যারা উৎপাদকের কাছ থেকে ভোক্তাদের কাছে পণ্য সরবরাহের সাথে জড়িত তারাই হলো মধ্যস্থব্যবসায়ী।
পাইকার বা উৎপাদকের কাছ থেকে পণ্য কিনে চূড়ান্ত ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করাকে খুচরা ব্যবসায় বলে।
খুচরা ব্যবসায় হচ্ছে বণ্টন প্রণালিতে ভোক্তাদের আগের ধাপ। খুচরা ব্যবসায়ী পাইকার ও চূড়ান্ত ভোক্তাদের মাঝে সংযোগ স্থাপন করে। এতে ক্রেতার চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সাধারণত অল্প অল্প করে পণ্য বিক্রি করা হয়।
শাহিন প্রথমত প্রচারের মাধ্যম হিসেবে বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেন। কোনো বিষয় বা পণ্য সম্পর্কে ক্রেতাদের জানানোর কৌশলই হলো বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপন বিষয়বস্তুকে জনসমক্ষে তুলে ধরে। এতে পণ্যের বিক্রি বেড়ে যায়।
উদ্দীপকের শাহিন নতুন শাড়ির দোকান সম্পর্কে সবাইকে জানানোর জন্য আকর্ষণীয় লিফলেট তৈরি করে এলাকায় বিতরণ করেছিলেন। 'বাহারি শাড়ির অপূর্ব সমাহার' উল্লেখ করে পোস্টার ও ব্যানার টানিয়েছিলেন। অর্থাৎ শাহিন অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে নৈর্ব্যক্তিক উপায়ে এলাকার মানুষকে তার দোকান ও পণ্য সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। এভাবে তার দোকানের পণ্য সম্পর্কে সবাই জানবে। ফলে ক্রেতারা পণ্য কেনায় আগ্রহী হবে। এতে বিক্রিও বেড়ে যেতে পারে। এসব বৈশিষ্ট্য বিজ্ঞাপনের সাথে মিলে যায়। সুতরাং, শাহিন প্রথমত প্রচারের যে কৌশল নিয়েছিলেন তা হলো বিপণন প্রসারের বিজ্ঞাপন কৌশল।
শাহিন পরবর্তীতে বিপণনের ব্যক্তিক বিক্রয় কৌশলের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
এ কৌশলে বিক্রয়কর্মী সরাসরি ক্রেতাকে প্ররোচিত করে পণ্য বিক্রি করে। এর মাধ্যমে একজন বিক্রয়কর্মী সম্ভাব্য ক্রেতাদের চূড়ান্ত ক্রেতায় পরিণত করেন।
উদ্দীপকের জনাব শাহিন কাকরাইল মার্কেটে শাড়ি-কাপড়ের দোকান দেন। এর প্রচারণার জন্য প্রথমেই তিনি বিজ্ঞাপন মাধ্যম হিসেবে লিফলেট ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে তিনি বিক্রয়কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো ও আচরণের উন্নয়নে পদক্ষেপ নেন। এটি ব্যক্তিক বিক্রয় কৌশলের সাথে সম্পর্কিত।
শাহিন বিক্রয়কর্মীর দক্ষতা ও তাদের আচরণ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ব্যক্তিক বিক্রয়ের মাধ্যমে ক্রেতাদের সরাসরি প্ররোচিত করা এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের চূড়ান্ত ক্রেতায় পরিণত করা যায়। এতে বিক্রি ও উৎপাদন উভয়ই বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। একই সাথে এককপ্রতি উৎপাদন ব্যয় কমে যায়। ব্যক্তিক বিক্রয়ের মাধ্যমে সরাসরি ভোক্তাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়, যা শাহিনকে ক্রেতার রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সংগ্রহে উৎসাহিত করবে। সুতরাং, ক্রেতাদের উৎসাহিত করার জন্য শাহিনের ব্যক্তিক বিক্রয়ের কৌশলটি যথাযথ হয়েছে।
Related Question
View Allমোড়কিকরণ দ্বারা পণ্যকে আকর্ষণীয় করা যায়।
