১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই ভারত স্বাধীনতা আইন প্রণয়ন করা হয়।
তমদ্দুন মজলিশ পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। ১৯৪৭ সালে শুধু ধর্মের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়। নতুন রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী বাঙালিকে শোষণ করার কৌশল হিসেবে বাংলা ভাষার পরিবর্তে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা উর্দু করার চিন্তা- ভাবনা শুরু করেন। তখন এর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠন করা হয়।
রুবার চেতনার মধ্যে ভাষা আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টির সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর তীব্র প্রতিবাদ করেন। তিনি বাংলাকেও অধিবেশনের অন্যতম ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। এভাবে ধীরে ধীরে ভাষা আন্দোলনের গতি বাড়তে থাকে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে দেশব্যাপী হরতাল, জনসভা ও বিক্ষোভ মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ কারণে পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিন ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ভঙ্গ করে মিছিল করলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। ফলে রফিক, জব্বার, সালাম, বরকত প্রমুখ নিহত হন। শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে ১৯৫৬ সালের সংবিধানে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়া হয়। মাতৃভাষার জন্য এ ধরনের আত্মত্যাগ পুরো পৃথিবীর ইতিহাসেই বিরল।
উদ্দীপকের রুবা তার পূর্বসুরীদের ভাষার জন্য আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে ব্যথিত হয়। কারণ এদেশের ছাত্র-জনতা সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য বুকের তাজা রক্ত রাজপথে ঢেলে দিয়েছিল। অথচ রুবার স্বামী শাকিল সে চেতনার কথা ভুলে স্ত্রীকে ইংরেজিতে লেখা কার্ড উপহার দেয়। সুতরাং বলা যায়, রুবার চেতনায় ভাষা আন্দোলনের ছবি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের রুবার স্বামী তাকে বিবাহ বার্ষিকীতে কার্ড উপহার দেয়, সেটা ইংরেজিতে ছাপা। এতে রুবা ব্যথিত হয়। রুবার এ চেতনায় ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের প্রভাব রয়েছে। এ আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।।
ভাষা আন্দোলন ছিল জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। এ আন্দোলনকে পরবর্তীকালে সব আন্দোলনের প্রাণশক্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এ আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির সাংস্কৃতিক পুনর্বিন্যাস ও পুনর্জাগরণ আরও গতিশীল হয়। এটি ছিল রাজনৈতিক প্রেরণার উৎস। এর মাধ্যমে বাঙালি জাতি নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। বস্তুত ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির আন্দোলনের প্রথম পদক্ষেপ। ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ১৯৬২ সালের ছাত্র আন্দোলন তথা শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সকল শ্রেণি পেশার মানুষই সমানভাবে অংশগ্রহণ করে। এসব আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে এবং বাঙালি নবচেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠে। সর্বোপরি এসব আন্দোলনে সবার অংশগ্রহণের ফলে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিকাশ হয়।
উপরের আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, ভাষা আন্দোলন বাঙালির জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
Related Question
View Allআওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সভাপতি ছিলেন মওলানা ভাসানী।
মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে সংস্কারপন্থীরা আওয়ামী মুসলিম লীগ গড়ে তোলেন।
দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম লীগের এক অংশ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, সংস্কারপন্থি ছিল তাদের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি মদদপুষ্ট প্রতিক্রিয়াশীল অপর অংশ নানাভাবে দমন-নিপীড়ন চালাতে থাকে। ফলে সংস্কারবাদীরা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি, সংবিধান প্রণয়ন, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন ইত্যাদি দাবি নিয়ে গড়ে তোলেন আওয়ামী মুসলিম লীগ।
উদ্দীপকে সবুজনগর অঞ্চলে ছোট দলগুলো স্বাধীনতাপূর্ব ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে একতাবদ্ধ হয়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ও যুক্তফ্রন্ট গঠন ছিল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পূর্ব বাংলায় ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের শাসনের চরম ব্যর্থতার ফলে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, নেজামে ইসলামী মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয় ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর। তারা জনগণের অশা- আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৮ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। আর ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সবুজনগর অঞ্চলের ছোট দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়। এই নির্বাচন প্রক্রিয়া ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের শিক্ষারই প্রতিফলন।
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের মাধ্যমে "ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী হলেই নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় না" এ বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল মুসলিম লীগের অন্যায় ও বৈষম্যমূলক, ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। বাঙালি জাতি এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগকে বুঝিয়ে দেয় যে, তারা পূর্ব বাংলার মুসলিম লীগকে আর চায় না। তারা যুক্তফ্রন্টের তরুণ নেতৃত্বের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। তারা ক্ষমতাসীন অত্যাচারীদের প্রতি ধিক্কার জানিয়েছিল তাদের ভোটের মাধ্যমে। তারা বুঝতে পারে পশ্চিম পাকিস্তানি ও তাদের এদেশীয় দোসরদের দ্বারা বাঙালির প্রকৃত মুক্ত সম্ভব নয়। ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আদর্শের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার জনগণ স্বায়ত্তশাসনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে।
মুসলিম লীগ ক্ষমতাশীল ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল হয়েও ১৯৫৪ 'সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়। তাই বলা যায়, ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী হলেই নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় না, এ বিষয়টি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের দ্বারা প্রমাণিত হয়।
১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন।
১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ-এর প্রতিবাদ করেন। পরবর্তীতে আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের জাল হিসেবে বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে ১৯৪৯ সালের মার্চে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!