প্রাচীন বাংলার প্রথম সার্বভৌম নরপতি শশাংক।
গোপাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত পাল বংশের দৃঢ়করণে ধর্মপালের ভূমিকা অনবদ্য। তার নেতৃত্বে দেশ সহসা শক্তিশালী হয়ে উত্তর ভারতে প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল। তাছাড়াও তার সময়েই ধর্ম, শিক্ষা, শিল্প, শাসনব্যবস্থা সকল দিক দিয়ে বাংলার উদীয়মান প্রতিভার বিকাশ ঘটে। এ জন্য তাকে পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা বলা হয়।
ছাত্রদের প্রস্তুতকৃত তালিকাটি রামপালের গৃহীত পদক্ষেপসমূহের সাথে আংশিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। রামপাল রাজ্যভার গ্রহণ করেই বরেন্দ্র উদ্ধার করতে সচেষ্ট হন। এ বিষয়ে রামপালকে সৈন্য, অস্ত্র আর অর্থ দিয়ে সাহায্যে এগিয়ে আসেন রাষ্ট্রকূট, মগধ, রাঢ় দেশসহ চৌদ্দটি অঞ্চলের রাজা। যুদ্ধে কৈবর্তরাজ ভীম পরাজিত ও নিহত হন। এরপর তিনি বর্তমান মালদহের কাছাকাছি রামাবতী নামে নতুন রাজধানী স্থাপন করেন। পরবর্তী পাল রাজাদের শাসনামলে রামাবতীই পাল সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল।
উদ্দীপকে ছাত্রদের তালিকায় পাল সাম্রাজ্যের গৌরব ফিরিয়ে আনতে রামপালের পদক্ষেপ সম্পর্কে বরেন্দ্র উদ্ধারে সচেষ্ট হওয়া, রামাবতী নামে নতুন রাজধানী স্থাপন, বিনামূল্যে প্রজাসাধারণের খাবারের ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করা হয়। উক্ত তালিকায় বরেন্দ্র উদ্ধার ও রামাবতী নামে রাজধানী স্থাপনের সাথে রামপালের পদক্ষেপের মিল থাকলেও প্রজাদের বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ করার তথ্যটির সাথে রামপালের পদক্ষেপের কোনো সাদৃশ্য নেই। তাই বলা যায়, তালিকাটি রামপালের পদক্ষেপের সাথে আংশিক সাদৃশ্যপূর্ণ।
সামঞ্জস্য থাকলেও ছাত্রদের তালিকায় রামপালের পদক্ষেপসমূহের অসম্পূর্ণতা প্রকাশ পায়- উক্তিটি যথার্থ।
দ্বিতীয় শূরপালের পর তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা রামপাল (১০৮২-১১২৪ খ্রিষ্টাব্দে) সিংহাসনে বসেন। তিনিই ছিলেন পাল বংশের সর্বশেষ সফল শাসক। প্রাচীন বাংলার কবি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত 'রামচরিত' হতে রামপালের জীবনকথা জানা যায়। রামপাল রাজ্যভার গ্রহণ করেই বরেন্দ্র উদ্ধার করেন এবং রামাবতী নামে নতুন রাজধানী স্থাপন করেন। পরবর্তী পাল রাজাদের শাসনামলে রামাবতীই সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। তিনি তার সম্রাজ্যের হারানো গৌরব পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পিতৃভূমি বরেন্দ্রে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর সাম্রাজ্যের হারানো গৌরব, ইতিহাস ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি মগধ, উড়িষ্যা ও কামরূপের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
কিন্তু উদ্দীপকে ছাত্রদের প্রস্তুতকৃত তালিকায় বরেন্দ্র উদ্ধার ও রামাবতী নামে নতুন রাজধানী স্থাপনের কথা উল্লেখ থাকলেও সাম্রাজ্যের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য মগধ, উড়িষ্যা ও কামরূপের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। তাই এদিক বিবেচনা করে বলা যায়, ছাত্রদের তালিকায় রামপালের পদক্ষেপসমূহ সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়নি।
Related Question
View Allখড়গ বংশের রাজধানীর নাম ছিল কর্মান্ত-বাসক।
