শামীমা ফারজানা এবং রাশেদা নিবন্ধনের মাধ্যমে 'রাইজিং সান লি.' একটি যৌথ মূলধনী ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছে। তাদের ব্যবসায়টি বেশ লাভজনক হওয়ায় তারা প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কোম্পানিটি জনসাধারণের নিকট হতে মূলধন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কিন্তু সংঘস্মারকের সীমাবদ্ধতার কারণে তারা শেয়ার ইস্যু করতে পারছে না।

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

কোনো কোম্পানি অধিকতর মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নতুন শেয়ার বিলির সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় তার সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ ক্রয়ের অধিকার আনুপাতিক হারে পুরাতন শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সংরক্ষণ করলে তাকে রাইট শেয়ার বা অধিকারযোগ্য শেয়ার বলে।

উত্তরঃ

কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের দায় তাদের বিনিয়োগকৃত মূলধনের সমান, তার বেশি নয়। শেয়ারহোল্ডারদের মূলধনের সমপরিমাণ পর্যন্ত, দায় সীমাবদ্ধ বলে, একে সীমাবদ্ধ দায়সম্পন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বলা হয়।

উত্তরঃ

১ 'রাইজিং সান' একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। যে কোম্পানির সদস্যসংখ্যা সর্বনিম্ন ২ এবং সর্বোচ্চ ৫০ জনে সীমাবদ্ধ, শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং জনগণের উদ্দেশ্যে শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রয়ের আহ্বান জানানো যায় না, তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে।

উদ্দীপকে 'রাইজিং সান লি.' ব্যবসায় সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জনসাধারণের নিকট হতে মূলধন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কিন্তু সংঘম্মারকের সীমাবদ্ধতার কারণে তারা শেয়ার ইস্যু করতে পারছেন না। কেননা আইন অনুযায়ী প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি শেয়ার জনসাধারণের নিকট বিক্রয়ের জন্য ইস্যু করতে পারে না। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিকে জনসাধারণের নিকট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে হলে সংঘস্মারকের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে হয় অর্থাৎ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করতে হয়। যেহেতু রাইজিং সান কোম্পানি জনসাধাণের নিকট শেয়ার ইস্যুর জন্য সংঘস্মারকের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাই বলা যায়, 'রাইজিং সান' একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।

উত্তরঃ

'রাইজিং সান' মূলধন বাড়াতে স্মারকলিপির প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।

স্মারকলিপি হলো কোম্পানির মূল দলিল, সনদ বা সংবিধান। এতে কোম্পানির নাম, ঠিকানা, উদ্দেশ্য, মূলধন, দায় ও সম্পত্তির বিষয় সংক্ষেপে লেখা থাকে। কোম্পানি কী পরিমাণ অনুমোদিত মূলধন নিয়ে নিবন্ধিত হতে ইচ্ছুক তা যে ধারায় লেখা থাকে, তাকে স্মারকলিপির মূলধন ধারা বলে। স্মারকলিপির পরিবর্তন না এনে অতিরিক্ত মূলধন কোম্পানি সংগ্রহ করতে পারে না।

উদ্দীপকে 'রাইজিং সান লি.' একটি যৌথমূলধনী কোম্পানি। ব্যবসায় সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কোম্পানিটি জনসাধারণের নিকট হতে মূলধন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কিন্তু স্মারকলিপির সীমাবদ্ধতার কারণে তারা শেয়ার ইস্যু করতে পারছে না। কারণ স্মারকলিপির মূলধন ধারায় মোট মূলধনের পরিমাণ, শেয়ারের ধরন ও প্রতিটি শেয়ারের সংখ্যা এবং ধরনভেদে প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকে। তাছাড়া ভবিষ্যতে কোম্পানি সম্ভাব্য যেসব কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হতে পারে তার পুরোটাই স্মারকলিপিতে উল্লেখ থাকে। এর বাইরে কোনো কাজ আইনত সম্পাদন করা যায় না।

তাই বলা যায়, 'রাইজিং সান লি.' মূলধন বাড়াতে শেয়ার ইস্যু করার জন্য স্মারকলিপির উদ্দেশ্য ধারা ও মূলধন ধারার পরিবর্তন আনতে হবে।

75

সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের ধারায় সূচনা লগ্নে ব্যবসায়ের পরিসর ছিল অল্প ও সংকীর্ণ, তাই এর সাংগঠনিক রূপ ছিল সহজ, ছোট। যেমন—একমালিকানা, অংশীদারি। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি হতে শুরু হয়ে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হলে শিল্প ও ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়। পূর্বেকার কায়িকশ্রমের স্থান দখল করে নেয় যন্ত্রপাতি এবং শুরু হয় বৃহদায়তন উৎপাদনের পালা । এমতাবস্থায় ব্যবসায় সংগঠনের প্রাথমিক রূপ তথা একমালিকানা ব্যবসায় এবং অংশীদারি ব্যবসায়ের পক্ষে এদের কতিপয় সীমাবদ্ধতার কারণে বৃহদায়তন পণ্যদ্রব্যাদির উৎপাদন ও বণ্টন কার্য পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলাতে যেয়ে অধিক মূলধন, সীমাবদ্ধ দায়, দক্ষ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা এবং চিরন্তন অস্তিত্বের সুবিধা নিয়ে যুগোপযোগী ব্যবসায় সংগঠন হিসেবে যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ের উদ্ভব ঘটে।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা জানতে পারব—

  • কোম্পানী সংগঠনের ধারণা।
  • কোম্পানী সংগঠনের বৈশিষ্ট্যসমূহ।
  • কোম্পানী সংগঠনের প্রকারভেদ ।
  • পাবলিক ও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীর মধ্যে পার্থক্য।
  • কোম্পানী সংগঠনের গুরুত্ব।
  • কোম্পানী সংগঠনের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা।
  • কোম্পানী সংগঠনের গঠন প্রক্রিয়া ।
  1. পরিমেলবন্ধের ধারণা, বিষয়বস্তু ও নমুনা
  2. পরিমেলবন্ধের গুরুত্ব
  3. পরিমেল নিয়মাবলির ধারণা ও বিষয়বস্তু 
  4. পরিমেলবন্ধ ও পরিমেল নিয়মাবলির পার্থক্য
  5. বিবরণপত্রের বিষয়বস্তুসমূহ
  • কোম্পানী নিবন্ধনপত্রের ধারণা ও নমুনা ।
  • কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র ।
  • কোম্পানীর মূলধন সংগ্রহের উৎসসমূহ।
  • শেয়ার এর ধারণা এবং প্রকারভেদ।
  • ঋণপত্র এর ধারণা এবং প্রকারভেদ।
  • শেয়ার ও ঋণপত্রের পার্থক্য।
  • কোম্পানী সংগঠনের বিলোপ সাধন পদ্ধতি ।
  • বাংলাদেশে কোম্পানী সংগঠনের বর্তমান অবস্থা ।
  • বাংলাদেশে কোম্পানী সংগঠনের ভবিষ্যত সম্ভাবনার দিকগুলো ।
  • সাম্প্রতিককালের বিকাশমান ব্যবসায়গুলোর ধারণা।

সূত্র: ক্যামব্রিয়ান পাবলিকেশন্স

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews