সামাজিকীকরণের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহন হলো পরিবার।
নিজের ধ্যানধারণা অনুযায়ী অপরকে পরিচালিত করার প্রক্রিয়াকে অভিভাবন বলা হয়। এটি এক ধরনের যোগাযোগ মাধ্যম। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রভাব বা তথ্যাদি অপরের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। অভিভাবন প্রক্রিয়ার প্রয়োগ পরিলক্ষিত হয় সামাজিকীকরণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে; যেমন- শিক্ষা, রাজনীতি, শিল্প, বাণিজ্য ইত্যাদি। সাম্প্রতিককালে সমাজব্যবস্থায় প্রচার কার্য ও বিজ্ঞানের ব্যাপক উদ্যোগ অভিভাবকের মনস্তাত্ত্বিক নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
নিজের ধ্যানধারণা অনুযায়ী অপরকে পরিচালিত করার প্রক্রিয়াকে অভিভাবন বলা হয়। এটি এক ধরনের যোগাযোগ মাধ্যম। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রভাব বা তথ্যাদি অপরের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। অভিভাবন প্রক্রিয়ার প্রয়োগ পরিলক্ষিত হয় সামাজিকীকরণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে; যেমন- শিক্ষা, রাজনীতি, শিল্প, বাণিজ্য ইত্যাদি। সাম্প্রতিককালে সমাজব্যবস্থায় প্রচার কার্য ও বিজ্ঞানের ব্যাপক উদ্যোগ অভিভাবকের মনস্তাত্ত্বিক নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
রনির ছবি আঁকায় সামাজিকীকরণের উপাদানের অনুকরণের প্রভাব ঘটেছে।
যখন একজন ব্যক্তি অপরজনের কাজ ও আচার-আচরণ হুবহু নকল করে তখন তাকে অনুকরণ বলে। এক্ষেত্রে শিশুরা সব সময় বড়দের অনুকরণ করে। আর এ অনুকরণের মাধ্যমে একজন শিশু তার ভাষা উচ্চারণ ও বাচনভঙ্গি ইত্যাদি আয়ত্ত করে থাকে। অনুকরণের মাধ্যমে একটি শিশু নানা ধরনের বিষয়ের সাথে পরিচিত হয়। যেমনটি দেখা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত রনির ক্ষেত্রে। শাহেদ সাহেব একজন আর্কিটেক্ট (স্বপতি)। তিনি বড় কাগজে একটি বাড়ির নকশা করছিলেন। তার ৫ বছরের ছেলে রনি তার দেখাদেখি কাগজ পেন্সিল নিয়ে আঁকতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পর সে বাবাকে তার আঁকা ছোট ছোট ঘরগুলো দেখায়। আর এ বিষয়টির সাথে সামাজিকীকরণের অনুকরণ উপাদানের মিল লক্ষণীয়।
তাই বলা যায়, রনির ছবি আঁকার ক্ষেত্রে সামাজিকীকরণের অনুকরণ উপাদানটির প্রভাব পড়েছে।
হ্যাঁ, রনি ও সোহেলের জীবনে সামাজিকীকরণের প্রক্রিয়ার পার্থক্য রয়েছে। রনি শহরে বেড়ে ওঠা পাঁচ বছরের একটি শিশু। তার বাবা শাহেদ সাহেব একজন স্থপতি। তিনি বড় কাগজে একটি নকশা করছিলেন। তা দেখে তার ছেলে রনি পেন্সিল দিয়ে আঁকতে শুরু করে। যা শিশুর সামাজিকীকরণের কথাই মনে করিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে শহরের মানুষের সামাজিকীকরণের প্রক্রিয়ায় পরিবারই প্রথম ও প্রধান মাধ্যম। পরিবারই হচ্ছে শিশুর শিক্ষার মাধ্যম। তাই রনি তার পিতার কাছ থেকে প্রথম ছবি আঁকতে শিখে। এক্ষেত্রে পারিবারিক সংস্কৃতির প্রতিফলন সরাসরি ব্যক্তির ওপর পড়ে। এছাড়া শহরের মানুষের সামাজিকীকরণে কর্মক্ষেত্র, বিনোদনমূলক প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে শহরের মানুষ সমকালীন সমাজ ও বহির্বিশ্বের নিত্যনতুন তথ্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানকে সহজে গ্রহণ করে এবং দ্রুত নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে। পক্ষান্তরে, সোহেল গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশু। যেখানে রয়েছে পরিবাসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশী। তাই পরিবারের সদস্যদের আচার-আচরণের সাথে শিশুর আচরণের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ঘটে। এর মাধ্যমে শিশু সহযোগিতা, সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা, শ্রদ্ধাবোধ প্রভৃতি গুণাবলি অর্জন করে। গ্রামের মানুষের সামাজিকীকরণের প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশী, জাতিগোষ্ঠী, সমবয়সী দল, খেলার সাথী প্রভৃতি ব্যক্তির সামাজিকীকরণে ভূমিকা রাখে। তাই বলা যায়, রনি ও সোহেলের জীবনে সামাজিকীরণে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
Related Question
View Allসামাজিকীকরণ হলো একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মানুষ সমাজের রীতিনীতি, নিয়মকানুন ও মূল্যবোধ শেখে। জন্মের পর থেকেই মানব শিশু পরিবার, প্রতিবেশী, সমবয়সী ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এর ফলে সে সমাজের একজন উপযোগী সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে।
সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়তা করে। এটি পরিবার, প্রতিবেশী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যক্তির মূল্যবোধ, আচরণ ও চিন্তাধারা গঠনের প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া সমাজের সঙ্গে মানুষের সামঞ্জস্য সাধনে সাহায্য করে।
পরিবার সামাজিকীকরণের প্রথম ও প্রধান মাধ্যম। শিশুর আবেগ, আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, ধর্মচর্চা এবং পোশাক-পরিচ্ছদের মতো বিষয়গুলো পারিবারিক পরিবেশে গড়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠন হয়। এজন্য পরিবারকে সামাজিকীকরণের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম বলা হয়।
প্রতিবেশী শিশুর সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিশুর চারপাশের মানুষের আচরণ, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ তার আচরণে প্রভাব ফেলে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেলামেশা করে শিশু সমাজের নিয়ম ও রীতিনীতি সহজে আয়ত্ত করে। এটি তার সামাজিক দক্ষতা বাড়ায়।
স্থানীয় সমাজের সাহিত্য, সাংস্কৃতিক সংঘ, বিজ্ঞান ক্লাব এবং খেলাধুলার ক্লাব শিশুর চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সাহায্য করে। এসব সংগঠনে অংশগ্রহণ করে শিশু সহনশীলতা, বুদ্ধিবৃত্তি ও সৌন্দর্যবোধের বিকাশ ঘটায়। এতে শিশু স্থানীয় সমাজের অংশ হয়ে ওঠে এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়।
স্থানীয় সমাজের সাহিত্য, সংগঠন এবং ক্লাব শিশুর চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে ভূমিকা রাখে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিশু সহনশীলতা, সহযোগিতা ও সৃজনশীলতা শেখে। এটি তাকে সমাজের কার্যকর অংশীদার হতে সাহায্য করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!