বহিপীর : : ... ... বিবি সাহেব-

তাহেরা: (বাধা দিয়ে উচ্চস্বরে) আমাকে বিবি ডাকবেন না'। বিয়েতে আমি মত দিই নাই । আপনার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়নি।

বহিপীর : (একটু রেগে) আপনি মত না দিলেও আপনার বাপজান দিয়েছেন। তাহা ছাড়া সাক্ষী সাবুদ সমেত কাবিননামাও হইয়া গিয়াছে । এখন সেকথা বলিলে চলবে কেন । (সুর বদলিয়ে )।দেখুন মন দিয়া আমার কথা শুনুন।

তাহেরা : (আবার বাধা দিয়ে) আমি আপনার কোনো কথা শুনতে চাই না। আমার বাপজান আর সত্মা আপনাকে খুশি করার জন্য আপনার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন। আমি যেন কোরবানির বকরি। আপনি পুলিশে খবর দিতে পারেন, আপনি আমার বাপজানকে ডেকে পাঠাতে পারেন, আমার ওপর জুলুম করতে পারেন। কিন্তু আমি আপনার সঙ্গে যাব না। 

শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'বহিপীর' নাটকের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উক্তি হলো "শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি"। এই উক্তিটির মাধ্যমে নাট্যকার তৎকালীন সমাজের ধর্মীয় ভণ্ডামি, কুসংস্কার এবং ধর্মের নামে চলা শোষণকে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

"শস্যের চেয়ে টুপি বেশি" বলতে বোঝানো হয়েছে যে সমাজে প্রকৃত ধর্মচর্চা, নৈতিকতা ও মানবিকতার চেয়ে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা, বাহ্যিক বেশভূষা এবং ধর্মব্যবসায়ীর সংখ্যাধিক্য বেড়ে গেছে। 'শস্য' এখানে উৎপাদনশীলতা, জীবনধারণের অবলম্বন এবং মানবকল্যাণের প্রতীক। এর বিপরীতে 'টুপি' ধর্মীয় ভান বা বাহ্যিকতার প্রতীক, যা দিয়ে মানুষ নিজেকে ধার্মিক প্রমাণ করতে চায় কিন্তু যার অন্তরে প্রকৃত ধর্মবোধ অনুপস্থিত। অর্থাৎ, সমাজে সৎ ও উপকারী মানুষের চেয়ে ভণ্ড ধার্মিকের সংখ্যা বেশি, যারা ধর্মের নামে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করে।

অন্যদিকে, "ধর্মের আগাছা বেশি" দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে প্রকৃত ধর্মের মর্মবাণী ও মূল আদর্শ কালের আবর্তে লুপ্ত হয়ে গেছে এবং তার স্থান দখল করেছে নানা রকম কুসংস্কার, গোঁড়ামি, ভণ্ডামি ও অপব্যাখ্যা। 'আগাছা' যেমন মূল ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত করে, তেমনি ধর্মের নামে প্রচলিত এই সব অনাচার ও অপচর্চা মানুষের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক বিকাশকে রুদ্ধ করে দেয়। এই আগাছা প্রকৃত ধর্মকে কলুষিত করে এবং সমাজে বিভেদ ও শোষণ সৃষ্টি করে।

বহিপীর নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র বহিপীর নিজেই এই উক্তিটির জীবন্ত উদাহরণ। সে মুখে সমাজের ধর্মীয় অধঃপতনের কথা বললেও, নিজেই একজন ধর্ম ব্যবসায়ী, যে তাহেরার মতো অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে অর্থ ও প্রতিপত্তির লোভে বিয়ে করতে চায়। তার এই ভণ্ডামিই উক্তিটির সত্যতাকে আরও প্রকট করে তোলে। সামগ্রিকভাবে, উক্তিটি তৎকালীন সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, ধর্মীয় ভণ্ডামি এবং ধর্মের নামে চলমান শোষণের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদ হিসেবে গণ্য হয়।

Satt AI
Satt AI
3 days ago
624

Related Question

View All
উত্তরঃ

প্রদত্ত চরণটিতে 'গ্রামের মানুষ যেন রহিমারই অন্য সংস্করণ' বলতে বোঝানো হয়েছে যে রহিমা চরিত্রটি কাজীপুর গ্রামের সরলতা, চিরায়ত বিশ্বাস এবং প্রচলিত জীবনধারার মূর্ত প্রতীক। রহিমা যেন এই গ্রামের সাধারণ মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রার এক প্রতিচ্ছবি।

কাজীপুর গ্রামের মানুষ প্রকৃতি প্রদত্ত শস্য ও সম্পদে সুখী। তাদের দিন কাটে ফসলের ক্ষেতে কাজ করে, গৃহস্থালি কাজে লিপ্ত থেকে, হাসি-উৎসব ও দীর্ঘদিনের প্রচলিত বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে। তাদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত সরল এবং তারা গ্রামীণ ঐতিহ্যের গভীরে প্রোথিত। এই সরলতার কারণেই তারা নতুন কোনো অলৌকিক বা ধর্মীয় বিষয়ের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়, যেমনটি মতলব মিয়া নামক অচেনা দরবেশের আগমনের পর দেখা যায়। মতলব মিয়া নিজেকে পীর হিসেবে পরিচয় দিয়ে যখন অলৌকিক কর্মকাণ্ডের গল্প বলতে শুরু করে, তখন গ্রামের সাধারণ মানুষ সহজেই তা বিশ্বাস করে।

