শাস্ত্রানুসারে নেপালের বর্ণপরিচয় "জন্মগত নয়, পেশাগত।"
দৃশ্য-২ এ গোপাল গরীব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে। তাই অভাবের তাড়নায় রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে নদীতে, মাছ বিক্রি করে সংসার চালায়। এ পেশায় নিয়োজিত থেকেই তিনি তার একমাত্র ছেলে নেপালকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে পড়ান। নেপাল পড়াশুনা শেষ করে এখন রংপুরে একটি খ্যাতনামা কলেজের ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক। বৈদিক যুগে বর্ণপ্রথা ছিল কর্ম বা পেশাগত। ঋগ্বেদের একটি মন্ত্রে একজন ঋষি বলেছেন, "আমি বেদমন্ত্রদ্রষ্টা ঋষি। আমার কন্যা যব ভেজে ছাতু বানিয়ে বিক্রি করে। আমার ছেলে চিকিৎসক। "এ থেকে বোঝা যায়, তখন বর্ণভেদ জন্মগত বা বংশানুক্রমিক ছিল না। এছাড়া ক্ষত্রিয় রাজা বিশ্বামিত্র তপস্যার বলে ব্রাহ্মণত্ব অর্জন করেছিলেন। বৈশ্য থেকে ব্রাহ্মণ হওয়ার দৃষ্টান্ত ধর্মগ্রন্থে রয়েছে। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, গুণ ও কর্মের ভিত্তিতে তিনি চার বর্ণের সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু কালক্রমে এ বর্ণপ্রথা জন্মগত হয়ে দাঁড়ায়। তাই ব্রাহ্মণের সন্তান হয় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়ের সন্তান হয় ক্ষত্রিয়, বৈশ্যের সন্তান হয় বৈশ্য এবং শূদ্রের সন্তান হয় শূদ্র। এর ফলে একই পরিবারের চার সন্তান চার রকম গুণ নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও জন্মগত কারণে চারজনকেই একই কর্ম করতে হয়। এর ফলে তারা কোনো কর্মেই দক্ষতা অর্জন করতে পারে না। পরিশেষে বলা যায় যে, শাস্ত্রানুসারে নেপালের বর্ণপরিচয় "জন্মগত নয়, পেশাগত" -মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allবেদের মতামত ঠিক রেখে বেদের পরে সবরকম কর্তব্যকর্মের উপদেশ দিয়ে যে গ্রন্থ রচিত হয় তাকে স্মৃতিশাস্ত্র বলে।
যে ব্যক্তি ধর্মীয় বিধিবিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করেন তিনিই প্রকৃত ধার্মিক। ধর্ম সৃষ্টিকে বিশেষভাবে ধারণ করে আছে। সংক্ষেপে যা কিছু ধারণশক্তিসম্পন্ন তাই ধর্ম। একজন ধার্মিক ব্যক্তির মাঝে ধর্মের সব লক্ষণ উপস্থিত থাকে। ধর্মই তাকে প্রতি পদক্ষেপে রক্ষা করে। ধর্ম নষ্ট হলে মানুষ আর মানুষ থাকে না। ধার্মিক ব্যক্তি ধর্ম মেনে চলে এবং ধর্ম তাকে সর্বদা রক্ষা করে চলে।
সুবোধ ধর্মের বিশেষ লক্ষণ সদাচারকে অনুসরণ করেছে।
হিন্দু ধর্মশাস্ত্রে ধর্মের লক্ষণসমূহকে সাধারণ লক্ষণ ও বিশেষ লক্ষণ এ দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। বেদ, স্মৃতিশাস্ত্র, সদাচার ও বিবেকের বাণী এ চারটি হলো ধর্মের বিশেষ লক্ষণ। এ চারটিকে অনুসরণ করে কোনটি ধর্ম, কোনটি অধর্ম তা নির্ণয় করা যায়। উদ্দীপকের সুবোধকে শ্রীরামকৃষ্ণের আদর্শ অনুসরণ করতে দেখা যায়। সে সকল ধর্মমতকে সম্মান করে। তার এরূপ আচরণের মধ্য দিয়ে ধর্মের যে বিশেষ লক্ষণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তা হলো সদাচার। সৎ আচার = সদাচার। সৎ ব্যক্তিদের আচার-আচরণের মধ্য দিয়ে ধর্মের প্রকাশ ঘটে। বেদ ও স্মৃতিশাস্ত্রের মাধ্যমে যদি ধর্ম ও অধর্ম নির্ণয় করা সম্ভব না হয় তবে সেক্ষেত্রে সমাজে মহাপুরুষদের আচার-আচরণ ও উপদেশ-নির্দেশ অনুসরণ করাই ধর্ম। উদ্দীপকে সুবোধকে শ্রীরামকৃষ্ণের অ্যদর্শ অনুসরণ করতে দেখা যায় বিধায় বলা যায়, সে ধর্মের বিশেষ লক্ষণ সদাচারকে অনুসরণ করেছে।
