শাহনূর রহমান একটি বহুজাতিক সংস্থায় চাকরি করেন। তিনি যে বেতন ও ভাতাদি পান তার উপর নির্ধারিত হারে কর প্রদান করেন। অন্যদিকে একজন সাধারণ মানুষও সরকারকে বিভিন্নভাবে কর প্রদান করছেন। এভাবে সরকারি ব্যয় নির্বাহের জন্য জনগণের নিকট থেকে ও অন্যান্য বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়।

Updated: 3 months ago
উত্তরঃ

সরাসরি কোনো প্রকার সুবিধা বা প্রাপ্তি প্রত্যাশা না করে সরকারকে জনগণ বাধ্যতামূলকভাবে যে অর্থ প্রদান করে, তাকে কর বলে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
উত্তরঃ

জাতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে যে আয় সংগ্রহ করে তাকে সরকারি আয় বলে। সরকারি আয়ের উৎসকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়; যথা- কর রাজস্ব, কর বহির্ভূত ও অ-রাজস্ব। কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত খাতগুলো হলো-- আয়কর, আমদানি শুল্ক, আবগারি শুল্ক, VAT, ভূমিকর, সম্পূরক কর, কর্পোরেট কর, যানবাহন কর ইত্যাদি। কর বহির্ভূত রাজস্বের উৎসগুলো হলো- জরিমানা ও বাজেয়াপ্তকরণ, লাইসেন্স ফি, বিভিন্ন ধরনের আদায়, সরকারি এখতিয়ার, ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ খাত, ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আয়, বাণিজ্য আয় ইত্যাদি। এছাড়া অ-রাজস্বের উৎসগুলো হলো- নতুন মুদ্রা সৃষ্টি, ঋণ গ্রহণ, দান ও অনুদান ইত্যাদি।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
উত্তরঃ

উত্তীলকে লাহনূর রহমান যে কর প্রদান করেন তা হলো আয়কর। আয়কর সমাজে বিদ্যমান আয় বৈষম্য যেভাবে হ্রাস করে নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-

সরকারি রাজয়ের প্রধান উৎস হল আয়কর। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত এক বছরে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্জিত আয়ের উপর আরোপিত করকে 'আয়কর' বলা হয়। ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে করযোগ্য আয়ের ন্যূনতম সীমা অতিক্রম করলে নির্ধারিত হারে বাধ্যতামূলকভাবে আয়কর প্রদান করতে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে করমুক্ত আয়ের সীমা বার্ষিক ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে যাদের বার্ষিক আয় ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি তাসেরকে বাধ্যতামূলক আয়কর প্রদান করতে হয়। আয়কর হল একটি প্রত্যক্ষ কর এবং যার উপর আয়কর ধার্য করা হয় তাকেই করের বোঝা বহন করতে হয়; অন্য কারও উপর এ করের ভার স্থানান্তর করা যায় না। আয়করের মাধ্যমে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব সংগ্রহ করে থাকে এবং এ কর সমাজে বিদ্যমান 'আয় বৈষম্য হ্রাস করে। সাধারণত প্রতিটি সমাজে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য বিরাজ করে। সরকারের দায়িত্ব এ বৈষম্যের বিলোপ সাধন। এজন্য সরকার ধনীদের উপর উচ্চ হারে কর ধার্য করে। ফলে ধনীদের সম্পদ হ্রাস পায়। আবার সরকার আয়করের অর্থ দরিদ্রদের জন্য ব্যবহার
করে, ফলে সরিদ্রদের জীবনমান পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। এভাবে আয়কর সমাজে বিদ্যমান আয় বৈষম্য হ্রাস করে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উল্লিখিত উপায়ে উদ্দীপকে শাহনূর রহমানের প্রদানকৃত আয়কর সমাজে বিদ্যমান আয়
বৈষম্য হ্রাস করে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত সাধারণ মানুষের প্রদত্ত কর হলো পরোক্ষ কর এবং শাহনূর রহমানের প্রদত্ত কর হলো প্রত্যক্ষ কর। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের মধ্যে পার্থক্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-

