কাপড় কাচার সোডাকে সোডিয়াম কার্বনেট বলে।
সিনথেটিক ডিটারজেন্ট একধরনের ক্ষারবিহীন পরিষ্কারক উপকরণ। রেশম, পশম ইত্যাদি মূল্যবান বস্ত্রাদি সিনথেটিক ডিটারজেন্টের সাহায্যে নির্ভয়ে পরিষ্কার করা যায়। এ ধরনের ডিটারজেন্ট ব্যবহারের ফলে রঙিন বস্ত্রাদির রং চটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
পোশাকের যত্ন বলতে সঠিক নিয়মে রেখে দেওয়াকে বোঝায়।
পোশাকের উজ্জ্বলতা, সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব রক্ষার জন্য সঠিকভাবে যত্ন ও সংরক্ষণ করতে হয়। সংরক্ষণ একক হিসেবে স্টিল ও কাঠের আলমারি, বড় স্টিলের বক্স, সুটকেস ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। উদ্দীপকে শায়লা পোশাকের যথাযথ যত্ন নেন। ফলে পোশাকের স্থায়িত্ব, সৌন্দর্য ও ব্যবহারোপযোগিতা বৃদ্ধি পায়। এতে কাপড়- চোপড় অনেক দিন টিকে এবং অর্থের সাশ্রয় হয়। শায়লা যেসব দ্রব্য ব্যবহার করে পোশাকের যত্ন নেন তা হলো-
১. তিনি কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে ন্যাপথলিন রেখে দেন। এছাড়াও তিনি শুকনো নিমপাতা, তামাক পাতা কাপড়ে জড়িয়ে রেখে দেন।
২. তিনি কাপড়গুলো আলমারি বা বক্সে রাখার আগে এতে কীটনাশক স্প্রে করে নেন।
৩. সংরক্ষিত কাপড়গুলো তিনি মাঝে মাঝে বের করে হালকা রোদে মেলে দেন। এতে কাপড়ের স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর হয়।
৪. তিনি কোট, প্যান্ট, জ্যাকেট ইত্যাদি কাপড়গুলো আলমারির ভেতর হ্যাঙারে ঝুলিয়ে রাখেন।
৫. তিনি লেপের কভার, বিছানার চাদর, কম্বল প্রভৃতির ভাঁজে ভাঁজে কালোজিরা, শুকনা চা পাতা কাপড়ের পুটলিতে বেঁধে রেখে দেন।
এভাবেই শায়লা তার পোশাকের যত্ন নেন।
পরিষ্কার ও পরিপাটি পোশাক দেহ ও মনের সুস্থতা বজায় রাখে- উক্তিটি যথার্থ।
নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। এজন্য মানুষ নিজেকে মনের মতো সাজায়। কোনো ব্যক্তির সাজসজ্জার পারিপাট্য বলতে ব্যক্তির দেহের সাথে মানানসই পোশাক-পরিচ্ছদ ও আনুষঙ্গিক প্রসাধন কার্যের মিলিত অবস্থাকে বোঝায়। শারীরিক সৌন্দর্য তখনই উদ্ভাবিত হয় যখন শরীর সুস্থ থাকে। সুস্থ দেহে সুস্থ মন থাকে। সুস্থ মনই শৈল্পিক ভাবে পরিপাটি থাকার তাগিদ সৃষ্টি করে।
পোশাকের মাধ্যমে সামগ্রিক সাজসজ্জায় পারিপাট্য সৃষ্টি করার একটা অন্যতম শর্ত হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। এলোমেলো চুল, ময়ালাযুক্ত বড় বড় নখ পোশাকের মাধ্যমে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে বাধা সৃষ্টি করে। পোশাকের পরিচ্ছন্নতার সাথে দেহের সুস্থতা ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। কারণ পোশাক মানুষের দেহের সাথে সংলগ্ন থাকে এবং পরিচ্ছন্নতাকে সংরক্ষণ করে। অপরিচ্ছন্ন পোশাক দৈহিক পরিচ্ছন্নতাকে বাধাপ্রাপ্ত করে। এই অপরিচ্ছন্ন পোশাক পারিপাট্যের অন্তরায়। এ জন্য দৈহিক পরিচ্ছন্নতাকে নিশ্চিত করার জন্য পোশাক-পরিচ্ছদের পরিচ্ছন্নতা অপরিহার্য। পোশাকের মাধ্যমে আবার ব্যক্তি তার মনের অন্তর্নিহিত অনুভূতিকে প্রকাশ করে। পুরানো পোশাক বদলিয়ে নতুন পোশাক পরলে মন প্রফুল্লতায় ভরে ওঠে। পোশাক পরিবেশের সাথে মানানসই হলে মনে কোনো সংশয় থাকে না। নিজেকে নিঃসংকোচে প্রকাশ করা যায়। আবার পরিবেশ অনুযায়ী পোশাক পরিধান না করলে মনে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়।
তাই বলা যায়, পরিষ্কার ও পারিপাট্য পোশাক দেহ ও মনের সুস্থতা বজায় রাখে।
