কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচি খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়ন করা হয়।
দারিদ্র্য হলো মানবজীবনের এমন এক বিপর্যয়কর অবস্থা যেখানে সমাজে বসবাসরত ব্যক্তিদের নূন্যতম মৌলিক চাহিদাই পূরণ করা সম্ভব হয় না।
অর্থাৎ দারিদ্র্য বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে মানুষের মৌলিক চাহিদা, যেমন: অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি অভাব পূরণ হয় না। অন্যভাবে বলা যায়, যেসব লোক জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় আয় উপার্জন করতে পারে না তাই দারিদ্র্য।
শারমিনের কর্মরত প্রতিষ্ঠানটি হলো ব্র্যাক। দারিদ্র্য বিমোচনে এই প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ব্র্যাক বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ক্ষুদ্র ঋণদানকারী সংস্থা।। সংস্থাটি ঋণদান কর্মসূচিসহ দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে। গ্রামের সামাজিকভাবে বঞ্চিত ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর মানুষ যেমন- অতি দরিদ্র চরবাসী, দুস্থ নারী, অবসরপ্রাপ্ত ও ছাঁটাইকৃত সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্রঋণ এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করে।
গ্রামের দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য বিশেষত নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সংস্থাটি দেশের ৭০ হাজার গ্রাম এবং ২০০০ বস্তিতে কাজ করে। গ্রামের অসংখ্য মহিলা আছে যারা কাজের অভাবে অথবা ধর্মীয় বিধি নিষেধের জন্য ঘরের বাইরে যেতে পারেনা। ব্র্যাক তাদেরকে প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির আওতায় এনে ঘরে বসেই ক্ষুদ্র বা কুটির শিল্পের ব্যবস্থা করে। এতে করে গ্রামের মহিলারা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে এভাবে শারমিনের প্রতিষ্ঠানটি • দরিদ্র জনগণের দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তা করে।
ব্র্যাক ছাড়া বাংলাদেশের অন্যান্য এনজিওগুলো হলো আশা, প্রশিকা, স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রভৃতি। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এসব এনজিওগুলো প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।
এনজিও বলতে "বেসরকারি সাহায্য সংস্থা (Non Government Organization) কে বোঝায়। এনজিও এর কাজ হলো দরিদ্র জনগণের দারিদ্র্য দূর করে উন্নয়নমূলক, শিক্ষামূলক, সেবামূলক কাজ করা।
এনজিও ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে সচ্ছলতা ও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। এ দেশে প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ (বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস) লেগেই থাকে। এনজিও দুর্যোগ মোকাবেলায় ত্রাণ প্রদান করে থাকে। এ দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে খাদ্য সংকট দেখা যায়। এ সমস্যা দূরীভূত করার জন্য এনজিওসমূহ কৃষিঋণ, সেচ ব্যবস্থা, বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করে। সামাজিক উন্নয়নে এনজিওসমূহ কুসংস্কার দূর করতে শিশু, বয়স্ক পুরুষ ও মহিলাদের মাঝে শিক্ষার বিস্তারে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও নারী অধিকার নিশ্চিতকরণ, বেকারত্ব হ্রাস, কুটির ও মাঝারি শিল্প উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য সেবায় উন্নয়নের লক্ষ্যে এনজিওগুলোর অবদান অপরিসীম।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, এদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক • উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি NGO-গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
Related Question
View Allকোনো দেশের শ্রমশক্তিকে সে দেশের মানবসম্পদ বলে।
দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে একটি অনুন্নত দেশের অনুন্নয়নের জন্য দায়ী কারণগুলো চক্রাকারে আবর্তিত হতে থাকে। অনুন্নত দেশে উৎপাদন কম হয় বলে জনগণের মাথাপিছু আয় কম। ফলে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা তথা চাহিদা কমে যায়। এতে বিনিয়োগ প্রবণতা হ্রাস পায়, যার কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে মূলধন গঠন সম্ভব হয় না। এরূপ মূলধন স্বল্পতার কারণে উৎপাদনও কম হয়। এভাবে এ কারণগুলো পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হতে থাকে, যা দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র নামে পরিচিত। এটি একটি দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করে।
উদ্দীপকে প্রদত্ত লেখচিত্রে মাথাপিছু আয়ের ক্রমবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে, যা একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
যেসব দেশ পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে উন্নয়নের পথে ক্রমশ অগ্রসর হচ্ছে এবং কিছু মাত্রায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জন করেছে সেসব দেশই সাধারণভাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিচিত। এসব দেশে উন্নয়নের সুযোগ-সুবিধা ও জাতীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের জন্য আর্থ-সামাজিক ভিত্তি রচনা করা হয়। এসব দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান, উত্তোলন ও তার সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে জনসাধারণের দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের অব্যাহত প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়। ফলে উৎপাদনের প্রায় সকল ক্ষেত্রে ক্রমোন্নতি পরিলক্ষিত হয়।
ফলে উৎপাদনের প্রায় সকল ক্ষেত্রে ক্রমোন্নতি পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত লেখচিত্রে লক্ষ করা যায়, ২০০৬-০৭ থেকে ২০০৭- ০৮ অর্থবছরে জনগণের মাথাপিছু আয় যথাক্রমে ৫৫০ থেকে ৬৫০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। একইভাবে ২০০৮-০৯ ও ২০১১-১২ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় বেড়ে যথাক্রমে ৭০০ ডলার ও ৯০০ ডলার হয়েছে। যা উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, লেখচিত্রে উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত লেখচিত্রটি বাংলাদেশের তথা একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির চিত্র প্রকাশ করেছে। এ ধরনের অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য কৃষি সবচেয়ে বড় নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করে।
উন্নয়নশীল দেশে জিডিপির প্রধান খাত হচ্ছে কৃষি। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। তবে এদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নয়নশীল হলেও এখনও কৃষির ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এখনো এদেশের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই বলা যায়, এদেশের প্রধান নিয়ামক শক্তি হলো কৃষি।
কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দেশের জিডিপিতে কৃষি খাত (শস্য, বন, প্রাণিসম্পদ এবং মৎস্য) এর অবদান ১৩.৬০ শতাংশ। আবার বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের যোগান দিয়ে থাকে কৃষি খাত। বর্তমানে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় আধুনিকায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাছাড়া উৎপাদকগণ কৃষির গুরুত্ব অনুভব করে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখাতে অধিক উৎপাদনে মনোনিবেশ করছে। ফলে দেশটিতে ক্রমে উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে
তাই, আমি মনে করি, উদ্দীপকে পরিলক্ষিত ক্রমোন্নতির সবচেয়ে বড় নিয়ামক হলো কৃষি।
একজন কর্মক্ষম শ্রমিক প্রচলিত মজুরিতে তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ চেয়েও কাজ না পাওয়ার পরিস্থিতিকে বেকারত্ব বলে।
অতি দরিদ্র, ভূমিহীন ও বেকার মানুষদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় 'কাজের বিনিময়ে খাদ্য' কর্মসূচি চালু করেছে।
১৯৭৪ সালে দেশব্যাপী চরম খাদ্যাভাব দেখা দেয়। বিশেষ করে খাদ্যশস্যের উচ্চমূল্য এবং গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্বের কারণে বৃহত্তর রংপুর জেলায় মানুষ অনাহারের সম্মুখীন হয়। তখন সরকার 'ফুড ফর ওয়ার্ক' বা কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু করে। এ কর্মসূচির তাৎক্ষণিক লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ শ্রমিকদের মজুরি নগদ অর্থে না দিয়ে খাদ্যশস্যের মাধ্যমে পরিশোধ করা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!