জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক দানবের মতো চিৎকার করতে করতে এলো।
স্বাধীনতার শত্রুদের নির্মম আক্রমণে ছাত্রাবাস, বস্তি উজাড় হলো।
বাংলার মানুষ স্বাধীনতার জন্য দিনের পর দিন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তাদের অত্যাচার আর শোষণ চিরস্থায়ী করতে এদেশের মানুষকে হত্যা আর সম্পদ ধ্বংসের উৎসবে মেতে উঠেছিল। তাদের লেলিয়ে দেওয়া হানাদার সেনারা অতর্কিত সারা দেশে হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রাখে। কামানের গোলা আর অগ্নিকাণ্ডে তারা সারা দেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। তাদের সেই ধ্বংসযজ্ঞে ছাত্রাবাস ও বস্তি উজাড় হয়।
উদ্দীপকের বড়লোক ব্যবসায়ী 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় উল্লিখিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রতিনিধি।
পাকিস্তান জন্মের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলাদেশকে নানাভাবে শাসন-শোষণ করেছে। বাঙালিরা নিজেদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে, প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তুলেছে। অবশেষে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গভীর রাতে ঘুমন্ত বাঙালির ওপর পাকিস্তানি সেনারা নির্মম অত্যাচার ও হত্যাকাণ্ড চালায়। এর প্রতিবাদে বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এদেশ স্বাধীন করে।
উদ্দীপকে শহরের এক, বড়লোক ব্যবসায়ীর নিম্নশ্রেণির মানুষের অধিকার হরণ ও অত্যাচার-নির্যাতনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তিনি 'খামারবাড়ি' করার নাম করে গ্রামের কিছু জমি কেনে এবং নিজের লোক দিয়ে সেখানে গরু-ছাগল পালন, মাছ চাষ প্রভৃতি করতে থাকেন। একসময় গ্রামের সমস্ত জমি কিনে নিয়েছেন ঘোষণা দিয়ে গ্রামের মানুষদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বলেন। বড়লোক ব্যবসায়ীর এই অমানবিকতা 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অমানবিকতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তারাও এদেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। এভাবে উদ্দীপকের বড়লোক ব্যবসায়ী কবিতায় উল্লেখিত পাকিস্তানি বাহিনীর প্রতিনিধি হয়ে উঠেছে।
"উদ্দীপকের গ্রামবাসীদের চেতনা 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় বর্ণিত কবিচেতনারই প্রতিচ্ছবি"- মন্তব্যটি যথার্থ।
যুগে যুগে পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় নানাভাবে বর্বর শাসক-শোষকরা নিরীহ মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়েছে। কিন্তু যখন নির্যাতিতরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে তখন কোনো শাসকগোষ্ঠীই তাদের সামনে দাঁড়াতে পারেনি। শেষপর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ শক্তি ও সংগ্রামী চেতনারই জয় হয়েছে।
উদ্দীপকে এক বড়লোক ব্যবসায়ী গ্রামের সবু জমি তিনি কিনে নিয়েছেন বলে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে তাড়াতে চেয়েছেন। কিন্তু গ্রামবাসী তার কথায় গ্রাম ছেড়ে চলে না গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্যায়কারী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে এবং জীবন বাজি রেখে তাদের ভিটেমাটি রক্ষা করার জন্য রুখে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়টি 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় প্রতিফলিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অত্যাচার এবং তাদের বিরুদ্ধে বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় কবি স্বাধীনতা অর্জনে এদেশের মানুষের ঐক্যবদ্ধ চেতনা এবং আত্মত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়টি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদ্দীপকে প্রতিফলিত হযেছে। গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে বড়লোক ব্যবসায়ীর অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে এবং জীবন বাজি রেখে নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষা করেছে। এ দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!