'স্কুল ফাঁকি দেওয়া কিন্তু খুব খারাপ'- কথাটি আইসক্রিমওয়ালা বলেছিল।
আরজুর অসুখের কথা বুঝলেও প্রতিকার করতে পারে না' বলে মা কাঁদে।
শিশুকালে বিশেষ অসুখের কারণে আরজু শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে। আরজুর অসুস্থতার বিষয়ে আরজুর মা অবগত হলেও সে তার প্রতিকার করার জন্য কিছু করতে পারে না। তাই সন্তানের অসুস্থতা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে মা কাঁদে। প্রশ্নোক্ত বাক্যে এ কথাই বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকের চিকিৎসকদের মনোভাব 'সেই ছেলেটি' নাটিকার লতিফ স্যারের চরিত্রকে সমর্থন করে।
'সেই ছেলেটি' নাটিকার আরজুর দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে কষ্ট হয়। তার পা অবশ হয়ে আসার ফলে বেশি দূর হাঁটতে পারে না। লতিফ স্যার আরজুর স্কুলে না আসার পিছনে যে সমস্যা রয়েছে সে বিষয়টি অনুধাবন করেন। তিনি আরজুর কাছে পৌছান এবং তার পায়ে যে সমস্যা আছে সেটা বুঝতে পারেন। সহপাঠীদের আরজুকে সহায়তা করতে বলেন। তিনি আরজুর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার বিষয়েও সহযোগিতামূলক আচরণ করেন।
উদ্দীপকের শিউলি আক্তার যার প্রতিবন্ধিত্ব নিয়ে পরিবারের খুবই দুশ্চিন্তা। সে চিকিৎসকদের সহযোগিতায় একসময় চলাফেরার ক্ষমতা অর্জন করে। বর্তমানে সে একজন সফল অ্যাথলেট। 'সেই ছেলেটি' নাটিকার বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন আরজুর প্রতি তার স্কুল শিক্ষক লতিফ স্যারও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের চিকিৎসকরা 'সেই ছেলেটি' নাটিকার লতিফ স্যার চরিত্রের সহযোগিতামূলক মনোভাবকেই সমর্থন করে।
সুচিকিৎসা, কঠোর মনোবল ও মা-বাবার প্রচেষ্টার অভাবে আরজু অদম্য ইচ্ছাশক্তির অধিকারী হতে পারেনি।
'সেই ছেলেটি' নাটিকায় কেন্দ্রীয় চরিত্র আরজু শারীরিক অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না। ছোটোবেলায় অসুখের কারণে তার পা চিকন হয়ে যায়। তার বাবা-মা সব জেনেও চিকিৎসায় খুব একটা গুরুত্ব দেয় না। বন্ধুরাও তাকে অবহেলা করে। কেউ তার সাহায্যে এগিয়ে আসে না।
উদ্দীপকের শিউলির প্রতিবন্ধকতা নিয়ে তার মা-বাবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তবে শিউলি থেমে থাকেনি। তার প্রবল চেষ্টা ও চিকিৎসকদের সহায়তায় সে আবার চলাফেরা করতে পারে। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে সে তার প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে। আজ সে বিশ্ব জয় করা অ্যাথলেট। বিশ্বের কাছে দেশের মুখও উজ্জ্বল করেছে প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে। কিন্তু সমাজ ও পরিবারের সাহায্য-সহযোগিতার অভাবে আরজু তার প্রতিবন্ধিত্বকে জয় করতে পারেনি।
'সেই ছেলেটি' নাটিকার আরজুর কিন্তু সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। তার পরিবার তাকে সেটা দিতে পারেনি। সে দিনের পর দিন অসহায়ভাবে পার করেছে। সমাজের মানুষ এবং সহপাঠীরাও তার প্রতি সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব দেখায়নি। সকল জায়গা থেকে অসহযোগিতা তার মনোবলকে ভেঙে দিয়েছে। ফলে সে উদ্দীপকের আরজু শিউলির মতো শারীরিক সমস্যাকে জয় করার অদম্য ইচ্ছা শক্তির অধিকারী হতে পারেনি কেননা শিউলি এবং আরজুর পারিপার্শ্বিক অবস্থান ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল।
Related Question
View Allমিঠু আরজুকে পলাশতলীর আমবাগানের কাছে বসে থাকতে দেখেছে।
স্কুল ফাঁকি দেওয়ায় পড়াশোনায় ভালো করতে পারেনি বলে আইসক্রিমওয়ালা আরজুকে স্কুল ফাঁকি দিতে নিষেধ করল।
