শামীম জাতীয় রাজনীতি সম্পর্কে খুবই সচেতন। নির্বাচন এলেই সে সব দলের 'নির্বাচনি ইস্তেহার' খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ে। সে জানে যে, বাংলাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দলের নাম শোনা গেলেও এর মধ্যে ৪/৫টি রাজনৈতিক দলের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম রয়েছে, বাকি দলগুলো নামসর্বস্ব। এসব দলের মধ্যে জাতীয় সংহতি প্রশ্নে ঐকমত্যও নেই। শামীমের বন্ধু হাসান এজন্যই বলে যে, বাংলাদেশের জন্য বহুদলীয় ব্যবস্থার চেয়ে দ্বিদলীয় ব্যবস্থাই উত্তম। 

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

যখন কোনো দেশে একটি মাত্র রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় তখন তাকে একদলীয় ব্যবস্থা বলে। এখানে কোনো প্রকার বিরোধী দল ও বিরোধী মতামতকে স্বীকার করা হয় না। এখানে দলের বিরোধিতা আর সরকার বিরোধিতাকে একই মনে করা হয়।

উত্তরঃ

রাজনৈতিক দলের অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে দলীয় নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়ন করা এবং দলীয় নীতি ও কর্মসূচির পক্ষে জনমত গঠন করা। সভাসমিতি বা পত্রপত্রিকায় প্রচারের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। কেননা জনমত ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষেই ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয়।

উত্তরঃ

বাংলাদেশে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। এদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দল রয়েছে। কিন্তু হাতে গোনা চার-পাঁচটি দল ছাড়া অন্য দলগুলোর তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই। বাকি দলগুলো শুধুই নামসর্বস্ব। জাতীয় সংহতি প্রশ্নে ঐকমত্যও নেই। নির্বাচন এলেই দলগুলো দলীয় নীতি ও কর্মসূচির পক্ষে প্রচার শুরু করে। সভাসমিতিতে বক্তৃতা বা রেডিও-টেলিভিশনে প্রচারের মাধ্যমে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলই নিজস্ব দলীয় নীতি ও কর্মসূচির পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করে। কিন্তু বড় কয়েকটি দল ছাড়া অনেক দলেরই দলীয় নীতি ও কর্মসূচি সুস্পষ্ট নয়। ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলো সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হওয়ায় বড় দলগুলোর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকতে পারে না। তাছাড়া আমাদের দেশে দলত্যাগের প্রবণতাও অনেক বেশি। বহুদলীয় ব্যবস্থার কারণে দলত্যাগের এ প্রবণতা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে কলুষিত করছে। তাই উদ্দীপকে শামীম ও হাসান দুই বন্ধুর কেউই বহুদলীয় ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতে পারছে না।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে হাসান মনে করে, বাংলাদেশে বহুদলীয় ব্যবস্থার চেয়ে দ্বিদলীয় ব্যবস্থাই উত্তম। হাসানের এ মতকে আমি পুরোপুরি সমর্থন করতে পারছি না। কারণ মাথাব্যথার জন্য মাথাটাই কেটে ফেলে দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা হচ্ছে গণতন্ত্র। আর গণতন্ত্রের প্রাণ হচ্ছে দলীয় ব্যবস্থা। গণতন্ত্র মানে হচ্ছে জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা পরিচালিত জনগণের সরকার। গণতন্ত্রে জনগণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে থাকে। প্রত্যেকেরই রাজনৈতিক দল গঠনের ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার আছে। দ্বিদলীয় ব্যবস্থায় সবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। তাছাড়া দ্বিদলীয় ব্যবস্থায় নেতৃত্ব যথাযথভাবে বিকশিত হয় না। ফলে বিপর্যয়ের সময় জাতি নেতৃত্বের সংকটে পড়তে পারে। তাই বহুদলীয় ব্যবস্থায় যে সমস্যাগুলো দেখা যায় সেগুলো সমাধান করতে পারলেই জাতি তার সুফল ভোগ করতে পারবে। যেমন- দলীয় নীতি ও কর্মসূচি সুস্পষ্ট ও জনগণের বোধগম্য হতে হবে। ছোট দলগুলো যাতে সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে ঝরে না পড়ে সেজন্য বড় দলগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। যোগ্যতা ও দক্ষতার মাপকাঠিতে রাজনৈতিক দল গঠনের অনুমতি প্রদান করতে হবে। নবীনদের নেতৃত্বে উৎসাহিত করতে হবে। এ পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারলে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থার চেয়ে বহুদলীয় ব্যবস্থাই বাংলাদেশের জন্য অধিক কল্যাণকর হবে

