কিশোর অপরাধীদের বিচার এবং তাদের আচরণ সংশোধনের জন্য কিশোর আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়।
আইন সমাজের মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
সাধারণত বেশিরভাগ সময় সমাজের সবল অংশ দুর্বলদের শোষণ ও নিপীড়ন করার চেষ্টা চালায়। এতে বিভিন্ন রকমের অপরাধ সংঘটিত হয়। তবে যথাযথ আইন ও এর সুষ্ঠু প্রয়োগ মানুষের নেতিবাচক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে অপরাধ হ্রাস করতে পারে। দেশের আইন অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিকে সংশোধিত হতে উৎসাহিত করে। তাই বলা হয়, আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক।
শরীফার স্বামীর অপরাধ যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০ এর লঙ্ঘন, যা একটি সামাজিক আইন ।
যৌতুক একটি সামাজিক কুপ্রথা। এটি নারী তথা সার্বিকভাবে সমাজের উন্নয়নের অন্তরায়। যৌতুক প্রথা নারী ও তার পরিবারকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করে। যৌতুক নিরোধ আইন- ১৯৮০ এর মাধ্যমে সামাজিকভাবে এ প্রথা বিলোপের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। আইনটিতে এদেশের নারীদের দীর্ঘদিনের চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে। তবে উদ্দীপকের শরীফার স্বামীর মতো অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে এ আইন না মানার প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
শরীফার বাবা বিয়ের আগে তার হবু জামাতাকে একটি সাইকেল কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অর্থাভাবে তিনি সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। শরিফার স্বামী এজন্য তাকে নির্যাতন করে। অথচ বাংলাদেশের ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনে এ ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি এর জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ঐ আইন অনুযায়ী বিয়েতে কোনো এক পক্ষ থেকে অন্য পক্ষকে কোনো মূল্যবান জামানত দেওয়া বা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া যৌতুক হিসেবে বিবেচিত হবে। কোনো ব্যক্তি যৌতুক দিলে অথবা নিলে অথবা নিতে সাহায্য করলে তাকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা আর্থিক জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। আইনটিতে আরও বলা হয়েছে এটি কার্যকর হওয়ার পর যৌতুক দেওয়া বা নেওয়া সংক্রান্ত প্রচলিত সব চুক্তি বাতিল হবে। তাই বলা যায়, শরীফার স্বামী ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনটি অমান্য করেছে।
বাংলাদেশে নারী নির্যাতন রোধে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আইন অর্থাৎ যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০ এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই কমবেশি নারী নির্যাতনের খবর চোখে পড়ে। আর এ সব নির্যাতনের একটি বড় অংশ যৌতুকের কারণে সংঘটিত হয়। বিবাহিত নারীদের ওপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতন ছাড়াও যৌতুকের কারণে সমাজে আরও বিভিন্ন নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মূলত এ ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতি রোধ করে নারীদের সুরক্ষা দেওয়া এবং সুস্থ ও স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ আইন প্রণীত হয়। যৌতুকের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নারী ও তার পরিবার। যৌতুকের দাবি মেটাতে গিয়ে অনেক কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে তার সর্বস্ব হারাতে হয়। ফলে এ ধরনের পরিবারগুলোতে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে পরিবারে নানা ধরনের অশান্তি শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা এ কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। যৌতুক নিয়ে বিরোধের জেরে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদও ঘটতে দেখা যায়। কিছুসংখ্যক নারী অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে আত্মহত্যার মতো চরম নেতিবাচক কাজ করে বসেন। বিবাহবিচ্ছেদ বা স্ত্রীর মৃত্যু কিংবা আত্মহত্যার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দম্পতির ছেলেমেয়েরাও ভোগান্তি পোহায়। তারাও অনেক সময় অবহেলা বা নির্যাতনের শিকার হয়। এ রকম পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০-তে যৌতুক দেওয়া-নেওয়া ও এ কাজে সহায়তা করার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি যৌতুক দাবি করার জন্য পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া যৌতুকের জন্য কাউকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করলে ও এ কারণে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। যৌতুকের জন্য অঙ্গহানি ঘটালে সাজা হবে যাবজ্জীবন বা কমপক্ষে ১২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড। তবে কাগজে-কলমে আইনের ধারাগুলো বেশ শক্ত হলেও যৌতুক প্রথার চল বা যৌতুকজনিত সহিংস ঘটনা প্রত্যাশা অনুযায়ী কমছে না। এর জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ। মানুষের মধ্যে এ ধারণা দিতে হবে যে যৌতুক চাইলে বা এজন্য নারীকে নির্যাতন করলে শাস্তি ভোগ অবশ্যম্ভাবী।