যে করের ক্ষেত্রে করদাতা করের বোঝা অন্যের উপর কোনোভাবে স্থানান্তর করতে পারে না তাকে প্রত্যক্ষ কর বলে। অপরদিকে, যেসব করের ক্ষেত্রে কর ধার্যকৃত ব্যক্তি বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে অন্যের উপর করের আর্থিক ভার চাপিয়ে দিতে পারে তাকে পরোক্ষ কর বলা হয়ে থাকে।

প্রত্যক্ষ করের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি তথা প্রথমে যার উপর কর আরোপ করা হয় সে ব্যক্তি প্রাথমিক বা আপাত ভার এবং চূড়ান্ত বা আর্থিক ভার নিজেই বহন করে থাকে। অপরদিকে, পরোক্ষ করের আপাত এবং চূড়ান্ত ভার ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি বহন করে থাকে।

প্রত্যক্ষ করের ক্ষেত্রে অনেক সময় জনসাধারণ মিথ্যা হিসেবে দাখিল করে কর ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা দেখায়। কিন্তু পরোক্ষ করের আর্থিক চাপ অন্যজনের উপর চাপিয়ে দেওয়া যায় বলে এটি ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা খুবই কম।

প্রত্যক্ষ কর হচ্ছে প্রগতিশীল; কেননা এ ধরনের করের ক্ষেত্রে ধনীদের বেশি এবং পরিদ্রদের জন্য কম কর আরোপ করা যায়। কিন্তু পরোক্ষ কর মূলত দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর উপর আরোপ করা হয় বলে পরোক্ষ কর দরিদ্রদেরকে বেশি দিতে হয়, তাই এ কর প্রগতিশীল কর নয়।

প্রত্যক্ষ কর স্থিতিস্থাপক; কেননা এ ধরনের করের হ্রাসবৃদ্ধির মাধ্যমে করের পরিমাণ হ্রাস-বৃদ্ধি করা যায়। কিন্তু পরোক্ষ কর অস্থিতিস্থাপক; কেননা এ ধরনের করের হার হ্রাস-বৃদ্ধি করে করের পরিমাণ হ্রাস-বৃদ্ধি করা যায় না।

সবশেষে বলা যায়, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের মধ্যে উল্লিখিত পার্থক্যসমূহ পরিলক্ষিত হয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
23
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

জাতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে যে আয় সংগ্রহ করে, তাকে সরকারি আয় বলা হয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
94
উত্তরঃ

সরকার দেশ পরিচালনার জন্য এবং জাতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে আয় সংগ্রহ করে। যেমন- আয়কর, মুনাফা কর, শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আবগারি শুল্ক, প্রশাসনিক রাজস্ব, জরিমানা ও বাজেয়াপ্ত, লাইসেন্স ফি, ঋণ, দান/অনুদান ইত্যাদি থেকে সরকার আয় করে থাকে। সরকারের এসব খাত থেকে আয় করাকে বলা হয় সরকারি আয়। সরকারের এই আয়ের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো সরকারি ব্যয়। তাই উল্লেখিত উৎস থেকে সরকার আয় করে থাকে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
75
উত্তরঃ

রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রশাসনিক ও প্রতিরক্ষা ব্যয়সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটানোর জন্য সরকার বিভিন্ন উপায়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যে অর্থ আদায় করে, তাকে সরকারি আয় বা রাজস্ব বলে।