88

Related Question

View All
উত্তরঃ

সাধারণ অর্থে নেতৃত্ব বলতে নেতার গুণাবলিকে বোঝায়। পৌরনীতিতে নেতৃত্ব বলতে বোঝানো হয় কোনো ব্যক্তি বা দলের নেতা কতখানি গুণের অধিকারী এবং তা অন্যকে কতটুকু প্রভাবিত করতে পারে তাকে। সমাজবিজ্ঞানী কিম্বল ইয়ং-এর মতে, “নেতৃত্ব হলো এক ধরনের আধিপত্য যাতে অনুসারীরা তাকে সানন্দে মেনে চলে।” অর্থাৎ এটি এমন এক কৌশল, যা তার অনুসারীদেরকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে তাদেরকে উদ্দীপ্ত করে।

325
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটির সাথে রাজনৈতিক দলের ভূমিকার সাদৃশ্য রয়েছে।

গণতন্ত্র হলো প্রতিনিধিত্বমূলক ও পরোক্ষ ব্যবস্থা। বর্তমানকালের বিশাল জনসংখ্যা বিশিষ্ট জাতীয় রাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশ নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এজন্য গড়ে উঠেছে প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা। এরূপ ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের পরোক্ষভাবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। এজন্য পরোক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারকে 'দলীয় সরকার' বলা হয়। রাজনৈতিক দলের মূলভিত্তিই হলো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। 'আর রাজনৈতিক দল বলতে এমন এক জনসমষ্টিকে বোঝায় যারা রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানের পন্থা জনসম্মুখে = প্রচারের মাধ্যমে জনসমর্থন লাভের চেষ্টা করে। জনসমর্থন পেলে - নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করে এবং সরকার গঠন করে = থাকে। এর বিশেষ দিক হলো-

১. জনগণকে সংঘবদ্ধ করবে একটি আদর্শের ভিত্তিতে

২. তাদের আদর্শ ও নীতি প্রচার করে সমর্থন আদায় করবে;

৩. বৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করে;

৪. সরকার গঠন করলে দলীয় নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবে;

৫. জনকল্যাণে কাজ করবে;

৬. সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।

 

 

196
উত্তরঃ

এখানে রাজনৈতিক দলের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, ক্ষমতা লাভই এর মূল উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক দলের অনেকগুলো উদ্দেশ্যের মধ্যে ক্ষমতা লাভ অন্যতম একটি উদ্দেশ্য।

প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলসমূহ তাদের আদর্শ ও নীতিমালা প্রচারের মাধ্যমে জনসমর্থন লাভের চেষ্টা করে থাকে। জনসমর্থন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সরকার গঠন করে বা করার চেষ্টা করে। জোসেফ সুম্পিটার বলেন, "রাজনৈতিক দল হলো একটি গোষ্ঠী যার সদস্যরা রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রামে একযোগে কাজ করে যেতে সম্মত হয়।" আবার অধ্যাপক গ্যাটেল রলেন যে, "রাজনৈতিক দল কমবেশি সংগঠিত নাগরিকদের গোষ্ঠী, যারা রাজনৈতিক একক হিসেবে কাজ করে এবং যারা তাদের ভোটদান ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সাধারণ নীতিমালা কার্যকর করতে চেষ্টা করে।" অন্যদিকে, ম্যাকাইভার মনে করেন যে, রাজনৈতিক দল দলীয় আদর্শের ভিত্তিতে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করে থাকে।

অর্থাৎ আমরা দেখতে পাই যে, রাজনৈতিক দলের সকল কার্যক্রমের মূলভিত্তি হলো জনসমর্থন লাভের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া।
নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা গ্রহণ করতে রাজনৈতিক দল সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। আর সরকার গঠন করার মতো পর্যাপ্ত জনসমর্থন না পেলে বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে থাকে। ক্ষমতা লাভ করার জন্যই রাজনৈতিক দলের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

184
উত্তরঃ

"রাজনৈতিক দল আদর্শের প্রচারক হিসেবে কাজ করবে” কথাটি বলেছেন অধ্যাপক ম্যাকাইভার।

386
উত্তরঃ

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা মূলত দলীয় শাসনব্যবস্থা। এরূপ ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো জনসমর্থন আদায়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করে। গণতন্ত্রে দলীয় সরকার দেশ পরিচালনা করে। দল ব্যবস্থা ছাড়া গণতন্ত্র অর্থহীন। এজন্য রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়।

342
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews