শাম্মী তার গৃহে মৌলিক খাদ্যগোষ্ঠীর একটি ছক রেখেছেন। মৌলিক খাদ্যগোষ্ঠী থেকে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য গ্রহণের ফলে সহজে সুষম খাদ্য গ্রহণ সম্ভব হয়। এর ফলে দেহের জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টিসাধন ঘটে। মৌলিক খাদ্যগোষ্ঠী অনুসারে প্রতিদিনের গৃহীত খাদ্যকে ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো-
মৌলিক খাদ্যশ্রেণি | দৈনন্দিন গৃহীত বিভিন্ন খাবার |
| ১. শস্য ও শস্য জাতীয় খাদ্য শ্রেণি | ভাত, রুটি, মুড়ি, ভুট্টা, আলু, সুজি |
| ২. শাকসবজি ও ফল জাতীয় খাদ্যশ্রেণি | বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও ফল |
| ৩. মাছ, মাংস, ডাল ও বিচি জাতীয় খাদ্যশ্রেণি | মাছ, মাংস, ডিম, বিভিন্ন ধরনের ডাল, বাদাম |
| ৪. দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাদ্যশ্রেণি | দুধ, পনির, ছানা, দই, ক্ষীর, দুধ সেমাই |
| ৫. তেল ও মিষ্টি জাতীয় খাদ্যশ্রেণি | তেল, ঘি, মাখন, গুড়, মিষ্টি, আইসক্রিম |
Related Question
View Allবিভিন্ন ধরনের খাদ্যকে পাঁচটি মৌলিক শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়।
দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ল্যাকটোজ, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি২ ভিটামিন বি১২ পাওয়া যায়। এ শ্রেণির খাদ্যসমূহ হলো দুধ, দই, ছানা, ঘোল, ক্ষীর, পায়েস ইত্যাদি। এ শ্রেণির খাদ্য হতে প্রচুর খাদ্যশক্তি পাওয়া যায়। তাই দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাদ্য শিশুর জন্য প্রয়োজনীয়।
১নং চিত্রে তিনটি ভিন্ন পাত্রে তিন ধরনের খাবার যথা- মিষ্টি, রুটি এবং ভাত দেখতে পাই। এই তিনটি খাবারে বিভিন্ন খাদ্য উপাদান রয়েছে।
মিষ্টি দুগ্ধ জাতীয় খাদ্যশ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। রুটি এবং ভাত শস্য জাতীয় খাদ্যশ্রেণির অন্তর্গত। দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য থেকে আমরা প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ল্যাকটোজ, ভিটামিন-এ, ভিটামিন বি২, ভিটামিন বি১২ জাতীয় পুষ্টি উপাদান পাই। আর শস্য জাতীয় খাদ্য থেকে পাই খাদ্যশক্তি, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন বি২, ভিটামিন বি১২ ইত্যাদি। দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে শস্যজাতীয় খাদ্য থেকে আমরা দৈনিক মোট ক্যালরি চাহিদার অর্ধেকের বেশি পেয়ে থাকি। এই শ্রেণির খাদ্য গ্রহণ ক্যালরির চাহিদার ওপর নির্ভর করে।
২নং চিত্রের খাদ্যগুলো শাকসবজি ও ফল জাতীয় খাদ্যশ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রাপ্ত যাবতীয় শাকসবজি ও ফলমূল এই শ্রেণির খাদ্য। এগুলোতে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যেমন- সেলুলোজ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ক্যারোটিন, ফলিক অ্যাসিড ছাড়াও খনিজ পদার্থ যেমন-ক্যালসিয়াম, লৌহ, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি পাওয়া যায়। এ উপাদানগুলো ভিটামিন ও খনিজ লবণের ঘাটতি পূরণ করে দেহকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া এগুলো স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা ঠিক রাখে এবং চোখ ও ত্বকের সুস্থতা রক্ষা করে। আবার দেহে রক্ত ও হরমোন এবং কঠিন কোষকলা গঠনে এ খাদ্য উপাদানগুলো সহায়তা করে। এ কারণে প্রাপ্ত বয়স্ক স্বাভাবিক পরিশ্রমী ব্যক্তির দৈনিক ৩০০-৫০০ গ্রাম শাকসবজি ও ফলমূল জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা দরকার। সুতরাং, দেহের পুষ্টি সাধনে শাকসবজি ও ফল জাতীয় খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
দৈনিক প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির খাদ্যে ২০ গ্রাম গুড় বা চিনি না থাকলে ক্যালরির ঘাটতি হয়।
শস্য জাতীয় খাদ্য আমাদের দেহের মোট ক্যালরি চাহিদার অর্ধেকের বেশি পূরণ করে। শস্য জাতীয় খাদ্যের পরিমাণ খাদ্য গ্রহণকারীর পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে। এই শ্রেণির খাদ্য গ্রহণ ক্যালরির চাহিদার ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