ঠিকমতো পড়াশোনা না করলে এবং স্কুল ফাঁকি দিলে জীবনে বড়ো হওয়া যায় না। আইসক্রিমওয়ালা নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এটা বুঝতে পেরেছে। সে ভাবে, স্কুল আর পড়াশোনাতে ফাঁকি দেওয়াতেই তার এই দুর্ভাগ্য। তাই সে আরজুকে সাবধান করে দিয়ে স্কুল ফাঁকি দিতে নিষেধ করে।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের রওশন ও 'সেই ছেলেটি' নাটিকার আরজুর মাঝে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
'সেই ছেলেটি' নাটিকায় বর্ণিত আরজু শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত। ছোটোবেলায় হওয়া অসুখের কারণে তার পা সরু হয়ে যায়। বেশিক্ষণ হাঁটলে তার পা অবশ হয়ে আসে। এ কারণেই স্কুলে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে সে।
উদ্দীপকের রওশন প্রায়ই স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। এর কারণ তার স্নায়বিক সমস্যা। নিয়মিত স্কুলে এলে তার সমস্যা বেড়ে যায়। নাটিকার আরজুর মতোই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে স্কুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয় রওশন। একইভাবে নাটিকার আরজুও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জীবন কাটাচ্ছে। নিয়মিত স্কুলে আসা এবং পড়াশোনার ইচ্ছা থাকলেও রওশন ও আরজু তা পারে না। স্বাভাবিক জীবনের অধিকারী না হওয়াটাই তাদের মধ্যে সাদৃশ্য নির্দেশ করে।
আবিদ স্যার কারণ না জেনেই ছাত্রকে বকাঝকা করেছেন, যা লতিফ স্যারের তুলনায় একেবারেই অযৌক্তিক।
প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের সাথে সবসময় বন্ধুসুলভ আচরণ করা উচিত। তাদেরকে অবজ্ঞা না করে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে।
উদ্দীপকের আবিদ স্যার তার ছাত্র রওশনের স্কুল ফাঁকি দেওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান না করেই তাকে বকা দেন। আবিদ স্যারের বিচার কাজটি 'সেই ছেলেটি' নাটিকার লতিফ স্যারের আচরণ বিবেচনায়, যৌক্তিক বলা যায় না। কেননা নাটিকার আরজুর মতো উদ্দীপকের রওশনও পড়াশোনায় বেশ আগ্রহী। কিন্তু অসুস্থতা তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করেছে। ফলে সে নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে না। কিন্তু আবিদ স্যার এসব ঘটনা না জেনেই রওশনকে ক্লাসে বকা দেন।
প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের প্রতি বাবা-মা ও শিক্ষকদের মনোযোগী হয়ে হবে এবং তাদের প্রতি স্নেহশীল আচরণ করতে হবে। আলোচ্য নাটিকায় লতিফ স্যার অকারণে আরজুকে বকাঝকা না করে তার অনুপস্থিতির কারণ অনুসন্ধান করেছেন। সবকিছু জেনে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। পক্ষান্তরে উদ্দীপকের আবিদ স্যার রওশনকে ফাঁকিবাজ ছাত্র ভেবে বকা দেন। এক্ষেত্রে তিনি একজন দায়িত্বশীল শিক্ষকের মতো দায়িত্ব পালন করেননি, ছাত্রের সমস্যার প্রতি মনোযোগ দেননি। যা লতিফ স্যারের দায়িত্বশীলতার বিপরীত এবং একেবারেই অযৌক্তিক।
শালিক পাখি আরজুর সাথে কথা বলে না।
স্কুলে যাওয়ার পথে অসহায় আরজু কারো সাহায্য না পেয়ে মনের দুঃখে পাখির সাথে কথা বলতে চেয়েছিল।
পায়ের ব্যথায় অসহায় আরজু স্কুলে যাওয়ার জন্য কারো কাছে সাহায্য না পেয়ে আমবাগানে একাকী বসেছিল। তখন পাখির সাড়া পেয়ে পাখির কাছেই অনুরোধ করছিল তার ডানায় করে আরজুকে স্কুলে দিয়ে আসতে। এভাবে আরজু তার মনের দুঃখ প্রকাশ করতে পাখির সাথে কথা বলতে চেয়েছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