সরকারি আয় সরকারি কোষাগারে জমা থাকে এবং দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের পক্ষে এর হিসাব রাখে। সরকারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো কর। সরকার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কর হিসেবে যে অর্থ আদায় করে, তাকেই কর আয় বলে। এই কর আয় আবার দুই ধরনের; যথা- প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ কর। যে ব্যক্তির উপর কর ধার্য করা হয় তার বোঝা যদি তাকে বহন করতে হয়, তবে সেই করকে প্রত্যক্ষ কর বলে। যেমন-আয়কর, সম্পদ কর, ভূমি কর, মৃত্যু কর ইত্যাদি। আবার কোনো ব্যক্তির উপর যে কর ধার্য করা হয়, তার ভার বা বোঝা সে যদি অন্য কারও উপর চাপাতে পারে, তবে তাকে পরোক্ষ কর বলা হয়। যেমন- বিক্রয় কর, পণ্যকর, প্রমোদ কর ইত্যাদি। এছাড়া করবহির্ভূত আয় রয়েছে, যা থেকে রাষ্ট্র/সরকার আয় করে থাকে। সরকার কর ব্যতীত অন্যান্য উৎস থেকে যে রাজস্ব বা অর্থ পায়, তাকে করবহির্ভূত আয় বলে। এ ধরনের আয় সরকারের বাধ্যতামূলক পাওনা নয়। বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে সরকার জনগণের কাছ থেকে পেয়ে থাকে। যেমন- ফি, বাণিজ্যিক আয়, সরকারি সম্পত্তির আয়, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ, সরকারি ঋণ, সুদ, দান ও অনুদান ইত্যাদি। বিভিন্ন উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে রাষ্ট্রীয় আয় এসব উৎস থেকে হয়ে থাকে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
61
উত্তরঃ

বাংলাদেশ সরকার প্রশাসন পরিচালনা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ সাধন প্রভৃতির জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে।

এ ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করতে হয়। বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসকে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (ক) কর রাজস্ব, (খ) করবহির্ভূত রাজস্ব। সরকারের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হলো কর রাজস্ব। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো আয়কর। বাংলাদেশ সরকারের আয়কর আইন অনুযায়ী যাদের আয় একটি নির্দিষ্ট সীমার ঊর্ধ্বে, তাদের কাছ থেকে আয়কর আদায় করা হয়। বাংলাদেশে কর ব্যবস্থায় মূল্য সংযোজন কর (VAT) ১৯৯২ সালে প্রচলন করা হয়। দেশের মধ্যে পণ্যসামগ্রী বিক্রয়ের উপর এ কর ধার্য করা হয়। দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যাদির উপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে আবগারি শুল্ক বলা হয়। বাংলাদেশে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত চা, চিনি, তামাক, সিগারেট, দিয়াশলাই প্রভৃতি দ্রব্যের উপর আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়। এছাড়া সম্পূরক শুল্ক, ভূমি রাজস্ব, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, রেজিস্ট্রেশন, যানবাহন শুদ্ধ, অন্যান্য কর ও শুল্ক কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত। সরকার বিভিন্ন আর্থিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে তার উপর সুদ বাবদ প্রচুর আয় করে থাকে। সরকারি সম্পত্তি ভাড়া ও ইজারা দেওয়ার মাধ্যমে, দেশের বিভিন্ন রাস্তা, ব্রিজ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে টোল ও লেভি সংগ্রহ করে, বনভূমি থেকে, ডাক বিভাগ থেকে, রেলওয়ে থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ আয় করে, যা করবহির্ভূত রাজস্ব বলে পরিচিত।

উল্লেখিত উৎসসমূহ থেকে বাংলাদেশ সরকার প্রচুর অর্থ আয় করে থাকে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
71
উত্তরঃ

হ্যাঁ, সমাজে ভালোভাবে চলতে হলে অবশ্যই ব্যয় অপরিহার্য।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
76
উত্তরঃ

রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার বিভিন্ন খাতে যে ব্যয় নির্বাহ করে, তাকে সরকারি ব্যয় বলে। দেশের ভেতরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো নির্মাণ, সামাজিক কল্যাণসাধন, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রভৃতি কাজের জন্য সরকারকে ব্যয় করতে হয়। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে বর্তমানে প্রায় প্রতিটি দেশের সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাত বিবেচনায় রেখে বাজেটে ব্যয় বরাদ্দ রাখে; পরে আবার তা ব্যয়ও করে থাকে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
76
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews