে এ আলোই প্রত্যক্ষ করেছিল।
বর্ণার পর্যবেক্ষণকৃত ১ম দুটি জ্যোতিষ্ক একটি অপরটি থেকে ভিন্ন। কারণ বর্ণার পর্যবেক্ষণকৃত ১ম জ্যোতিষ্কটি সন্ধ্যার সময় উত্তর আকাশে এবং দ্বিতীয়টি সন্ধ্যার সময় পূর্ব আকাশে উদিত হয়। সুতরাং তার দেখা ১ম জ্যোতিষ্কটি একটি ধ্রুব তারা। এটি সাধারণত উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে। এর তাপ আমরা অনুভব করি না শুধুমাত্র আলো দেখতে পাই। কারণ এটি পৃথিবী থেকে অনেক দূরে প্রায় ৮২ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আর নিজের তাপ ও আলোক থাকার কারণে এ জ্যোতিষ্কটিকে আমরা নক্ষত্র বলতে পারি। বর্ণা সন্ধ্যায় পূর্ব আকাশে যে জ্যোতিষ্কটি দেখল তা সন্ধ্যাতারা নামে পরিচিত।
এর অপর নাম শুকতারা। এটি সৌরজগতের একটি গ্রহ। এর নিজের কোনো আলো নেই বলে এটি একটি তারা কিন্তু নক্ষত্র নয়। কারণ আমরা জানি যে, নক্ষত্রের নিজের আলো আছে। সুতরাং বলা যায় যে, বর্ণার পর্যবেক্ষণকৃত প্রথম জ্যোতিষ্কটি একটি নক্ষত্র এবং দ্বিতীয় জ্যোতিষ্কটি একটি গ্রহ অর্থাৎ একটি অন্যটি থেকে ভিন্ন।
Related Question
View Allপৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন বহিরাবরণই হলো ভূ-ত্বক।
পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতকগুলো প্লেট দ্বারা গঠিত। প্লেটগুলো কখনো একটি থেকে আরেকটি সরে যায় বা ধাক্কা খায়। প্লেটগুলোর পরস্পরের সাথে ধাক্কার সময় প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। এ তাপে ভূ-ত্বকের অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়। এ গলিত পদার্থ ভূ-অভ্যন্তরের চাপের ফলে নিচ থেকে ভূপৃষ্ঠের ফাটল ভেদ করে বেরিয়ে আসে। একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে।
উদ্দীপকের চিত্রে R হচ্ছে কেন্দ্রমণ্ডল।
বর্ণনা: কেন্দ্রমণ্ডল পৃথিবীর অভ্যন্তরের তিনটি মূল ভাগের একটি। এটি পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকের অংশ। পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু থেকে প্রায় ৩৫০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের গোলাকার জায়গা নিয়ে কেন্দ্রমণ্ডলের বিস্তৃতি। পৃথিবী সৃষ্টির সময় কেন্দ্রের দিকের তাপ বের হতে পারেনি। তাই কেন্দ্রমণ্ডল অত্যন্ত উত্তপ্ত। এখানে নিকেল, লোহা, সীসা ইত্যাদি ধাতু আছে। এ ধাতুগুলোও উত্তপ্ত অবস্থায় আছে। কেন্দ্রমণ্ডলের ভেতরের অংশে এরা কঠিন কিন্তু বাইরের দিকে গলিত অবস্থায় আছে। এর অর্থ, ধাতুগুলোর মধ্যে যেগুলো এখনো গলেনি, কঠিন আছে সেসব ভারী পদার্থগুলো কেন্দ্রে আছে। আর যেগুলো গলে গেছে সেসব তরল পদার্থগুলো কিছুটা উপরে চলে এসেছে। এভাবে বিভিন্ন উত্তপ্ত গলিত ও কঠিন পদার্থের সমন্বয়ে পৃথিবীর কেন্দ্রমণ্ডল গঠিত।
উদ্দীপকের চিত্রের P ও Q স্তরের মধ্যে স্তরটি মাটি গঠন করে। এটি পৃথিবীর শিলামণ্ডল।
বিশ্লেষণ: শিলামন্ডল পৃথিবীর অভ্যন্তরের তিনটি মূল ভাগের উপরের স্তর।-এর উপরের দিকের অংশ হচ্ছে ভূ-ত্বক। ভূ-ত্বকের বেশির ভাগই পাথর, নুড়ি, কাঁকড়, বালি ইত্যাদি কঠিন পদার্থ যা শিলা নামে পরিচিত। এ কঠিন শিলা থেকে নরম মাটি তৈরি হয় সাধারণত দুটি পর্যায়ে-
প্রথম পর্যায়: কঠিন শিলা দীর্ঘদিন ধরে রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, ভূমিকম্প এগুলোর কারণে ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে পরিণত হয়। এছাড়া বায়ু, বরফ বা পানির প্রবাহ, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি কারণে অন্য জায়গা থেকে ক্ষুদ্র শিলাকণা এসে একটি স্থানে জমা হয়।
দ্বিতীয় পর্যায়: ক্ষুদ্র শিলাকণার সাথে পানি, বায়ু, ক্ষুদ্র জীব যেমন- ব্যাকটেরিয়া, পচা ও মৃত জীবের দেহাবশেষ যোগ হয়। এভাবে মাটি তৈরি হয়। জৈব পদার্থের মিশ্রণে তৈরি হয় বলে মাটি নরম হয়। তবে বিভিন্ন স্থানের মাটি বিভিন্ন রকম হতে পারে। যতই ভিন্ন হোক মাটি গঠন হয় মূলত শিলামন্ডলের কঠিন শিলার সাথে জৈব পদার্থের মিশ্রণে।
অতএব, বুঝা গেল, পৃথিবীর অভ্যন্তরের উপরের শিলামণ্ডল স্তরটি কেবলমাত্র মাটি গঠন করে।
পৃথিবীর ভিতরের অংশ ৩টি ভাগে বিভক্ত।
পৃথিবী সকল কিছুকে তার নিজের দিকে টানে। সেই টানের ফলে বায়ুমন্ডলের গ্যাসগুলো পৃথিবীর পৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকে। তাই ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি বায়ুমণ্ডল ঘন হয়ে থাকে। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উপরের দিকে যাওয়া যায় বায়ুমণ্ডল তত হালকা বা পাতলা হবে। তাই পর্বতারোহীরা পর্বত আরোহণের সময় শ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন সাথে নিয়ে যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!