সার্বিক আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, বাংলাদেশে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০ এর ভূমিকা অপরিসীম। তবে আইনটি আরও ফলপ্রসূ করতে চাইলে এর কঠোর বাস্তবায়ন দরকার।
Related Question
View Allসামাজিক সমস্যা হলো এমন এক প্রতিকূল পরিস্থিতি যা সমাজের অধিকাংশ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
পাত্র-পাত্রী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সময় কন্যাপক্ষ বরপক্ষকে বা বরপক্ষ কন্যাপক্ষকে ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে যে উপঢৌকন দিয়ে থাকে তাকে যৌতুক বলে। এখানে উপঢৌকন বলতে বাড়িঘর, জায়গা-জমি, নগদ অর্থ বা যেকোনো প্রকার আর্থিক সুবিধা ইত্যাদিকে বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকে বাল্যবিবাহ নামক সামাজিক সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের অনুশীলন দেখানো হয়েছে।
বাল্যবিবাহ বলতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়েকে বোঝানো হয়। বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিয়ের জন্য ছেলের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর এবং মেয়ের বয়স ১৮ বছর হতে হবে। সে অনুযায়ী পাত্র বা পাত্রীর বয়স এর কম হলে তা বাল্যবিবাহ হিসেবে বিবেচিত হবে। বাল্যবিবাহ আমাদের দেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা। তবে এ সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সমস্যা দূর করা সম্ভব।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কুমিল্লার লালমাই থানায় দাপাড় গ্রামের কৃষক রহিম মিয়া মাত্র তের বছর বয়সে ফরিদাকে বিয়ে দিয়েছেন যা উপরের বর্ণনানুযায়ী বাল্যবিবাহের অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে ঐ এলাকার একজন সমাজকর্মী অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়াকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য সমাজকর্মের পদ্ধতি অনুশীলন করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের অনুশীলন দেখানো হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমাজকর্মের পদ্ধতি প্রয়োগ করে বাল্যবিবাহ ছাড়াও বাংলাদেশের অন্যান্য সামাজিক সমস্যা, যেমন- নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক, মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধের মতো সমস্যা সমাধান করা যায়।
বাংলাদেশে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান। আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত নারী ও শিশুরা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বিয়ের সময় কন্যাপক্ষের কাছে যৌতুক দাবি করা হচ্ছে। আবার, শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। এছাড়া মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা, সঙ্গদোষ, কৌতূহল, হতাশা প্রভৃতির কারণে যুবকবয়সীরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের পদ্ধতি ও কৌশল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে সমাজে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। এতে সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি সমস্যাগুলো দূর করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় সামাজিক আইন প্রণয়নে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। একইসাথে সরকার প্রণীত আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন করতে পারলে এ সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব হবে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কৃষক রহিম মিয়া মাত্র তের বছর বয়সে ফরিদাকে বিয়ে দিয়েছেন, যা ওপরের বর্ণনানুযায়ী বাল্যবিবাহের অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে এলাকায় কর্মরত সমাজকর্মী সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের সমস্যা চিহ্নিতকরণ সচেতনতা সৃষ্টি আইন প্রণয়নে চাপ প্রয়োগ আইন প্রণয়ন আইনের বাস্তবায়ন পদ্ধতিটি অনুসরণ করেছেন। একইভাবে এ পদ্ধতি অনুসরণ করে সমাজে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধ প্রভৃতিসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজকর্মের পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা যায়।
বঙ্গীয় মাতৃকল্যাণ আইন প্রণীত হয় ১৯৪১ সালে।
১৯৮৩ সালের নারী নির্যাতন আইন নারীদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এর অনেকগুলো সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন- নারীর মানসিক নির্যাতনের শাস্তি এ আইনে নেই। এছাড়া যৌতুক আদায়ের জন্য যে অপরাধ করা হয় তা প্রতিরোধে যে আইনি বিধান রাখা হয়েছে তা কঠোর কিন্তু যৌতুক লেনদেনের ব্যাপারে তেমন কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এ আইনে নারী নির্যাতন প্রতিকারে শাস্তির বিধান করলেও বিবাহ ভাঙনজনিত পরিস্থিতিতে স্ত্রী ও সন্তানদের অধিকার এবং স্বার্থরক্ষার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া নির্যাতিত নারীসমাজের এক বিরাট অংশই এ আইনের আলো থেকে বঞ্চিত। এর কার্যকারিতার অভাবে দেশে নারী নির্যাতন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!