শারিকার দেখা ঘটনাটি জোয়ার-ভাটা।
সমুদ্রের উপকূলবর্তী এলাকার জলরাশি প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর ফুলে ওঠে আবার তা ধীরে ধীরে নেমে যায়। জলরাশির এরূপ নিয়মিত ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। জোয়ার সৃষ্টির পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব: মহাকর্ষ শক্তির প্রভাবে চাঁদ ও সূর্য
পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। কিন্তু চাঁদ পৃথিবীর নিকটে অবস্থিত হওয়ায় পৃথিবীর উপর সূর্য অপেক্ষা চাঁদের আকর্ষণ বল বেশি। সমুদ্রের জল তরল বলে চাঁদের আকষর্ণে পানি ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থিত বলে এদের উভয়ের আকর্ষণে জোয়ার
অত্যন্ত প্রবল হয়। পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি: পৃথিবী নিজ অক্ষের
চারদিকে প্রতিনিয়ত আবর্তন করছে। এই আবর্তনের ফলে চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে সৃষ্ট জোয়ারের বিপরীত দিকে কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবেও জোয়ারের সৃষ্টি হয়।
শারিকার দেখা ঘটনাটি জোয়ার-ভাটা।
i. জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে ভূখণ্ড থেকে আবর্জনাসমূহ নদীর মাধ্যমে সমুদ্রে পতিত হয়।
ii.
দৈনিক দুবার জোয়ার-ভাটার ফলে নদীর মোহনায় পলি ও আবর্জনা জমতে পারে না।'
iii.
জোয়ার-ভাটার ফলে সৃষ্ট স্রোতের সাহায্যে নদীখাত গভীর হয়। যেমন- আমেরিকার গ্রান্ড ক্যানিয়ন নদীর খাত।
iv. বহু নদীতে ভাটার স্রোতের বিপরীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। যেমন- কর্ণফুলী নদীতে সৃষ্ট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।
V.
জোয়ারের পানি সেচে সহায়তা করে। যেমন: খাল খনন করে জোয়ারের পানি আটকিয়ে সেচকার্যে ব্যবহার করা হয়।
vi. শীতপ্রধান দেশে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি জোয়ারের সাহায্যে নদীতে প্রবেশ করে। এর ফলে নদীর পানি সহজে জমে না। ফলে বন্দরগুলো বরফমুক্ত থাকে। যেমন- লন্ডনের টেমস নদীর তীরবর্তী বন্দর।
vii.
জোয়ার-ভাটার ফলে নৌযান চলাচলের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হয়। যেমন- বাংলাদেশের দুটি প্রধান সমুদ্রবন্দর (পতেঙ্গা ও মংলা) এবং অন্যান্য উপকূলবর্তী নদীবন্দর (যেমন- আরিচা, দৌলতদিয়া) সচল রাখতে জোয়ার-ভাটার ভূমিকা রয়েছে।
জোয়ার-ভাটার উপকারিতার পাশাপাশি কিছু ক্ষতিকর প্রভাবও লক্ষ্যণীয়। মাঝে মাঝে অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে জোয়ারের সময় বান (Tidal bore) ডাকে। ফলে প্রবল স্রোতের কারণে নৌকা, লঞ্চ প্রভৃতি ডুবে যায় এবং নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় জানমালের ক্ষতি হয়।
Related Question
View Allপৃথিবীর গভীরতম (১০,৮৭০ মিটার) খাতের নাম ম্যারিয়ানা খাত (Mariana trench) যা প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশ পর্যন্ত ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান (Continental shelf) বলে।
পৃথিবীর নদীবন্দরগুলোর অধিকাংশই মহীসোপান অঞ্চলে গড়ে ওঠেছে। ফলে এসব অঞ্চলে নৌচলাচল ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। মহীসোপানের তলদেশে খনিজ সম্পদের ভান্ডার থাকায় এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
চিত্রের 'A' চিহ্নিত স্থানের পানির প্রবাহ বা স্রোতটি হলো ল্যাব্রাডর স্রোত। এটি একটি শীতল স্রোত।
উত্তর মহাসাগর হতে আগত দুইটি সুমেরু শীতল স্রোত গ্রীনল্যান্ডের পূর্ব ও পশ্চিম পার্শ্ব দিয়ে দক্ষিণ দিকে' প্রবাহিত হয়ে ল্যাব্রাডর উপদ্বীপের নিকট মিলিত হয়। এই মিলিত স্রোত শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত নামে পরিচিত। এই স্রোতটি উত্তর আমেরিকার স্থলভাগের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এই স্রোতের জন্য উত্তর আমেরিকার ল্যাব্রাডর উপদ্বীপের বন্দরগুলো বছরের প্রায় নয় মাস বরফে আচ্ছাদিত থাকে। এর উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শুষ্ক ও শীতল হওয়ায় নিকটবর্তী স্থলভাগে বৃষ্টিপাত না হয়ে ব্যাপক তুষারপাত ঘটে। ফলে এ অঞ্চলে কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার না হওয়ায় মানুষের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!