সেনরা ব্রাহ্মণ থেকে পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় হওয়ায় তাদের ব্রহ্মক্ষত্রিয় বলা হয়। সেন বংশের লোকেরা প্রথমে ব্রাহ্মণ ছিল। কিন্তু কালক্রমে তারা পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় পেশা গ্রহণ করেন। ফলে কোনো কোনো ঐতিহাসিক তাদেরকে 'ব্রহ্মক্ষত্রিয়' বলেছেন।
উদ্দীপকে নবীনগরের শাসক অজয়ের কর্মকাণ্ডের সাথে সেন শাসক বিজয় সেনের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
বিজয় সেনের পূর্বপুরুষদের আদি বাসস্থান ছিল সুদূর দক্ষিণাত্যের কর্ণাট। সেখান থেকে তারা বসতি স্থাপন করেন রায় অঞ্চলের গঙ্গা নদীর তীরে। বরেন্দ্র উদ্ধারে রামপালকে সাহায্য করার বিনিময়ে বিজয় সেন স্বাধীনতার স্বীকৃতি পান। এরপর তিনি তার সামরিক কৃতিত্ব দ্বারা রাজ্যসীমা বৃদ্ধি করেন এবং হুগলির ত্রিবেণীতে অবস্থিত বিজয়পুরে প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। ধর্মের দিক থেকে বিজয় সেন ছিলেন শৈব। অন্য ধর্মের প্রতি তার কোনো সহিষ্ণুতা ছিল না।
উদ্দীপকের অজয় তার পরিবারের-সাথে পুরোনো বাসস্থান ছেড়ে নবীনগরে নতুনভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর এলাকার লোকজন ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হন। এ বিষয়গুলো বিজয় সেনের কর্মকাণ্ডের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিজয় সেনের বংশধরেরা শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন বলে আমি মনে করি।
বিজয় সেন বৈদিক ধর্মের প্রতি বেশ শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি হিন্দুধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। পরবর্তীতে তার পুত্র বল্লাল সেন অত্যন্ত সুপণ্ডিত ছিলেন। বিদ্যা ও বিদ্বানের প্রতি তার যথেষ্ট অনুরাগ ছিল। তার একটি বিরাট গ্রন্থালয় ছিল। তিনি 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি হিন্দুসমাজকে গঠন করার উদ্দেশ্যে- 'কৌলীন্য প্রথা' প্রবর্তন করেছিলেন। এর ফলে সামাজিক আচার-ব্যবহার, বিবাহ অনুষ্ঠান প্রভৃতি বিষয়ে কুলীন শ্রেণির লোকদিগকে কতকগুলো বিশেষ রীতিনীতি মেনে চলতে হতো। আর তার পুত্র লক্ষণ সেনও একজন সুপণ্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ 'অদ্ভুতসাগর' তিনিই সমাপ্ত করেন। ধোয়ী, শরণ, জয়দেব, গোবর্ধন, উমাপতিধর প্রভৃতি প্রসিদ্ধ কবিগণ তার রাজসভা অলঙ্কৃত করতেন। ভারত প্রসিদ্ধ পণ্ডিত হলায়ুধ তার প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মীয় প্রধান ছিলেন।
তাই বলা যায়, বিজয় সেনের বংশধরেরা যথার্থই শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে অবদান রেখেছেন।
পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন গোপাল।
শশাংকের মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে যে দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকারময় যুগের শুরু হয়েছিল তা মাৎস্যন্যায় হিসেবে অভিহিত। এ সময় বাংলায় কেন্দ্রীয় শাসন শক্ত হাতে ধরার মতো কেউ ছিলেন না। ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। ভূস্বামীরা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় একে অন্যের সাথে সংঘাতে মেতে ওঠে। এ সময়কালকে আখ্যায়িত করা হয়েছে 'মাৎস্যন্যায়' বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!