পণ্যের মান নির্ধারণের কাজকে প্রমিতকরণ (Standardization) বলে। পণ্যের গুণাগুণ, আকার, রং, স্বাদ প্রভৃতির ওপর ভিত্তি করে প্রমিতকরণ করা হয়। প্রমিতকরণের ফলে পণ্যের বিপণন প্রক্রিয়া সহজ হয়। আবার বিক্রয় কাজের গতিশীলতাও বেড়ে যায়।
শুভ বিক্রয়কর্মীর শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কথা বিবেচনা করেছেন।
বিক্রয়কর্মী তার নিজস্ব গুণ বা বৈশিষ্ট্য দিয়ে ক্রেতা ও ভোক্তাদের সহজে আকৃষ্ট করতে পারেন। এজন্য বিক্রয়কর্মীর কিছু শারীরিক গুণ থাকা প্রয়োজন। বিক্রয়কর্মীর সুন্দর হাসি, দৃষ্টিভঙ্গি, কণ্ঠস্বর প্রভৃতি তার শারীরিক বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকের শুভ তার দোকানের বিক্রি বাড়ানোর জন্য একজন বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দেন। এজন্য তিনি দেখতে ভালো এবং সদালাপী এরকম বিক্রয়কর্মীকে প্রাধান্য দেন। কেননা সুন্দর ও আকর্ষণীয় চেহারার বিক্রয়কর্মী সহজেই ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। তাছাড়া বিক্রয়কর্মীর হাসিমাখা মুখ ক্রেতাদের পণ্য কিনতে উদ্বুদ্ধ করে। এ থেকে বোঝা যায়, শুভ শারীরিক বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দিয়ে বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন।
বিক্রি বাড়াতে শুভর বিক্রয়কর্মী নিয়োগের পদক্ষেপটি যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।
বিক্রয়কর্মী তার শারীরিক (সুদর্শন চেহারা, সুস্বাস্থ্য), মানসিক (আন্তরিকতা, ধৈর্যশীলতা) ও নৈতিক (সততা, জেন্ডার সচেতনতা) প্রভৃতি গুণাবলির মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেন। বর্তমানে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সাফল্য বিক্রয়কর্মীর ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করে। এজন্য বিক্রয়কর্মীর কাজকে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উদ্দীপকের শুভর একটি দোকান আছে। তার দোকানের পাশে একই ধরনের-আরও একটি দোকান গড়ে উঠেছে। এতে তার দোকানের পণ্যের বিক্রির পরিমাণ কমে যায়। তাই শুভ বিক্রি বাড়াতে একজন আদর্শ বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দেন।
বিক্রয়কর্মীর সুদর্শন চেহারা, হাসি-খুশি মনোভাব দেখে গ্রাহকরা আকৃষ্ট হয়। ফলে নতুন নতুন ক্রেতা এসে দোকানে ভিড় করে। বিক্রয়কর্মী এভাবে তাদের পণ্য কিনতে উদ্বুদ্ধ করে। তখন অনেক গ্রাহক স্থায়ী ক্রেতায় পরিণত হন। এতে শুভর দোকানের পণ্যের বিক্রি বেড়ে যায়। ফলে বিক্রির পরিমাণ আগের অবস্থানে ফিরে আসে। সুতরাং, শুভর বিক্রয়কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী ও যথাযথ হয়েছে।
বণ্টন প্রণালিতে সবশেষে ভোক্তার অবস্থান।
মানের ভিত্তিতে পণ্যকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করাকে পর্যায়িতকরণ (Grading) বলে।
সাধারণত ওজন, আকার ও গুণাগুণের ভিত্তিতে পণ্যকে পর্যায়িতকরণ করা হয়। পর্যায়িতকরণ করার ফলে ক্রেতা সহজেই তার পছন্দের পণ্য খুঁজে নিতে পারেন। এতে পণ্য বিক্রি করা সহজ হয়। ফলে ক্রেতা সন্তুষ্টিও অর্জিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