হ্যাঁ, শ্রীকান্তের কাজটি অবশ্যই ধর্মসম্মত। কেননা সে ধর্মের বিশেষ লক্ষণ বিবেকের বাণী অনুসরণ করে নিরপরাধ লোকের প্রাণ বাঁচিয়ে পুণ্য করেছে।
ধর্মের সাধারণ লক্ষণ বর্ণনার পর ধর্মের বিশেষ লক্ষণসমূহে বলা হয়েছে। এ সম্পর্কে মনুসংহিতায় বলা হয়েছে- বেদঃ স্মৃতিঃ সদাচারঃ স্বস্য চ প্রিয়মাত্মনঃ।
এতচ্চতুর্বিধং প্রাহুঃ সাক্ষাৎ ধর্মস্য লক্ষণম্ । (২/১২) অর্থাৎ, বেদ, স্মৃতিশাস্ত্র, সদাচার ও বিবেকের বাণী- এ চারটি ধর্মের বিশেষ লক্ষণ। এ চারটিকে অনুসরণ করে কোনটি ধর্ম, কোনটি অধর্ম তা নির্ণয় করা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সন্ত্রাসীদের তাড়া করা একজন নিরপরাধ মানুষ শ্রীকান্তদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সন্ত্রাসীদের কাছে মিথ্যা বলে শ্রীকান্ত লোকটির প্রাণ রক্ষা করে। এক্ষেত্রে শ্রীকান্ত তার বিবেকের বাণীকে কাজে লাগিয়েছে বলা যায়। বেদ, স্মৃতিশাস্ত্র ও সদাচার অনুসরণ করেও যদি বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে ধর্ম-অধর্ম নির্ণয় করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে মানুষকে তার নিজস্ব বিবেকের আশ্রয় নিতে হয়। মানুষ বিবেকবান প্রাণী। তাই তাকে বিবেকবৃদ্ধি অবলম্বন করে জীবনপথে চলতে হয়। সর্বক্ষেত্রে ধর্মের নির্দেশ মেনে চলা মঙ্গলজনক নাও হতে পারে। যেমন- শাস্ত্রের নির্দেশ হচ্ছে সত্য বলা ধর্ম, আর মিথ্যা বলা পাপ। এ নির্দেশ সকল ক্ষেত্রে অনুসরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। যদি দেখা যায় মিথ্যা বললে একজন নির্দোষ মানুষের জীবন রক্ষা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে মিথ্যা বলাই ধর্ম। এরূপ ক্ষেত্রে সত্য বলা ধর্ম নয়। এমন জটিল পরিস্থিতিতে মানুষের অন্তরে অবস্থিত ঈশ্বর বা বিবেকের নির্দেশ নিয়ে ধর্মাধর্ম নির্ণয় করতে হয়। উদ্দীপকের শ্রীকান্ত এ নির্দেশই অনুসরণ করেছে। তাই তার কাজটি অবশ্যই ধর্মসম্মত।
ত্রেতা যুগের পরবর্তী যুগের নাম হলো দ্বাপর যুগ।
ধর্মের বিশেষ লক্ষণ বেদ, স্মৃতিশাস্ত্র ও সদাচার অনুসরণ করেও যদি বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে, ধর্ম-অধর্ম নির্ণয় করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে মানুষকে তার নিজস্ব বিবেকের আশ্রয় নিতে হয়। মানুষ বিবেকবান প্রাণী। তাই তাকে বিবেকবুদ্ধি অবলম্বন করে জীবনপথে চলতে হয়। সর্বক্ষেত্রে ধর্মের নির্দেশ মেনে চলা মঙ্গলজনক নাও হতে পারে। যেমন- শাস্ত্রের নির্দেশ হচ্ছে সত্য বলা ধর্ম, আর মিথ্যা বলা পাপ। এ নির্দেশ সকল ক্ষেত্রে অনুসরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। যদি দেখা যায় মিথ্যা বললে একজন নির্দোষ মানুষের জীবন রক্ষা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে মিথ্যা বলাই ধর্ম। এরূপ ক্ষেত্রে সত্য বলা ধর্ম নয়। এমন জটিল পরিস্থিতিতে মানুষের অন্তরে অবস্থিত ঈশ্বর বা বিবেকের নির্দেশ নিয়ে ধর্মাধর্ম নির্ণয় করতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!