Related Question
View Allকরেশম বস্ত্রের কাঠিন্য ঠিক করতে গঁদ অথবা এরারুটের তৈরি মাড় ব্যবহার করা হয়।
পোশাককে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তোলার জন্য রিফু করা হয়।
পোশাকের কোনো স্থানে খোঁচা লেগে ছিঁড়ে বা ফেঁসে গেলে, ছেঁড়া স্থানে পড়েন সুতা সূক্ষ্ম ও নিপুনভাবে সুঁচের সাহায্যে ভরে দেওয়াকে রিফু বলে। রিফু করে ছেঁড়া বা ফেঁসে যাওয়া পোশাকটি পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তোলা যায়।
নাইলন ও পলিয়েস্টার কৃত্রিম তন্তু বলে নষ্ট হয়নি। যেসব তত্ত্ব প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট নয়, মানুষ বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যাদির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে তৈরি করেছে সেগুলোকে কৃত্রিম তন্তু বলে। যেমন- নাইলন, পলিয়েস্টার ইত্যাদি।
রূপা কাপড় ধোয়ার সময় কমলা রঙের রেশমি কাপড়ের সাথে সাদা রঙের ব্লাউজ এবং পলিয়েস্টার, নাইলনের কিছু কাপড় একসাথে ধৌত করেন। ধোয়ার পর তিনি দেখলেন সাদা ব্লাউজটি সংকুচিত হয়ে গেছে। আবার কমলা রঙের রেশমি কাপড়ের রং উঠে গেছে। কিন্তু নাইলন, পলিয়েস্টারের কাপড়গুলো নষ্ট হয়নি। কারণ এগুলো কৃত্রিম তন্তুর কাপড়। এসব সিনথেটিক তন্তুর বস্ত্রাদি পানিতে ভিজিয়ে রাখলে সহজে নষ্ট হয় না এবং রংও উঠে না। রেশমি, পশমি বা সুতির কাপড় ধোয়ার সময় যেমন সাবধানতা বা নিয়ম মেনে পরিষ্কার করতে হয়, নাইলন ও পলিয়েস্টার কাপড় ধোয়ার জন্য তেমন প্রয়োজন হয় না। এই সমস্ত বস্ত্রাদি বেশি ময়লা হলে ইষদুষ্ণ সাবান পানিতে ভিজিয়ে রাখলে সহজে পরিষ্কার করা যায়।
সুতরাং, নাইলন ও পলিয়েস্টার কাপড়ের রং সহজে উঠে না এবং ইষদুষ্ণ পানিতে কুঞ্চন হয় না বিধায় রূপার কাপড়গুলো নষ্ট হয়নি।
রূপার রঙিন রেশমি বস্তুটি যথাযথ নিয়মে ধোয়াটাই যুক্তিযুক্ত ছিল- আমি এর সাথে একমত।
রেশমি কাপড় দুই ভাবে ধোয়া যায়; পানি দিয়ে এবং শুষ্ক পদ্ধতিতে যে পদ্ধতিতেই রেশমি কাপড় ধোয়া হোক না কেন তা যথাযথ বা উপযুক্ত নিয়মে করা উচিত। তাহলে কাপড়ের কোনো ক্ষতি হয় না।
রেশমি কাপড় বেশ দামি। এ কাপড়ে রং লেগে বা উঠে নষ্ট হয়ে গেলে তা পরার অযোগ্য হয়ে পড়ে। তাই রেশমি বস্ত্র ধোয়ার আগেই তার ময়লার ধরন, রং, আকার-আকৃতি ও আয়তন বিবেচনা করে ধোয়া উচিত। ধোয়ার সময় সাদা ও রঙিন রেশমি বস্ত্র আলাদা করে নিতে হয়। রূপা তার রেশমি বস্তুটি আলাদা করে মৃদু গরম পানি এবং কম ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে ধুতে পারতেন। যেহেতু তার রেশমি বস্তুটি থেকে রং উঠেছে, তাই ময়লা ও সাবান দূর করার পর ঠান্ডা পানিতে প্রতি গ্যালনে বড় এক চামচ লবণ ও সমপরিমাণ ভিনেগার মিশিয়ে নিতে পারতেন। এতে রেশমি বস্ত্রটির উজ্জ্বলতা বজায় থাকত।
অর্থাৎ, উপরিউক্ত নিয়মে রূপা তার রেশমি কাপড়টি ধৌত করলে তা ভালো থাকত।
আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অন্যতম শর্ত হচ্ছে সুস্বাস্থ্য।
পোশাকের পরিচ্ছন্নতার সাথে দেহের সুস্থতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
পোশাক মানুষের দেহের সাথে সংলগ্ন থাকে এবং পরিচ্ছন্নতাকে সংরক্ষণ করে। অপরিচ্ছন্ন পোশাক দৈহিক পরিচ্ছন্নতাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই দেহের পরিচ্ছন্নতার জন্য পোশাক-পরিচ্ছদের পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!