রহিমা চরিত্রটিও সম্ভবত একই সরলতা, চিরায়ত বিশ্বাস এবং গ্রামীণ জীবনধারার ধারক ও বাহক। তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো গ্রামের অধিকাংশ মানুষেরই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে প্রতিফলিত করে। অর্থাৎ, গ্রামের প্রতিটি মানুষ যেন রহিমারই এক ক্ষুদ্র সংস্করণ, যেখানে রহিমার মধ্যে পুরো গ্রামের মানসিকতা, বিশ্বাস এবং জীবনদর্শন কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এই উক্তিটির মাধ্যমে লেখক রহিমার চরিত্রকে গ্রামের সার্বজনীন প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে তুলে ধরেছেন, যা গ্রামের মানুষের সম্মিলিত সত্তাকে একীভূত করে উপস্থাপন করে।

Satt AI
Satt AI
3 days ago
3.3k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের মতলব মিয়া এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ আত্মপরিচয়দানে ও আত্মপ্রকাশে অনেকটাই অভিন্ন। উভয় চরিত্রই নিজেদের অপ্রকৃত পরিচয় তুলে ধরে গ্রামীণ সমাজের সরলতা ও ধর্মবিশ্বাসের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হয়।

উদ্দীপকের মতলব মিয়া একজন অচেনা দরবেশ হিসেবে গ্রামে আগমন করে। সে নিজেকে পীর হিসেবে পরিচয় দিয়ে অলৌকিক কর্মকাণ্ডের গল্প বলে গ্রামবাসীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। তার আত্মপ্রকাশের মূলে রয়েছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ, যা কাটিয়ে ওঠার জন্য সে ধর্মীয় মোড়কে নিজেকে উপস্থাপন করে। তার উদ্দেশ্য হলো গ্রামের মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে সমাজে একটি অবস্থান তৈরি করা।

'লালসালু' উপন্যাসের মজিদও অনুরূপভাবে এক দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে মহব্বতনগর গ্রামে আসে। সে নিজেকে একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ও অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে জাহির করে। গ্রামে একটি বানোয়াট মাজার প্রতিষ্ঠা করে এবং নিজেকে সেই মাজারের খাদেম ও পীর হিসেবে প্রচার করে। মজিদের আত্মপ্রকাশের মূল উদ্দেশ্য ছিল অন্নসংস্থান ও সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ। পরবর্তীতে সে এই ধর্মীয় ভণ্ডামিকে নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

উভয় চরিত্রের আত্মপরিচয়দানে ও আত্মপ্রকাশে যে সকল অভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়, তা নিম্নরূপ:

        
  • উভয়েই অজ্ঞাত স্থান থেকে আগমনকারী অপরিচিত ব্যক্তি।
  •     
  • উভয়েই নিজেদের ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব (পীর/দরবেশ) হিসেবে উপস্থাপন করে।
  •     
  • উভয়েই নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য গ্রামীণ মানুষের ধর্মীয় আবেগ ও সরলতাকে পুঁজি করে।
  •     
  • উভয়েই অলৌকিকত্ব বা ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে নিজেদের জাহির করে।
  •     
  • উভয়ের উদ্দেশ্যই সমাজে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা এবং একটি সম্মানজনক বা ক্ষমতাশালী অবস্থান তৈরি করা।
  •     
  • উভয়েই মানুষের অজ্ঞতা ও কুসংস্কারকে নিজেদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

তবে, মজিদের ভণ্ডামি ও আত্মপ্রতিষ্ঠার কৌশল মতলব মিয়ার চেয়ে অনেক বেশি সুদূরপ্রসারী ও সুসংগঠিত। মজিদ কেবল অলৌকিক গল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং একটি মিথ্যা মাজার প্রতিষ্ঠা করে এবং তা কেন্দ্র করে একটি ধর্মীয় সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। পক্ষান্তরে, মতলব মিয়ার আত্মপ্রকাশের প্রাথমিক পর্যায় উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে সে কেবল নিজেকে পীর হিসেবে পরিচয় দিয়ে অলৌকিক কর্মকাণ্ডের গল্প বলা শুরু করেছে।

পরিশেষে বলা যায়, মতলব মিয়ামজিদ উভয়ই সমাজের ধর্মীয় কুসংস্কার ও সরলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আত্মপরিচয়কে নতুনভাবে নির্মাণ করে সমাজে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে। কৌশলগত গভীরতায় পার্থক্য থাকলেও, তাদের আত্মপ্রকাশের উদ্দেশ্য এবং মূল পদ্ধতি অভিন্ন।

Satt AI
Satt AI
3 days ago
714
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews